ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া উপজেলার শ্রীমতি খাল ও চন্দনাইশের শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও দারুণ খুশি। এ বছর শীত মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজি আগাম বাজারে আসায় ভালো দাম পাচ্ছে কৃষকরা।


ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া উপজেলার শ্রীমতি খাল ও চন্দনাইশের শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকায় শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরাও দারুণ খুশি। এ বছর শীত মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজি আগাম বাজারে আসায় ভালো দাম পাচ্ছে কৃষকরা।

পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলায় ২২ টি ইউনিয়নে শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে তার মধ্যে ফুলকপি ১২০ হেক্টর ,বাধাকপি ৬০, বেগুন ৮০ হেক্টর ,বরবটি ৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ৬৫ হেক্টর , বাটি শাক ৪ হেক্টর ,লাল শাক ৬ হেক্টর ,পুঁই শাক ১৬ হেক্টর , পালংশাক ৬ হেক্টর, লাউ ৩০ হেক্টর, টমেটো ৬০ হেক্টর,হলুদ ৪০হেক্টর,আদা ১২ হেক্টর,বাঙ্গি ৫ হেক্টর,তরমুজ ৫ হেক্টর,মুগ ডাল ১২ হেক্টর,মরিচ ২০০ হেক্টর,সরিষা ১২ হেক্টর, মিষ্ট আলু ১৫ হেক্টর,আলু ১৯০ হেক্টর. পেঁপে ১০ হেক্টর ।

তবে পটিয়া উপজেলার খরনা ,কচুয়াই ও ইউনিয়নের শ্রীমতি খালকে ঘিরে উপজেলার কৃষক শীতকালীন সবজির ব্যাপক চাষাবাদ করছে। সবচেয়ে বেশি সবজি উৎপাদন হয় উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের । ওই ইউনিয়নের বহু কৃষক শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এর মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলায় শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ফুলকপি ১৬০ হেক্টর ,বাধাকপি ১২০, বেগুন ১২৫ হেক্টর ,বরবটি ৮ ৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ১০০ হেক্টর , বাটি শাক ৩০০ হেক্টর ,লাল শাক ৭০ হেক্টর ,পুঁই শাক ৩০ হেক্টর , পালংশাক ৭০ হেক্টর, লাউ ৫০ হেক্টর,মুলা ২৪৫হেক্টর, টমেটো ২২০ হেক্টর,হলুদ ৩০হেক্টর,আদা ৩০ হেক্টর,বাঙ্গি ৫ হেক্টর,তরমুজ ৫ হেক্টর,মুগ ডাল ৫০ হেক্টর,মরিচ ৩১০ হেক্টর,সরিষা ২৫ হেক্টর, মিষ্ট আলু ৩০০ হেক্টর,আলু ৫০০ হেক্টর. পেঁপে ১৫ হেক্টর,তবে শঙ্খ তীরবর্তী দোহাজারী লালুটিয়া, দিয়াকুল, ধোপাছড়ি, বৈলতলী, জাফরাবাদ, বরমা ব্যাপক হারে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে।

আরো জানা যায়, প্রতিদিন সকালে পটিয়া উপজেলার কেলিশহর রমেশ বাবুর হাট ও দোহাজারী রেলস্টেশনসংলগ্ন কাঁচা বাজারে শীতের কুয়াশা ভেদ করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুখরতায় জমজমাট হয়ে উঠে শীতকালীন সবজির পাইকারী বাজার দোহাজারী রেলওয়ে মাঠ। সকাল গড়তেই শঙ্খের বুক জুড়ে নৌকা-সাম্পানে শাক-সবজি বহন করে আসতে থাকে শত শত চাষি।

পটিয়া ও চন্দনাশ উপজেলার একাদিক পাইকারী সবজি ব্যবসায়ী বলেন,পটিয়া উপজেলার কেলিশহর রমেশ বাবুর হাট ও চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী রেলস্টেশন বাজার থেকে মিনিট্রাক, বাস,টেম্পুসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চট্টগ্রাম,ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা যাচ্ছে দুই উপজেলার উৎপাদিত এসব সবজি। মিনিট্রাক ভাড়া চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৫০০-২৮০০ টাকা।
দোহাজারী থেকে নগরীতে আসতে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। ফলে পথে মধ্যে লাইন খরচসহ প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা অতিরিক্ত খরচ পড়ে যায়। সে জন্য পাইকারী ব্যবসায়ীদের প্রতিকেজি সবজি চট্টগ্রাম বিভিন্ন বাজারে ১০-১২ টাকা বেশি দামে বিক্রয়
করতে হয়।

পটিয়ায় কেলিশহর ইউনিয়নের সবজি চাষী সুবল দে বলেন, ৩০ শতকে জমিতে ফুলকপি চাষাবাদ করতে খরচ পরছে ৩০ হাজার টাকা। বিক্রয় করেছি ৫০হাজার টাকার । বর্তমানে জমিতে থাকা ফুলকপি আরো ১৫-২০ হাজার টাকা বিক্রয় করা যাবে ।

পটিয়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মর্কতা মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান ও চন্দনাইশ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মর্কতা তৌফিক হোসেন খান ভয়েস অব পটিয়াকে বলেন, চলতি বছর আবহাওওয়া অনুকূলে থাকায় দুই উপজেলায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। শ্রীমতি খাল ও শঙ্খ নদীর তীরবর্তী চরের মাটিগুলো সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাছাড়া এখানকার উৎপাদিত সবজি খেতে খুব সুস্বাদু বলে দেশে এই দুই উপজেলার সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সবজি চাষিদের সফলতা দেখে অনেকে অন্য পেশা ছেড়ে সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রতি বছর সবজি চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পটিয়া ও চন্দনাইশ উৎপাদিত সবজি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব হবে সরকারিভাবে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়

Like us on https://www.facebook.com/VoiceofPatiyaFans
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours

Note: Only a member of this blog may post a comment.