ভয়েস অব পটিয়া: ২০১৪-১৫ সেশনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে পটিয়া সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ ছাত্রসহ প্রায় ৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে।

ডিগ্রীর ভর্তি নিয়ে পটিয়া সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের হাতাহাতি; সাধারণ শিক্ষার্থীসহ আহত-৫

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্ক: ২০১৪-১৫ সেশনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে পটিয়া সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাধারণ ছাত্রসহ প্রায় ৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়েছে।

রোববার সকালে ১১টার সময় পটিয়া সরকারী কলেজের পূর্ব গেইটের কলেজ ক্যাম্পাসে সম্মুখে কলেজ ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি নাজমুল সাকের ছিদ্দিকী ও সেক্রেটারী কামাল উদ্দীনের গ্রুপের সাথে এ ঘটনাটি ঘটে। হাতাহাতির ঘটনা নিয়ে কলেজে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করলে পরে পুলিশ মোতায়ন করা হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা যায় যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী ২০১৪-১৫ সেশনের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রথম মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের ভর্তির তারিখ ছিল রোববার। এ নিয়ে রোববার সকালে থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে কলেজ প্রশাসন। ভর্তি চলাকালীন সময়ে পটিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি নাজমুল সাকের ছিদ্দিকীসহ তার কর্মী বাহিনী নিয়ে কলেজে প্রবেশ করে। এসময় একই গ্রুপের সেক্রেটারী কামাল উদ্দীন সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে ভর্তি কার্যক্রমে সাধারণ ছাত্রদের ভর্তি নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল সাকের ছিদ্দিকী ও সেক্রেটারী কামাল উদ্দীনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এতে মো ফয়সাল, মো. মায়মুন, মো. আনিস, মো হান্নান ও নয়ন শর্মা কিছুটা আঘাত প্রাপ্ত হয়। এসময় ভর্তি কার্যক্রম কিছু সময় স্থগিত থাকে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলে পুনরায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।

এ ব্যাপারে বিদ্রোহী গ্রুপের সেক্রেটারী কামাল উদ্দীন বলেন, ঘটনার সময় আমি কলেজে উপস্থিত ছিলাম না। তবে শুনেছি আমার গ্রুপের সভাপতি নাজমুল সাকের ছিদ্দিকীসহ তাদের গ্রুপের বহিরাগত নেতাকর্মীরা ডিগ্রী ভর্তি কার্যক্রম চলাকালিন সময়ে সাধারণ ছাত্রদের ধাক্কা দিয়ে কলেজের ক্যাম্পাসের বাইরে বের করে দেয়। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমার গ্রুপের নেতাকর্মীদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় কয়েকজন সাধারণ ছাত্রও আহত হয়। এব্যাপারে বিদ্রোহী গ্রুপের সভাপতি নাজমুল সাকের ছিদ্দিকী বলেন, আমরা সাধারণ ছাত্রদের ভর্তির বিষয়ে করনীয় কি কি তা তাদের দেখিয়ে দিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে আমার সেক্রেটারী(কামাল) সমর্থিত বহিরাগত কিছু ছাত্র এসে আমাদের সাথে হাতাহাতি শুরু করে দেয়। এসময় আমাদের কিছু ছাত্রলীগ নেতারা বহিরাগত ছাত্রদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। বহিরাগতরা ছাত্রলীগ সেজে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে তাই আমরা তাদের বের করে দিয়েছি।

এ প্রসঙ্গে পটিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এএনএম ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ডিগ্রী ভর্তি কার্যক্রমে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। ছাত্রদের দুগ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। পরে পুলিশ মোতায়ন করা হয়। পটিয়া থানার এসআই নাদিম মাহমুদ জানায়, ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিক পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ ঘোষিত কর্তৃক পটিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি পদে তারেকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক পদে সজিবুল ইসলাম জনির নাম ঘোষণা করা হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী সমর্থিত ছাত্রলীগের নেতারা নাজমুল সাকের ছিদ্দিকীকে সভাপতি ও কামাল উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে।

Like us on https://www.facebook.com/VoiceofPatiyaFans
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours

Note: Only a member of this blog may post a comment.