ভয়েস অব পটিয়াঃ পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নাধীন ঠেগরপুনি এলাকায় শ্রীমতি খালের উপর নির্মিত সেতুর ভাঙন। সংস্কার হয়নি ৯ বছরেও। দুর্ভোগে সাধারণ জনগণ।

পটিয়া ঠেগরপুনি-ছনহরা সংযোগ সেতুর ভাঙনঃ সংস্কার হয়নি ৯ বছরেও-দুর্ভোগে সাধারণ জনগণ


ভয়েস অব পটিয়া-দক্ষিণ পটিয়া প্রতিনিধিঃ পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নাধীন ঠেগরপুনি এলাকায় শ্রীমতি খালের উপর নির্মিত সেতুর ভাঙন। সংস্কার হয়নি ৯ বছরেও। দুর্ভোগে সাধারণ জনগণ।

জানা যায়, ২০০৮ সালে পাহাড়ি ঢলের কবলে ভেঙে পড়ে ঠেগরপুনি-ছনহরা সড়ককে সংযুক্তকারী সেতুটি ভেঙে পড়ে। গত ৯ বছরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি সেতুটি। যার ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে এই ইউনিয়নের ছয় গ্রামের বাসিন্দারা। ভাটিখাইন ঠেগরপুনি-ছনহরা-আশিয়া সড়কের ভাটিখাইন-ছনহরা সীমানার দিকে সেতুটির অবস্থান। 

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভাটিখাইন, ছনহরা ও আশিয়াসহ তিন ইউনিয়নের ছয় গ্রামের কৃষক, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ পটিয়া উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। সংস্কারের অভাবে সেতুটি ব্যবহার করতে না পারায় সবাইকে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পটিয়া পৌর সদরের ছন্দা সিনেমা এলাকা থেকে সড়কটির শুরু। উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ভিতরে গেলে ভাটিখাইন ঠেগরপুনি এলাকা। আর এ ঠেগরপুনি এলাকায় শ্রীমতি খালের ওপর বাঁশের সাঁকোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট। সেতু ব্যবহার করতে না পারায় সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে সাঁকো পার হচ্ছে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্কসহ গ্রামবাসীরা। 

স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে কথা বললে, ঠেগরপুনি গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, তাঁর মেয়ে পাশের ছনহরা টিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এই সাঁকো পার হয়ে মেয়েকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন তিনি এই ভেবে যে, সাঁকো পার হতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি শিশু খালে পড়ে যায়। ভাটিখাইন নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অর্পণ বড়ুয়া বলে, বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় সাঁকোতে উঠলে তা দুলতে থাকে। বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে সাঁকো নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে আমরা ভয়ের ভিতর থাকি। ছনহরা ইউনিয়নের উত্তর ছনহরা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবদুল গফুর (৬৫) বলেন, সাঁকো দিয়ে মাঠের ফসল নিয়ে বাড়িতে যাওয়া-আসার সময় কষ্টের সীমা থাকে না।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সাঁকোর জায়গায় পাকা সেতু নির্মাণের জন্য পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী নিজেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও সেতুটি হয়নি। ভাটিখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বখতেয়ার ভয়েস অব পটিয়াকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। পটিয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, পাকিস্তান আমলের জরাজীর্ণ সেতুটি ২০০৮ সালে পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যায়। সেখানে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

পটিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে থাকুন।
www.facebook.com/VoiceofPatiyaFans
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours

Note: Only a member of this blog may post a comment.