ভয়েস অব পটিয়ায় আপনাকে স্বাগতম | Welcome to Voice of Patiya
পটিয়ার মানচিত্র | Map of Patiya
পটিয়াকে জেলা চাই | Demanding Patiya as a District
শাহ আমানত সেতু | নতুন ব্রীজ | Shah Amanat Bridge
পটিয়া কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ | Patiya Central Cenotaph
ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে : রাষ্ট্রপতি; রাজনীতি; জাতীয় সংসদ; করোনা; সারাদেশ; Politics; Parliament; Corona; Covid19
ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে : রাষ্ট্রপতি

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। 

আজ রোববার জাতীয় সংসদে চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য একটি রোল মডেল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি সহকারে স্ব-স্ব ধর্ম চর্চা করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।” 

তিনি আরো বলেন, “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। এই সম্প্রীতি যাতে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে সেটিকে সকলের সজাগ ‍দৃষ্টি রাখতে হবে।” 

উল্লেখ্য, সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।  রোববার স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সাদর সম্ভাষণ জানান।

করোনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, “সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় আমরা এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস এবং এর অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছি।”

করোনাঃ ১৩ জানুয়ারী থেকে বিধিনিষেধ-মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক-আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন; করোনা; করোনা ভাইরাস; করোনা ভ্যাকসিন; কোভিড-১৯; Covid-19; Covid; Corona; Vaccine
করোনাঃ ১৩ জানুয়ারী থেকে বিধিনিষেধ-মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক-আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগামী ১৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। 

আজ সোমবার ১০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিধিনিষেধ সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এই রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৩ জানুয়ারি হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে নিম্নবর্ণিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলোঃ- 

১। দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যতায় রোধে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৩। রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে। 

৪। ১২ বছরের উর্ধ্বে সব ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫। স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহের ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধুমাত্র ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। 

৬। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।

৭। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

৮। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯। সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেবে।

১০। করোনায় আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। 

১১। কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন

রাত পোহালেই পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের নির্বাচন; ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন; নির্বাচন কমিশন; ইভিএম; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; Union; Election; Up Election; Election Commission; Local Government
রাত পোহালেই পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের নির্বাচন


ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ রাত পোহালেই পটিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন। ২৬ ডিসেম্বর ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের - শোভনদন্ডী, বড়লিয়া ও দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিনাভোটে চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। এসব ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদ সহ বাকি ১২টি ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে এবং ২টি ইউনিয়ন- হাবিলাসদ্বীপ, কুসুমপুরা ইউনিয়নে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

পটিয়ার ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, কোলাগাঁও, কাশিয়াইশ, আশিয়া, কুসুমপুরা, জিরি, জঙ্গলখাইন, বড়লিয়া, ধলঘাট, হাবিলাসদ্বীপ, হাইদগাঁও, কেলিশহর, কচুয়াই, খরনা, শোভনদন্ডী, ভাটিখাইন, ছনহরা এবং দক্ষিণ ভূর্ষি। 

ইউনিয়নগুলো ১৬০ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০০ টি কেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন ও পটিয়া উপজেলা প্রশাসন। যার মধ্যে কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, জঙ্গলখাইন, ছনহরা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, ধলঘাট, খরনা, জিরি, কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের ৫০টি ভোটকেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরাফাত আল হোসাইনী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচনের জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। নির্বাচন গ্রহণে যতটুক প্রস্তুতি দরকার তা আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি। নির্বাচনী সামগ্রীসহ ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। এলাকাগুলোতে ব্যালট পেপার বন্টন শুরু হয়েছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত-খুনের মত ঘটনা ঘটেছে। পটিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণে একটি ভোট উৎসব প্রত্যাশা করা হলেও এটি উৎসবের হবে, নাকি শঙ্কার?? তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি এক পক্ষের আরেক পক্ষের উপর হামলা-ভাঙচুরে ভোটের দিন অবাধ, সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থিত প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ ধরনের সহিংসতার জন্য একে অন্যকে দোষারোপ করেছে। তাছাড়াও আধিপত্য বিস্তার, বহিরাগত প্রবেশ ইত্যাদি নানা কারণে সংঘর্ষ-সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ভয়েস অব পটিয়া’কে বলে, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে। তবে ব্যালট পেপার যাবে ভোটগ্রহণের দিন ভোরে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ 

পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি কাজী ইয়াকুবের মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলী; অলি আহমদ; কর্ণেল অলি; এলডিপি; LDP; Colonel Oli; পটিয়া; চট্টগ্রাম; জেলা; Patiya; Chattogram; Chittagong
পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি কাজী ইয়াকুবের মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলী


ভয়েস অব পটিয়া-সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি মরহুম কাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পটিয়া এলডিপির নেতাকর্মীরা।

গত ০৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে সাবেক এ নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পটিয়া উপজেলা ও পটিয়া পৌরসভা এলডিপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে কচুয়াই ইউনিয়নাধীন মরহুমের কবরে কবর জিয়ারত, পুষ্পমাল্য অর্পন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভা এলডিপি নেতা নজরুল ইসলাম, আসিফ হুদা, শাহ আলম, পটিয়া উপজেলা এলডিপি নেতা খোরশেদ আলম, গণতান্ত্রিক যুবদল পটিয়া পৌরসভার সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান, গণতান্ত্রিক যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী, নাঈম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল নেতা তানিম, ইরফান, মিনহাজ, রবি প্রমুখ।

নেতাকর্মীরা মরহুম কাজী ইয়াকুবের দলের প্রতি অবদান ও তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় পটিয়া পৌরসভা এলডিপি নেতা আসিফ হুদা বলেন, ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য ডক্টর কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম এলডিপি প্রতিষ্ঠা করে যে রাজনীতির ধারার সূচনা করেছিলেন সেই রাজনীতিকে পটিয়ায় ধরে রাখতে কাজী ইয়াকুব এর অবদান অনস্বীকার্য।’
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়; BUET; Bangladesh Government; Chatrolig; Pro-gov party; ছাত্রলীগ; সন্ত্রাসী; রাজনীতি; ইসকন; ইস্কন সন্ত্রাসী; ISKCON
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

গত ‍দু’বছর আগে দায়ের করা এ মামলায় হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযুক্ত ২৫ আসামী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার এ রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, আসামীদের সবাই বুয়েট শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ২২ জনের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করে; যাদের মধ্যে বাকি ৩ জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ আসামীরা হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৫ আসামী হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)। পলাতক ৩ জন এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)। 
 
স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
পিটানোতে সরাসরি জড়িত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ। 
আবরার হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা

মামলার বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই তার প্রত্যাশা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, পুরো রায় দেখে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা। 

যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়
যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়

২০১৯ সালের ০৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ফেসবুকে দেশমাতৃকার পক্ষে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনা ঘটানোর সময় নিষ্ক্রিয় ছিল বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দায়িত্বে থাকা প্রভোস্টসহ সমগ্র বুয়েট প্রশাসন। সেই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। 

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়েছিল। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন জানিয়ে এ মামলার রায় পিছিয়ে ০৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক।
মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমোদন পেলো দেশে উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’; করোনা; করোনা ভাইরাস; করোনা ভ্যাকসিন; কোভিড-১৯; Covid-19; Covid; Corona; Vaccine
মানবদেহে ট্রায়ালের অনুমোদন পেলো দেশে উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ প্রাণীদেহে সফলভাবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হওয়ায় এবার দেশীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনার ভ্যাকসিন ‘বঙ্গভ্যাক্স’ মানবদেহে ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (বিএমআরসি)।

আজ মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) এ অনুমোদন দেয়া হয়।

সম্প্রতি বানরের দেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর ভ্যাকসিনটির কার্যকরীতার ফলাফল সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন বিএমআরসিতে জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক ফলাফলে এই ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার ১১টি ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকরী বলে দাবি করেছে ভ্যাকসিনটির উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

গ্লোব বায়োটেক জানায়, ‘বানর আর মানুষের মধ্যে জিনগত বেশ মিল থাকায় বানরের উপর ট্রায়ালে 'বঙ্গভ্যাক্স' সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং শতভাগ কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় আমরা খুবই আশাবাদী যে 'বঙ্গভ্যাক্স' মানবদেহেও অনুরুপভাবে কাজ করবে।’ 

চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারী বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নীতিগত ট্রায়ালের জন্য বিএমআরসির কাছে প্রটোকল জমা দেয় গ্লোব বায়োটেক। এরপর বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী ১৭ ফেব্রুয়ারী সংশোধিত প্রটোকল জমা দেওয়া হয়। গত ২২ জুন বিএমআরসি বানর বা শিম্পাঞ্জির দেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার শর্তে মানবদেহে বঙ্গভ্যাক্সের ট্রায়াল চালানোর অনুমতি প্রদান করে। ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি বানরের দেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করে, যা শেষ হয় ২১ অক্টোবর। 

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তালিকাভুক্ত বাংলাদেশী এ প্রতিষ্ঠানটির ৩টি ভ্যাকসিন ইঁদুরের উপর সফল পরীক্ষা চালানোর পর এই ভ্যাকসিনটি কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি করেছিলো গ্লোব বায়োটেক।

শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৫ম (শেষ) পর্ব

শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব | ৪র্থ পর্ব 

৫ম (শেষ) পর্ব

১৯. পটিয়াতে বালক বিদ্যালয় সরকারীকরণ বিষয় না জানলে কি করে হয়? 
১৯৭৯ সাল থেকে সমস্ত প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়ম মেনে দুটি স্কুল একীভূত করে এক নামে সরকারীকরণ করার জন্যে সরকারীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলো। ১৯৮২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে তৎকালীন পটিয়া মহকুমা প্রশাসক নাজমুল আলম ছিদ্দিকী সাহেবের সভাপতিত্বে, তাঁরই সরকারী অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ডিজি জনাব ড. হাফেজ আহমদ, ডিডি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন মিসেস আর.জে.আর ছালেহা খানম, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক জনাব মাহাবুবুল আলম, যাঁরা সকলেই প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী পদধারী ছিলেন।পটিয়ার বিখ্যাত এ দুটি স্কুল একসাথে “পটিয়া ইউনাইটেড আদর্শ আবদুস সোবহান রাহাত আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়” নামকরণ চুড়ান্ত করা হয়েছিলো এবং তা অনুমোদিত হয়েছিলো। ঐ দিন দুটি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ, প্রধান শিক্ষকগণসহ অন্যান্য শিক্ষকগণও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কি যেন জটিলতার কারণে প্রজাতান্ত্রিক ঐ সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিলো। 

অতঃপর উভয় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই স্কুলের প্রধান শিক্ষকগণ ১৯৯২ ইংরেজীতে শিক্ষা সচিব বরাবরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পূনঃ আবেদন পেশ করেন। তৎপ্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর ১৯৯২ ইংরেজী তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষা সচিব জনাব সফিউল আলম সাহেবের সভাপতিত্বে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ যোবাদুল হক, উপসচিব (মাধ্যমিক) জনাব মুহাম্মদ আবদুল জব্বার, শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক জনাব মুহাম্মদ আবু তাহের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব ডা. সৈয়দ আহমদ প্রমুখ কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। পটিয়া থেকে ঐ সভাতে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব হামিদুল হক, প্রধান শিক্ষক জনাব মুহাম্মদ মুসা এবং পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জনাব আমীন খাঁন উপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ০২ মে ১৯৯৩ ইং তারিখে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয়কে নির্দেশমূলক চিঠি প্রেরণ করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য (ঐ সময়ে চট্টগ্রামের স্কুলগুলিও কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে ছিলো)। বিএনপি সরকার আমলে আবারো ঐ সিদ্ধান্ত আটকে থাকলো। 

বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ২০১৫ সালে পূনঃ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে যে প্রত্যেক উপজেলা সদরের একটি বালক স্কুল সরকারীকরণ করা হবে। পটিয়ার সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা করে পটিয়াতে আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে পটিয়ার সকল রাজনৈতিক দলসমূহের মূল নেতৃবর্গ, বুদ্ধিজীবিগণ, সাংবাদিকগণ, শিক্ষকগণ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জড়ো করে ২৫ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে পটিয়া ক্লাব হলে ১টি, ২৮ আগস্ট ২০১৫ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে ১টি এবং ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং পটিয়া পৌরসভা হলরুমে ১টি সভার আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করি। শেষ ২টি সভাতে এমপি মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব, মেয়র সাহেব, ইউএনও মহোদয়া (শেষ সভাতে), উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানগণসহ সকল পর্যায়ের ব্যক্তিত্বগণ উপস্থিত ছিলেন। শেষ সভাটি মেয়র মহোদয়ের নামে চিঠি ইস্যু করা হয়েছিলো। পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য ছিলো পটিয়ার ২টি বিখ্যাত স্কুল একীভূত করে সরকারীকরণের ১৯৮২ সালের সরকারী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ১৯৯৩ সালের সর্বশেষ আত্মীকরণের নির্দেশ পটিয়ার মাননীয় এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে কার্যকর করা। এটা সম্ভব ছিলো, সুযোগও ছিলো কিন্তু পারা গেলো না। কিন্তু কেনো পারা গেলো না, ইতিহাস ঠিক সময়ে তাও বলে দেবে। আজকের বাস্তবতায় আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শত বছরের সফলতা ও ইতিহাসের সাক্ষ্য ও তথ্য নিয়ে, এই বিদ্যালয়টিকে সরকারীকরণ করবার সকল ধরণের আয়োজন, উপকরণ ও উপযোগিতা কানায় কানায় পূর্ণ আছে। প্রয়োজন শুধু বাস্তবায়নের উদযোগ আর প্রচেষ্টা। বিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা, শিক্ষকসংখ্যা ও কর্মচারীসংখ্যা ঠিক রেখে প্রয়োজনে পরবর্তীতে ডাবল শিফটের ব্যবস্থা রেখে যদি সরকারীকরণের ব্যবস্থা নেয়া যায়, তাহলে প্রতিবছর শত শত ছেলে পটিয়াতে সরকারী বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে। পটিয়াতে বালক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবী ও প্রত্যাশা আজ কোন ব্যক্তির বা শুধু পটিয়াবাসীর নয়, বরং ইতিহাসের ও সত্যের। 

২০. স্কুল প্রতিষ্ঠার শত বছরের ইতিহাস স্মরণের অনুষ্ঠান। ২০১৬ সালের ১৮ মার্চ শুক্রবার বিদ্যালয়ের শত বছর পূর্তির উৎসব ও মহামিলন মেলা আয়োজনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণ বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে তাঁদের সপরিবার সদস্যগণসহ বিদ্যালয় জীবনের বন্ধুদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। শত বছর পূর্তির এই উৎসব আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল আলহাজ্ব মোহাম্মদ ছোলায়মান চেয়ারম্যান, ড. রফিকুল আলম সদস্য সচিব, পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ-কে প্রধান সমন্বয়কারী এবং বিদ্যালয়ের অপরাপর প্রাক্তন ছাত্রগণকে বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়ে গঠিত উদযাপন পরিষদে উদ্যোগে। বাস্তবতা ছিল এই যে, সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ‘আদা জল খেয়ে’ না নামলে, আলহাজ্ব ছোলায়মান সাহেবের নিয়মিত তাগাদা না থাকলে এবং বর্তমান মেয়র আইয়ুব বাবুল ঐ সময়ে মাননীয় মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সাহেবকে আনার দায়িত্ব না নিলে এ আয়োজন অসম্ভব হতো। তবে শতবর্ষ উদযাপনের সার্বিক আয়োজন সফল করতে বেশ কয়েকজনের ভূমিকা বিশেষ করে কবিয়াল আবু ইউসুপ, এস.এম.এ.কে জাহাঙ্গীর, এ.টি.এম নাছির উদ্দিন, আবুল কালাম বাবুল, আইয়ুব বাবুল, ফৌজুল করিম, গোফরান রানা, আলী হেসেন, মোর্শেদ নিজামী, ডা. ওয়াহিদ হাসান, ডা. সাখাওয়াৎ হিরু, ডা. আইয়ুব নবী, এডভোকেট মাহউদ্দিন, সাহাবুদ্দিন সাবু, আবুল কাশেম, শহীদুল্লাহ সাদা, মোঃ লিয়াকত, সাঈদ খোকন, মোঃ রিয়াজ সহ আরো কতেকের প্রতিদিনকার কর্ম তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল। ২২ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠানের দিন রাত বারোটা পর্যন্ত আমি কোনো পদে না থেকেও প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত শতবর্ষ উদযাপন কমিটির অফিস ডিউটি করার কাজটি দ্বিধাহীনভাবে করার চেষ্টা করেছি। তবে, কোনো ধরনের আর্থিক দায়িত্ব পালন কিংবা অর্থ গ্রহণে আমার ভূমিকা নেই। বরং স্মারকগ্রন্থের বেশীরভাগ লেখাগুলোর কয়েকবার করে প্রিন্ট নেয়ার ব্যয় বহন আমার নিজ থেকে করতে হয়েছে। শতবর্ষের অনুষ্ঠানের দিন সবচেয়ে বড়ো স্মৃতিময় ডক্যুমেন্ট বা ‘স্যুভেনির’ হওয়ার কথা ছিলো, “স্মারকগ্রন্থটি”। এজন্যে, জনাব প্রফেসর আবদুল আলীম সাহেবকে আহ্বায়ক ও আলহাজ্ব আবদুর রহমান স্যার, বি.কম মুছা স্যার, স.ম ইউনুচ, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, এস.কে.এম জাহাঙ্গীর, শহীদুল্লাহ সাদা গণকে সদস্য করে স্মারকগ্রন্থের লেখা সম্পাদনা ও বাছাই করার জন্য একটি পরিষদ গঠন করা হয়েছিলো। উক্ত লেখা বাছাই ও সম্পাদনা পরিষদ যথাযথভাবে স্মারকগ্রন্থের যাবতীয় কাজ শতবর্ষ অনুষ্ঠানের আগেই সম্পন্ন করেছিলো। কিন্তু অনুষ্টানের দুইদিন আগে হটাৎ আমাকে প্রথমে শহীদুল্লাহ সাদা এরপর সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বললেন যে, অনুষ্ঠানের দিন স্মারকগ্রন্থটি দেয়া যাবে না। দেয়া যাবে না কেনো, তা অনেক পরে জানলেও সেটা বলার সময় সুযোগ হয়ে উঠেনি। তবে, ঠিক সময়ে স্মারকগ্রন্থটি ইচ্ছা করে প্রকাশ না করায় শতবর্ষ উদযাপন পরিষদ ও সম্পাদনা পরিষদের যাবতীয় সিদ্ধান্ত, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার প্রতি অবমাননা, অসম্মান ও অবহেলা করা হলো যে কারণে, তা হলো আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা আদায়ের জন্যে ‘নয় ছয়’ বলে অনেকে মনে করেছেন এবং বলেছেন। 
দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যগণসহ সর্বমোট ২৫০০ জন প্রাক্তন ছাত্র শেষপর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হয়েছিলেন, তাদের দেওয়া চাঁদা, স্মারকগ্রন্থের বিজ্ঞাপণ, অনুদান ও অন্যান্য খাত থেকে কি পরিমাণ অর্থ আয় হয়েছিলো ও ব্যয় হয়েছিলো তা উদযাপন পরিষদের সভা আহ্বানের মাধ্যমে ঘোষণা করা না হওয়াতে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাওয়ার মতো হয়েছে। 

২১. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ আয়োজনের অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হলেও অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছে এবং এখনো আছে। যেমন, অনুষ্ঠানে খাবার বন্টনে বিশৃংখলা, মঞ্চে একই নেতৃবর্গ বার বার আসন দখল করা, মঞ্চে বক্তাগণের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিবেশন করা, জোর করে মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেয়া, সঞ্চালক সঞ্চালনার কাজ ঠিকমতো না করা ইত্যাদি। তবে, অনুষ্ঠানের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রাক্তন ছাত্রগণ তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ ইয়ারমেট বন্ধুদেরকে নিয়ে আনন্দে মেতে ছিলেন সবাই, একেবারে অনাবিল চিত্তে। শতবর্ষের অনুষ্ঠানের দিন ইতিহাস হিসেবে স্মারকগ্রন্থটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রকাশ না করা ছিলো পরিষদের চরম ব্যর্থতা। শতবর্ষ অনুষ্ঠানের প্রায় এক বছর পর অন্য আরেকটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করা হলেও, অত্যন্ত নিন্মমানের সম্পাদনা, বাজে বাইন্ডিং, ৬০ জন রেজিস্টার্ড প্রাক্তন ছাত্রগণের ছবি না ছাপানো, শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে নাম না থাকাদের নাম ঢুকানো এবং অনেকের নাম বাদ দেওয়া, সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু জাফর চৌধুরী সাহেবের মতো বিখ্যাত মানুষদেরসহ অনেকের নাম ঠিকানা ভুল ছাপানোর মতো ঘটনাগুলো ছিলো স্কুলের নামের উপর কালিমা লেপন। গ্রন্থটির সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নামে যে ছবিসহ বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, একই সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব উভয়ের নিজ নাম ও ঐ ছবি নিজস্ব ব্যবসায়িক পণ্যের বিজ্ঞাপনে ছাপানোর কারণে শতবর্ষের ইতিহাসখ্যাত বিদ্যালয়ের মর্যাদা এবং শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের গৌরব যথেষ্ট ক্ষুন্ন হয়েছে বলে প্রাক্তন ছাত্ররা মনে করেছেন। সম্পাদনা পরিষদ ও লেখা বাছাই কমিটির সিদ্ধান্ত ছিলো, প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে বদিউল আলমের ছবিসহ বক্তব্য স্মারকগ্রন্থের প্রথমদিকে সদস্য সচিবের পরে থাকবে এবং সম্পাদক হিসাবে থাকবে এস.কে.এম জাহাঙ্গীর। সব পাল্টে দেয়া হয়। তবে, স্মারকগ্রন্থটিতে সকলের মোবাইল নাম্বার প্রকাশিত হওয়াতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রগণ পরস্পর যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়েছে। শতবর্ষ অনুষ্ঠানের জন্য সংগ্রহ করা অর্থের হিসাব, শতবর্ষ অনুষ্ঠানের কার্যক্রমের ভুল ত্রুটি বা সফলতা, স্মারকগ্রন্থ কেনো অনুষ্ঠানের দিন প্রকাশ করা হলো না, স্মারকগ্রন্থ একবছর পরে কেনো প্রকাশ করা হলো, গ্রন্থের অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে মূল্যায়ন, সভা আহ্বানের দায়িত্ব প্রধানত সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ সাহেবের উপর থাকলেও, তিনি তা করতে না পারায় কুমন্তব্যও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে, অধ্যাপক হারুন সাহেব যাবতীয় অর্থ জমা দিয়েছিলেন মেরিট কম্পিউটারের শহীদুল্লাহ সাদার হাতে, যা ছিলো আমার ব্যক্তিগত মতামতে মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। এতো বড় বিশাল অংকের অর্থ লেনদেনের জন্যে কোনো অর্থ সম্পাদক পদে কেউ না থাকা ছিলো চরম ঘাটতি। নিয়মমতে, অর্থের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া উচিৎ ছিলো ঐ সময়ের প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জনাব ছগীর মুহাম্মদ সাহেবকে। কেনো, সেটার বিশদ ব্যাখ্যা আছে এবং কারণও আছে। 

২২. পরিশেষে একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি, “বিভিন্ন ধরনের স্বাধীনতার মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতাটি হচ্ছে শিক্ষক ও ছাত্রদেরসহ অনেকের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেবল এই স্বাধীনতার ক্ষেত্রেই কোন সীমা থাকার দরকার নেই। শিক্ষার কাজ হবে আমাদেরকে সত্যের যত কাছাকাছি সম্ভব নিয়ে যাওয়া যায়। এ উদ্দেশ্যে সত্যবাদিতা শেখাতে হবে।” উক্তিটি মনিষী বার্ট্রান্ড রাসেলের ‘শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতা’ নামক প্রবন্ধ থেকে। 

পূনশ্চঃ অনিচ্ছা সত্বেও বিদ্যালয়ের অনেক প্রয়োজনীয় ইতিহাস আপাততঃ সংক্ষেপ করতে গিয়ে, আর কিছু অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করায় ভুল বুঝার অবকাশ থাকতে পারে। যত কষ্টদায়ক ও দুঃখজনকই হোক না কেন, সে দায় ও জবাবদিহিতা লেখকের। লেখাটিতে, আগের লেখার তুলনায় অনেক কিছু তথ্য বাড়তি সংযোজন করা হয়েছে। আর এই লেখাটি স্মারকগ্রন্থ সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক বাছাইকৃত ও নির্ধারিত হওয়ার পর এবং স্মারকগ্রন্থের সম্পূর্ণ ছাপানো ও বাধাই হয়ে যাওয়ার পর, এক বছর পরে প্রকাশের সময়ে বাদ দেওয়া হয়েছিলো জেনেটিক্ হীনমন্য চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে; যেভাবে বাদ দেয়া হয়েছিল বাছাইকৃত ও নির্ধারিত সম্পাদকীয় লেখাটি এবং সম্পাদক হিসেবে এস.কে.এম জাহাঙ্গীরের নাম। অন্যের প্রতি কষ্ট, শ্রম, যোগ্যতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতো ব্যক্তিরা এবং যোগ্যরা দায়িত্ব পালন করলে এমনটা হওয়ার কথা নয়। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে সময় ও সুযোগে সব কিছু ভিতর বাহির প্রকাশ করা হবে, যেটা নব প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনও বটে।

========সমাপ্ত======== 

• তথ্যসূত্রঃ 
১। স্কুল রেকর্ড
২। ভারতবর্ষের ইতিহাসঃ কোলকাতা সংস্করণ
৩। চট্টগ্রামের ইতিহাসঃ পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী
৪। রদ্দুরঃ সাময়িকী
৫। বয়োজ্যেষ্ঠ প্রাক্তন ছাত্রগণের সাক্ষাৎকার।

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৫ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 

রূপপুরে দেশের ১ম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি স্থাপন; পারমাণবিক; আণবিক; বিদ্যুৎকেন্দ্র; Nuclear; Nuclear Power; Energy
রূপপুরে দেশের ১ম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি স্থাপন

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ পাবনা জেলার রূপপুরে নির্মানাধীন বাংলাদেশের ১ম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের 'রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল' বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ রোববার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার পরমাণু শক্তি কমিশন-রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ। 
পরমাণু বিজ্ঞানীরা রিএ্যাক্টর প্রেসার ভেসেলকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের 'হার্ট বা হৃৎপিণ্ড' বলে থাকেন। 

রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের আগে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে রূপপুর প্রকল্পের বাংলাদেশী ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। 
প্রকল্প পরিচালক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. মোঃ শৌকত আকবর বলেন, ‘ইউনিট-১ এর ভৌত কাঠামোর ভেতরে রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের পারমাণবিক যন্ত্রাংশ স্থাপন সম্পন্ন হলো। এর ফলে এই ইউনিটের রিয়াক্টর ভবনের ভেতরের কাজ প্রায় শেষ হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে এ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৷’
 
এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, ‘রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের এই ঘটনা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর ফলে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়েই এগিয়ে যাবে।’

উল্লেখ্য, রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প। 

১ম চুল্লি স্থাপনের আগে রাশিয়ান পরমাণু শক্তি কমিশন-রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচেভ এআরবিকে বলেন, ‘বিজ্ঞান প্রযুক্তি নিয়ে বছরের পর বছর রাশিয়া যে উৎকর্ষ অর্জন করেছে, সেই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান আজ রূপপুরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু ব্যবস্থাপনা রূপপুর প্রকল্পকে করেছে সবচেয়ে নিরাপদ।’ 

রূপপুরের এই পারমাণবিক চুল্লি নির্মিত হয়েছে রাশিয়ায়। ভিভিআর-১২০০ মডেলের এই রিয়্যাক্টরে পরমাণু জ্বালানি পুড়িয়ে মূল শক্তি উৎপাদন হবে এবং দুটি ইউনিটে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে ধারণা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। 
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে একক প্রকল্প হিসেবে এটি সবচেয়ে বড় কোনো অবকাঠামো প্রকল্প। 

তবে এ প্রকল্প নিয়ে রয়েছে ভীতি ও উদ্বেগ!

জলবায়ু পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে বর্তমানে বিশ্বে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপরে যে জোর দেয়া হচ্ছে পারমাণবিক শক্তি তার অন্যতম একটি উৎস। তবে এইসব পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লির নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যায়। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনার ব্যাপারে একটা ভীতি সবসময় কাজ করে অনেকের মধ্যেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ভয়ের প্রবণতা আছে বিশ্বব্যাপী। আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থার সাবেক একজন বিজ্ঞানী ড. শহীদ হোসেন বলেন, "ভয়টা কমেনি। ভয়টা অনেক সময় না জানার কারণেও হয়। যারা এসব কেন্দ্রের কাছে থাকে, তাদের মধ্যে ভয় কম কিন্তু দূরে যারা থাকে- দেখা যায় তাদের ভয় বেশি। আর যেহেতু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়েক স্তরে নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়, এ কারণেও অনেকে চিন্তা করেন নিরাপদ যদি হবে, তাহলে এত নিরাপত্তা বলয় কীসের জন্য?" "এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অনেক মতবাদ আছে যেমন- রিয়্যাক্টরকে কখনোই বিশ্বাস করা যাবে না। এসব কারণেও ভীতি কমেনি।" 

উল্লেখ্য, সর্বশেষ জাপানের ফুকুশিমা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনাসহ বিশ্বে এ পর্যন্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব থাকে বলেই বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে রয়েছে ভয় আর আতঙ্ক। তবে ফুকুশিমায় দুর্ঘটনার পর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঝুঁকি কমাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। 
রাশিয়ার ভিভিআর ১২০০ মডেলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুর্ঘটনা রোধে ৫টি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, "আমরা এখানে কো-ক্যাচার নামে একটি বাড়তি জিনিস লাগিয়েছি যেটা ফুকুশিমার ঘটনার পর আবিস্কৃত হয়ে অলরেডি চালু হয়ে গেছে। নতুন যে প্ল্যান্ট হয়েছে দুটোতে এই ব্যবস্থা লাগানো হয়েছে আমাদেরটি তৃতীয়।" 
কো-ক্যাচার ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, "কো-ক্যাচার বসানো হয়েছে খোদা না চায় যদি ওরকম কোন ঘটনা ঘটেও তাহলে পুরো দূষিত জিনিসটা গলে নিচে পড়ে যাবে। একটা কুয়ার মতো যেটার মধ্যে পড়ে ওটা সিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবে না এবং এটার স্লোগানই হলো ‘Make More Safe, More Safe & More Safe’ এবং আমরাতো একেবারে লেটেস্ট প্রযুক্তিটাই নিচ্ছি।"


শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৪র্থ পর্ব
শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব | ২য় পর্ব | ৩য় পর্ব  

৪র্থ পর্ব

১৪. রাজনীতি দ্বারা যেহেতু দেশ ও সরকার চলে, তাই আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাঁরা সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়ভাবে এবং জাতীয়ভাবে রাজনৈতিক দলসমূহের মূল দায়িত্বে থেকে দেশের মানুষের সেবা করছেন বলে বিশ্বাস করেন, সর্বজনাব আহমদ নুর, আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, শামশুল আলম মাস্টার, শামশুদ্দিন আহমদ, স.ম. ইউনুচ (লেখক), মুহাম্মদ নুরুল হুদা, আইয়ুব বাবুল, অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, এ.টি.এম মুহিবুল্লাহ চৌধুরী (মরহুম), এডভোকেট রফিকুল ইসলাম (মরহুম), কবিয়াল আবু ইউছুপ, নুরুল ইসলাম সওদাগর, কাজী এয়াকুব (মরহুম), সেলিম উদ্দিন, মুকিবুল ইসলাম ফারুক, মুহাম্মদ বদিউল আলম, আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী, অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, মুহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ আলী হেসেন, রেজাউল করিম রিজু (মরহুম) সহ আরো অনেকেই রাজনৈতিক মূলদল ও সহযোগী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। 
বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি অভিজ্ঞ ও যোগ্যতম অংশ প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরে মূল নেতৃত্বে আসার পরবর্তী পর্যায়ে অবস্থান করছেন। মূল নেতৃত্বে এসে তাঁরাও ইতিহাসের অংশ হবেন। 

১৫. ** স্বাধীনতা মুক্তিসংগ্রামে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যাঁদের নাম খুজে পাওয়া যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামশুল আলম (বাহুলী) প্রথম পটিয়ায় মেট্রিক পরীক্ষা সেন্টারে বোমা ফাটিয়ে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সূচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিচালিত সরকারের সময়ে বিমান বাহিনীতে চাকুরীকালীন অবস্থায় তিনি নিহত হলে তাঁর লাশটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

বিদ্যালয়েরই সাবেক ছাত্র জনাব শামশুদ্দিন আহমদ মুক্তিযুদ্ধে বিশাল ভূমিকা রাখেন। এডভোকেট আবু ছৈয়দ সাহেব মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। বিদ্যালয়ের ছাত্র যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাদের মধ্যে সর্বজনাব সাবেক মেয়র শামশুল আলম মাস্টার, মরহুম শামশুল আলম চেয়ারম্যান (হাইদগাঁও), নুর মোহাম্মদ বিএসসি (ঐ), খায়ের আহমদ (ঐ), মোঃ মহিউদ্দিন চেয়ারম্যান (ঐ), আবু ছিদ্দিক (ঐ), মোস্তাফিজুর রহমান (উঃ গোবিন্দারখীল), আমির হোসেন (মল্ল পাড়া), ইঞ্জিনিয়ার আবুল কাশেম (গোবিন্দারখীল), মহিবুর রহমান (ঐ), আবুল কাশেম (ঐ), আবু তৈয়ব (ঐ), আহমদ ছফা চৌধুরী (হাবিবুর পাড়া) - আরো যাঁরা ছিলেন তাঁদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য না পাওয়াতে নামগুলি যুক্ত করতে না পারার কষ্ট থেকে গেলো। 

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ব্যাপারে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে, এই নিবন্ধ কোন সনদের প্রমাণপত্র নয়। আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমি যাঁদের নাম খুঁজে পেয়েছি, তাঁদের নামগুলোই যুক্ত করেছি । 

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১ টায় ১ম বার এবং দুপুর ১টায় ২য় বার পটিয়াতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী জঙ্গী বিমানের মাধ্যমে পটিয়া থানার মোড়ে, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে, পিটিআই - এ বোমাবর্ষণ করলে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন এবং তখনকার উত্তর পাশের ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। ঐদিনের বোমাবর্ষণে হাইদগাঁও গ্রামের ডা. সৈয়দ আহমদ, গোবিন্দারখীলের ফয়েজুর রহমান, ঈদুল মল্ল পাড়ার আমির আলী, হাবিবুর পাড়ার উম্মুল আলী, পোস্ট অফিস আধুরো বাড়ীর আবুল খায়ের, আল্লাই কাগজী পাড়ার আমিনুল হক, দক্ষিণ ভূর্ষির বিজয় দে, কাজী পাড়ার আলী আকবর, পশ্চিম গোবিন্দারখীলের নাছিমা খাতুন, কেলিশহরের দানু মিয়া,পশ্চিম গোবিন্দারখীলের ছৈয়দুল হক, রিক্শাচালক দুধু মিয়া সহ ২০ জন ব্যক্তি শহীদ হন বলে জানা যায়। 

১৬. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ক্যাজুয়ালসহ ৩২ জন শিক্ষক মহৎ শিক্ষাদানের কাজে, ২ জন অফিস সহকারী, ১ জন গবেষণা সহকারী, ৩ জন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আর বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রসংখ্যা প্রায় ১৮০০ জন। বিদ্যালয়ের গৌরবজনক ইতিহাস হচ্ছে ১৯৪৭ সালে দপ্তরী হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে জনাব গোলাপুর রহমান ১৩ নভেম্বর ১৯৯২ ইং তারিখে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের জন্য নিরলস সেবা দিয়ে গিয়েছেন। জানা যায় যে, মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব বেনী মাধবকে (দপ্তরী) নিজে নিয়োগ দিয়েছিলেন। হাইদগাঁও নিবাসী বেনী মাধব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিরলসভাবে প্রায় ৬০ বছর বিদ্যালয়ের সেবা দিয়ে মৌলানা সাহেবের সন্মান রক্ষা করে গিয়েছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের মধ্যে বাবু দেবেন্দ্র ধর (দেবেন্দ্র স্যার) স্বদেশী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায় এবং বিদ্যালয়ের একটি বড় পাঠাগার গড়ে তোলায় তাঁর একনিষ্ঠ ভুমিকা ছিলো। বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে এবং অপরাপর পদে থেকে যাঁরা দায়িত্ব পালন করে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া শিখতে অবদান রেখেছিলেন তাঁদের সবার নাম ঠিকানাসহ তথ্য তুলে ধরতে পারলে অনুকরণীয় হতো। সময় ও সুযোগ না থাকায় সম্ভব হলো না। 

১৭. নৈসর্গিক ও অবকাঠামোগত অবস্থা কেমন তা জানা যেতে পারে। আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিশাল তোরণ দিয়ে ভিতরে ঢুকলেই নাক সোজা সামনে দ্বিতল শ্রেণীকক্ষসহ বিজ্ঞান ভবন, ডানে-বামে দুটি ছোট মাঠ, বামদিকের মাঠের দক্ষিণে দ্বিতল শ্রেণীভবন। ডানদিকের মাঠের উত্তরে নতুন চারতলা ভবনে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষসহ শিক্ষক কক্ষ ও শ্রেণীভবন। সামনে এগিয়ে গেলে পিছনে পড়বে দ্বিতল শ্রেণীভবন। সামনে-বামে বিশাল বিদ্যালয় হলঘর। ঘুরে বিজ্ঞান ভবনের পিছনের দিকে গেলে বিদ্যালয় খেলার মাঠ, খেলার মাঠের উত্তর দিকে দ্বিতল শ্রেণীভবন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পুকুরের পাড়ে শুয়ে আছেন পটিয়ায় শিক্ষা প্রসারের অগ্রদূত ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব। মৌলনা সাহেবের পাশে তাঁর স্ত্রীর কবরটিও রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন, অফিস ভবন ও পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনের সামনে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার যা বিদ্যালয়ের ১৯৯১ ব্যাচের ছাত্রগণ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে এবং অর্থে নির্মাণ করে দেন, বিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে। স্কুলের সামনে আরাকান সড়কের পাশ ধরে মূল ফটকের দুই ধারে দ্বিতল ভবনের সবগুলি দোকানসমূহ স্কুল মালিকানাধীন ছিলো। বর্তমানে গেইটের দক্ষিণ পাশের মার্কেটসহ দোকানগুলি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অনেকের মতে এই মার্কেটের কারণে স্কুলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে ও স্কুল ব্যবসার দিকে ঝুকেছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এই মার্কেটের কারনে গাড়ীর শব্দ দূষণ থেকে স্কুল নিরাপদ হয়েছে। স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও শুভাকাঙ্খী বোদ্ধা জনেরা অনেকেই মনে করেন, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে স্কুলের লেখাপড়ার মানের অবনমন ঘটেছে। স্কুল দরদীগণ মনে করেন, পরিচালনা কমিটির কিছু সদস্য ঐ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা লাভের জন্যে স্কুল কমিটিতে নির্বাচিত হতে চান। শিক্ষার মান রক্ষা ও অগ্রগতির জন্যে বেশীরভাগ সদস্য আসেন না বলে প্রায়ই শুভাকাঙ্খীরা মত প্রকাশ করেন। মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেবের অনেক কষ্ট ও ত্যাগে প্রতিষ্ঠিত স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে বা শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক অনিয়ম কিংবা অপকর্মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে, এর চেয়ে অপমান, অসন্মান, লজ্জাকর ও আত্মঘাতী আর কিছু হতে পারে না।

১৮. মৌলানা আবদুস সোবহান ও রাহাত আলী দারোগা সম্পর্কে যা জানা যায়। মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেব জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৫৩ সালের ১১ জানুয়ারী, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া পৌরসভার উত্তর গোবিন্দারখীল গ্রামের মুন্সি বাড়ী নামক পাড়াতে। তাঁর পিতার নাম মুন্সি আলী আকবর। মৌলানা সাহেব মারা যান ১৯১৮ সালের ৭ মে। ব্যক্তিগত জীবনে ওয়াজ নসিহত ও শিক্ষকতা করতেন। রাহাত আলী দারোগা সাহেব জন্মগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর গ্রামে। পটিয়া থানায় দারোগা হিসেবে চাকুরী করতেন। তাঁর জন্মের সন তারিখ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মুছা (বি এড) স্যার এর অনুরোধে স্কুল শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছগীর মোহাম্মদ সাহেবের উদঘাটিত তথ্য অনুযায়ী রাহাত আলী দারোগা মারা যান ১৯৪৩ সালে, শনিবার। তারিখ জানা গিয়েছে বাংলা ১ ভাদ্র। দারোগা সাহেব নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান। তাঁর পিতার নাম রহমত আলী সওদাগর বলে জানা গিয়েছে।

চলবে..

৫ম (শেষ) পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 

শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ৩য় পর্ব

শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব২য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

৩য় পর্ব

১১. আবদুস সোবহান সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা দেশ ও বিদেশের মাটিতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে এবং জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রেখে খ্যাতিমান ও যশস্বী হয়েছেন তাঁদের তালিকা অনেক বড়। 
শুধুমাত্র প্রেরণাদায়ক কিছু নাম তুলে ধরা হলো যারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে এই স্কুল থেকে পাশ করেছিলেন। 
১৯১৮ সালে ১ম বার ১ম বিভাগ পাওয়া ৭ জনের মধ্যে বিখ্যাত ৪ জন ছিলেন তৎকালীন স্কুল পরিদর্শক আবদুর রহমান, চিকিৎসক ডাঃ আমিনুল হক, আইনজীবি এড. মোখলেছুর রহমান, চিকিৎসক ডাঃ বিনোদ বিহারী ভট্টাচার্য্য। অতঃপর এ বিদ্যালয় থেকে পাশ করে শিক্ষাবিস্তার ও মানবসেবায় যাঁরা সুবিশেষ অবদান রেখেছিলেন সর্বশ্রদ্ধেয় তাঁরা হলেন, আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র পিতা নুরুজ্জামান চৌধুরী (১৯২১), সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯২২), সাবেক শিক্ষক আলী আহমদ (১৯২২), পটিয়া আদর্শ স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র গুপ্ত (১৯২৪), উকিল আলী আহমদ এম.এ.বি.এল (১৯২৫), ইঞ্জিনিয়ার ফজল আহমদ (১৯৪১), সাবেক কলেজ পরিদর্শক শিক্ষাবিদ শামশুল আলম এম.এ.বি.টি.এম.এড (১৯৪২), ঢাকা মেডিকেলের সাবেক সুপার ডাঃ এম. এ ছবুর (১৯৪৩), সাবেক চীফ মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামাল উদ্দিন খাঁন (১৯৪৩), সাবেক আণবিক বিজ্ঞানী ইঞ্জিনিয়ার সুলতান আহমদ (১৯৫১), সাবেক ব্যাংক ডিজিএম মোঃ ইউসুফ (১৯৫২), অধ্যাপক (কানাডা) এ.বি.এম শাহাদাৎ হোসাইন (১৯৫৪), প্রিন্সিপাল খায়রুল বশর (১৯৫৭), প্রিন্সিপাল ফরিদুল আলম (১৯৫৯), প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান মাস্টার (১৯৬১), সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম (১৯৬১), প্রফেসর আহমদ ছৈয়দ (১৯৬২), সাবেক প্রধান শিক্ষক এস.এম. মুছা (১৯৬২), অধ্যাপক রহমত আলী (১৯৬২), সাবেক ডীন (চবি) ড. কাজী আহমদ নবী (১৯৬৪), অধ্যক্ষ প্রফেসর সফিকুল আলম (১৯৬৪), অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শহীদুল্লাহ (১৯৬৬), অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল আলীম (১৯৬৬), দুবাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. নুরুল আলম (১৯৬৭), সাবেক ঔষধ প্রশাসক মুহাম্মদ এনামুল হক (১৯৬৭), সাবেক টি.ও. হাশমত আলী (১৯৬৭) প্রমুখ। সকলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে পাশ করা। 

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যাঁরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-গবেষণায় অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন তাঁদের সকলের সর্বশেষ অবস্থানসহ নামের হালনাগাদ তালিকা এতো বড় যে, নামগুলো প্রকাশ আলাদা আরেকটা নিবন্ধ ছাড়া সম্ভব নয়। তবে, মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণের মধ্যে প্রশংসনীয় সফলতার দাবীদারগণের তালিকা বিশাল হলেও, তাঁদের নামগুলি ভিন্নভাবে সামনে আনা বাঞ্চনীয় এবং প্রেরণাদায়ক হবে বলে স্বীকার করছি। 

১২. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ‘শুধুমাত্র মুসলমান ছাত্রদের স্কুল’ নামক অপবাদ আর রটনা ঘুচিয়ে যে বিখ্যাত প্রাক্তন শিক্ষার্থীগণ এই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে পাশ করে কীর্তি ও সুনাম অর্জন করেছিলেনঃ- 
বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. বিনোদ বিহারী চৌধুরী (১৯১৮), সাবেক প্রধান শিক্ষক জানকী রঞ্জন বিশ্বাংগ্রী (১৯২২), দোহাজারী স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরিপদ নন্দী (১৯২৩), বার্মাতে (মিয়ানমার) সাবেক প্রঃ কাব্যতীর্থ বীরেশ্বর ভট্টাচার্য্য (১৯২৪), পটিয়া হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রমেশ চন্দ্র গুপ্ত (১৯২৪), দোহাজারী হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক রুহিনী মজুমদার (১৯২৮), হাবিলাসদ্বীপ হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক বিমলেন্দু চক্রবর্তী (১৯২৮) প্রমুখগণসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্বগণ।
আরো একটি স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঐ সময়ে স্কুলের মঞ্জুরী পেতে উনাইনপুরা নিবাসী ভিক্ষু কৃপাশরণ মহাস্থবির মহোদয় সার্বিক সহযোগীতা করেছিলেন বলে, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছগীর মোহাম্মদ সাহেবের নিকট রক্ষিত থাকা তথ্য থেকে জানা যায়। 

১৩. আমার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা অনুসারে, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যাঁরা বিভিন্ন এলাকায় জনগনের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন এবং করছেন তাঁরা হলেনঃ- 
পটিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভার বর্তমান মেয়র আইয়ুব বাবুল, সাবেক মেয়র শামশুল আলম মাস্টার, সাবেক মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম সওদাগর, ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মহিউদ্দিন, সাইফুদ্দিন খালেদ বাবুল, মোহাম্মদ ছৈয়দ চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শামশুল আলম এম.কম, আজমল হোসেন জামাল প্রমুখ। স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যাঁরা পটিয়া পৌরসভার বর্তমান ও সাবেক কাউন্সিলরগণ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের বর্তমান ও সাবেক ওয়ার্ড সদস্যগণ দেশ ও জনগণের জন্যে সেবা করছেন বলে দাবীদার তাঁদের সংখ্যাও অনেক বড়। দেশের মানুষ এ সকল জনপ্রতিনিধিদেরকে তাঁদের কাজ ও সেবা অনুযায়ীই শ্রদ্ধা করবে। জনপ্রতিনিধিদের নাম ঠিকঠাক মতো দিতে না পারলে, অনেকের মনোকষ্টের কারণও হতে পারে। অনেকের নাম খুঁজে না পাওয়াতে এবং ঠিকমতো তথ্য না পাওয়ায় প্রকাশ করতে না পারাটাও কষ্টের ব্যাপার।

চলবে..

৪র্থ পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন ছাত্র


বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 

শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়; ‍asrahs; patiya; chittagong; chattogram; abdus sobhan; school; historical; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মাওলানা আবদুস সোবহান; বিদ্যালয়; স্কুল; পটিয়ার স্কুল; চট্টগ্রামের স্কুল; ঐতিহ্যবাহী; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শতবর্ষের ইতিহাসঃ আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় - ২য় পর্ব

শতবর্ষের ইতিহাস সিরিজ - ‘আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়’

১ম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

২য় পর্ব

৭. প্রধান শিক্ষক হিসেবে যাঁরা ছিলেন। বিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যস্ত প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিখ্যাত আইনবিদ নোয়াখালী নিবাসী আবদুল গোফরান বিএ.বিএল। তিনি পরে অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী হয়েছিলেন। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় কে আজ পর্যন্ত স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে মোট ২৬ জন শিক্ষাবিদ প্রধান শিক্ষক পদে আসীন হয়েছেন। এঁদের মধ্যে চারজন দু’বার করে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই বিদ্যালয়কে সকল ধরণের সাফল্যের উচ্চ শিখরে আসীন করেছিলেন, ২৭ নভেম্বর ১৯৯৮ ইং তারিখে মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭ বছর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ মুছা বি.এড স্যার। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা ‘শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ মুছা স্মৃতি বৃত্তি’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। বিদ্যালযের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের জন্য ২০১৩ সালে উক্ত বৃত্তি অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছিলো। কিন্তু ২০১৩ সালে শতবর্ষ অনুষ্ঠানটি হতে না পারলেও, “শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ মুছা স্মৃতি বৃত্তি” আর চালু রাখা যায়নি। শতবর্ষ উদযাপনকালীন সময়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রধান শিক্ষক ছগীর মোহাম্মদ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের ১২ মার্চ ইন্তেকাল করেন। স্কুলের বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে যে অভিজ্ঞ, দক্ষ ও শিক্ষা উদ্যোমী কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না কিংবা থাকছেন না। ২০১৮-১৯ সালের দিকে শরীফ সাহেব নামের একজন চৌকস প্রধান শিক্ষক আসলেও থাকলেন না। কিন্তু, উনি কেনো চলে গেলেন তা জানা যায়নি! বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ যথাযথ যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে না পারার কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে সবাই মনে করেন। স্কুল পরিচালনা কমিটিতে, বর্তমানে যারা নির্বাচিত হয়ে আসেন তারা আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো একটি বিদ্যালয় পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে সত্যিকার কোনো যোগ্যতা রাখেন কিনা, এটা বর্তমান সময়ে সকলের প্রশ্ন। বাস্তবে, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে জুনিয়র শিক্ষকদের শিক্ষা ও এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রম তদারক করতে পারেন বা পরামর্শ দিতে পারেন এমন কমিটি সদস্য কারা এসেছেন, বিগত কয়েকটি কমিটিতে, এ ব্যাপারে জানার, বলার এবং দাবী করার অধিকার সকল প্রাক্তন ছাত্রদের এবং স্কুল দরদীগণের রয়েছে; যাঁরা মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেবের অবদানকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। 

৮. বোর্ডের অধীনে চালু থাকা মাধ্যমিক সনদ পরীক্ষা ১৯৬২ সাল পর্যন্ত মেট্রিক, ২০০০ সাল পর্যন্ত এস.এস.সি, অতঃপর অদ্যাবধি পর্যন্ত গ্রেডিং পদ্ধতিতে এস.এস.সি হিসেবে স্বীকৃত। আরো আগে মেট্রিক পরীক্ষা, এন্ট্রান্স পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত ছিলো। সে মতে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১৮ সাল হতে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ৬৯৭ জন এনট্রান্স ও মেট্রিক পাশ, ১৯৬৩ সাল হতে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৩,৬৪৯ জন ডিভিশান পদ্ধতিতে এস.এস.সি পাশ, ২০০১ সাল হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৩৫৭১ জন গ্রেডিং পদ্ধতিতে এস.এস.সি পাশ করে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতার সাক্ষর রেখেছেন এবং রাখছেন। ২০১৫ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র শেষ পাঁচ বছরে মোট ১৩০১ জন পাশ করেন। আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনেকজন বিদ্যালয় অন্তঃপ্রাণ শুভাকাঙ্খীগণের মনে দুঃখ, ব্যাথা ও হতাশা আছে। আবার উক্ত ফলাফল নিয়ে কারো কারো মুখ থেকে অতি সমালোচনাও শোনা যায়। সবাই বর্তমানে জিপিএ ৫ দিয়ে ফলাফল হিসাব করতে চান। বিদ্যালয়ের সর্বশেষ পাঁচ বছরের ফলাফলটা যাচাই করা যায়। এস.এস.সি ২০১৫ সালে ২৭২ জনে ২৩৫ জন, ২০১৬ সালে ২৮৪ জনে ২৭২ জন, ২০১৭ সালে ২৯৭ জনে ২৩৮ জন, ২০১৮ সালে ৩০৩ জনে ২২০ জন, ২০১৯ সালে ৩৯৬ জনে ৩৩৬ জন ছাত্র পাশ করেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে মোট ১৩০১ জন ছাত্র পটিয়ার একটা বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়া সত্যিই গৌরবের। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষয়িত্রীগণকে সর্বশেষ উক্ত পরিমাণ ছাত্রদেরকে পাশ করানোর জন্য বাহবা দিতে হয়, প্রশংসা করতে হয় এবং পুরষ্কৃত করতে হয়। 

বাস্তবে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে আবদুস সোবহান রাহাত আলী স্কুলে রাজনৈতিক নেতৃবর্গ, কমিটি সদস্য ও বিভিন্ন ব্যক্তির চাপ ও তদবীরে অতিরিক্ত ছাত্র এবং কম মেধাবী ছাত্র ভর্তি করানোর কারণে তাদেরকে প্রতিটি উপরের শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করানো দুঃসাধ্যকর ব্যাপার হয়। পটিয়া সদরের অন্য কয়েকটি স্কুলের মতো বাছাই করে ছাত্র ভর্তি করানো যায় না, যদিওবা ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। ভালো ফলাফলটা কিভাবে প্রত্যাশা করা যায় ? আসলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে, গাধা পিটিয়ে ঘোড়া বানাতে হয়। শিক্ষকগণের একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ত্রুটি থাকলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশোধন কিংবা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোচ্চার হওয়া যায়। কিন্তু, তা নিয়ে রাজনীতি শোভন যেমন নয় তেমনি গ্রহণযোগ্যও নয়। সত্যটা হচ্ছে, বিদ্যালয়ের দু’একজন শিক্ষক বিদ্যালয় সংক্রান্ত বিষয় বহির্ভুত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার কিছু প্রচার থাকলেও, সকল শিক্ষকদের উপর বদনামটা দেয়া পীড়াদায়ক। 

৯. প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে মৌলানা আবদুস সোবহান সাহেবের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় বিদ্যালয়ের অপরাপর প্রতিষ্ঠাতাগণ, পরিচালনা পরিষদের সদস্যগণ, শিক্ষকমন্ডলী ও সহযোগীগণ বিদ্যালয়ের সফলতা ও প্রতিষ্ঠার জন্যে কি পরিমাণ কর্মনিষ্ঠ, ঐকান্তিক ও নিঃস্বার্থবান ছিলেন তার একটি তুলনামূলক নমুনা তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে বিদ্যালয়ের সকল প্রাক্তন ছাত্রগণ ও শুভার্থীগণ গৌরব অনুভব করতে। ১৯১৮ সালে বিদ্যালয় থেকে ১ম বার ১৬ জন পরীক্ষার্থী মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭ জন প্রথম বিভাগ এবং ৩ জন দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেছিলেন। তন্মধ্যে ৪ জন নিজেদের কর্মদক্ষতা গুণে পরে বিখ্যাত হয়েছিলেন। সাবেক এম.পি নজরুল ইসলাম সাহেবের পিতা সাবেক স্কুল পরিদর্শক মরহুম আবদুর রহমান সাহেব তাঁদের একজন। 
উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয় ১৯১৮ সালে ১ম বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত অধ্যবদি একবারও এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাদ পড়েছে বলে জানা যায়নি। অথচ ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পার্শ্ববর্তী স্কুল ২২ বছর পর ১৮৬৭ সালে প্রথমবার বোডের্র পরীক্ষায় মাত্র ৩ জন অংশ নিয়ে ১ জন পাশ করতে পেরেছিলেন। ফলাফল সন্তোষজনক না হওয়াতে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত ঐ বিদ্যালয়ের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাতিল করে দেয়া হয়। পুনঃঅনুমতি পেয়ে ১৮৮১ সাল থেকে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত আবার ঐ বিদ্যালয় বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোন ফলাফল করতে পারেনি। ১৮৮৬ সালে হাইদগাঁও নিবাসী বিখ্যাত আইনজীবি অন্নদা চরণ দত্ত (৩ জনে ১ জন) ১ম বিভাগে পাশ করে ভালো ফলাফল করার পরের পর্ব থেকে বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, গবেষক ঐ বিদ্যালয় থেকে পাশ করেছিলেন এবং দেশ ও জাতির জন্য অবদান রেখেছেন, রাখছেন। 

আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই উদ্যোক্তাগণ ও সম্পৃক্তগণকে, পটিয়ায় শিক্ষা প্রসারে নিঃস্বার্থ কর্মতৎপরতায় মৌলানা সাহেব যে কত বেশী উৎসাহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন, উল্লিখিত তথ্য তারই প্রমাণ। 

১০. আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসাবে স্কুলের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে যে সকল নিঃস্বার্থ ব্যক্তিগণ বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভুমিকা রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম সর্বজনাব আবদুর রহমান, মোখলেছুর রহমান, মাওলানা নুরুচ্ছফা, খলিল মাস্টার, মোঃ নজরুল ইসলাম এম.পি, এখলাছুর রহমান চেয়ারম্যান, ছিদ্দিক আহমদ চৌধুরী, ডাঃ কামাল উদ্দিন, হামিদুর রহমান, হামিদুল হক, গাজী আমিন শরীফ, হাজী কবির আহমদ সওদাগর, ডাঃ কে আখতার, বদিউর রহমান মাস্টার, অধ্যাপক মোঃ ইসহাক, আবদুল হক আল্লাই, মোঃ হানিফ, ব্যাংক ম্যানেজার আমির হোসেন প্রমুখগণ অগ্রগন্য। সদ্য সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোলাইমান সাহেব একটি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন। অনেক শ্রদ্ধেয় জনের নামের সঠিক তথ্য না পাওয়ায় দেওয়া যায়নি। যাঁদের নামগুলি পেয়েছি এবং নাম দেয়া প্রয়োজন মনে করেছি তাঁদের নামগুলি দিয়েছি। আবার অনেকের নাম না দেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত।

চলবে..

লেখকঃ- স.ম ইউনুচ
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও প্রাক্তন ছাত্র

৩য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন

বিঃদ্রঃ
(লেখাটি আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন স্মারকগ্রন্থের জন্য প্রস্তুতকৃত ছিলো। অনেকগুলো তথ্য সম্পাদন করে নতুনভাবে প্রকাশ করা হলো। ইতিহাসের সত্য অস্বীকার করা যায় না। যে কারো মতামত গ্রহণযোগ্য। - লেখক) 


আপনার মতামত জানাতে পারেন কমেন্টবক্সে কিংবা মেসেজ করুন আমাদের ফেসবুক পেইজে 

পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সাবেক মহকুমা জেলা পটিয়া’য় আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনভর বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে।

ভিডিওঃ-

গ্যালারী

ফিচারড

এডিটরস চয়েস

সারাদেশ

রাজনীতি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পটিয়া সদর

ইউনিয়ন

গ্রাম-গঞ্জ

জাতীয়

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা