পদ্মাপাড়ে সাজসাজ রব, উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু; পদ্মা সেতু; পদ্মা; জাজিরা; মাওয়া; নদী; Padma; Padma Bridge; Jazeera; Mawa; China Major Bridge
পদ্মাপাড়ে সাজসাজ রব, উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ সকল জল্পনা-কল্পনা, নানামুখী চ্যালেঞ্জ, বাঁধা-বিপত্তির অবসান ঘটিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে দৃশ্যমান যান চলাচলের উপযোগী স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আলোকিত। উদ্বোধনের বাকি আর মাত্র কিছু ঘন্টা। রাত পোহালেই উদ্বোধন হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। ঘটবে পদ্মা পাড়ি দিতে যুগ-যুগান্তের ভোগান্তির অবসান। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য উন্মুক্ত হবে এক নতুন দ্বার।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের উচ্ছ্বাসে মুখোরিত পদ্মা সেতু নির্মাণের অন্যতম সাক্ষী মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকায় আনন্দে উদ্ভাসিত পদ্মাপাড়ের মানুষ। সর্বত্র সাজসাজ রব। 

সেতুর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন ও সুধী সমাবেশ হবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পদ্মা পাড়ে। প্রস্তুত ফলক মঞ্চ। অনুষ্ঠানস্থল, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সাজসজ্জায় ভরে উঠেছে।  সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুনে। সমাবেশস্থলের জন্য দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ তৈরি, সেতুর নামফলক ও ম্যুরাল স্থাপনের কাজসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ শেষের পথে। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলছে পুরোদমে। 

মাওয়া প্রান্তে ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেতু পেরিয়ে তিনি আসবেন জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায়। সেখানে কয়েকটি স্থাপনার উদ্বোধন করে শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে গিয়ে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ লক্ষ্যে জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফের নির্দেশে সকাল থেকেই সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের বিকল্প নৌরুট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী সমাবেশস্থলে প্রায় দশ লক্ষাধিক জনসমাগমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুরো মাওয়া এলাকায় জোরদার করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, নৌ পুলিশ। বিভিন্ন পেট্রোলিং ছাড়াও আকাশপথে থাকবে র‍্যাবের হেলিকপ্টারের নজরদারি। 

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ০৪ জুলাই পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বরে এর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দুই স্তর বিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর উপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেছেন। এর মধ্যে চীনের ৭০০ এবং বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার মানুষ কাজ করেছেন। ১৬০টির মতো স্থানীয় সহযোগী ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ করেছে। পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮ মিটার। এছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। 
অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার কাঠামো নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেড। 

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি জটিলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে প্রায় সাড়ে সাত বছর লেগেছে।
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০; ভূমিকম্প; আফগানিস্তান; পাকতিকা; খোস্ত; পাহাড়; দুর্গম; Afghanistan; Earthquake; Paktika; Khost; Hill; impassable
আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ [ছবি : Bakhtar News Agency/ AP]

ভয়েস অব পটিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ আফগানিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২০ জনে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ছয় শতাধিক। 
বুধবার (২২ জুন) ভোর রাতে দেশটির পাকতিকা অঞ্চলে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। 

ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) ও পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৯ রেকর্ড করেছে। 

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে এবং এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪৪ কিলোমিটার গভীরে। 

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী মাওলানা শরাফুদ্দিন মুসলিম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে অন্তত ৯২০ জন শহীদ হয়েছেন এবং ৬০০ জন আহত হয়েছেন।’ 
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী জানিয়েছিলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গ্রামগুলোতে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে ও সম্পূর্ণ তথ্য পেতে আরও সময় লাগবে।’ 

ভূকম্পন জরিপ সংস্থা ইএমএসসি জানায়, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এই ভূমিকম্পের প্রভাব অনুভূত হয়েছে। এতে আফগানিস্তানের পাশাপাশি কেঁপে ওঠে প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং ভারতও। 

ভোর রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানায় সেসময় ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। ফলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধসে পড়া বাড়িঘরের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান অনেকে।

আফগান সাংবাদিক আলী এম লাতিফির বরাতে বার্তা সংস্থা আল জাজিরা জানায়, দুর্গম পাকতিকা অঞ্চলে শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে এবং সাহায্য সংস্থাগুলোকে ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে উদ্ধারে সাহায্যের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। যদিও এটি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং পৌঁছানো অনেক কঠিনতর হবে। 

উল্লেখ্য, গত ২০ বছরের মধ্যে আফগানিস্তানের সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প এটি।
ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো, পানি বন্দী মানুষের বাঁচার আকুতি; সিলেট; সুনামগঞ্জ; বাংলাদেশ; বন্যা; ভারত; আসাম; মেঘালয়; চেরাপুঞ্জি; Sylhet; Sunamganj; Bangladesh; India; Assam; Meghalaya; Cherrapunji; Flood
ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো, পানি বন্দী মানুষের বাঁচার আকুতি

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কুড়িগ্রামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো। হঠাৎ শুরু পাহাড়ী ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এই বিভাগের প্রায় ৯০ ভাগ এলাকা। পানির তোড় বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে সিলেটসহ এর আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন। 

বন্যা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই সিলেটে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা বন্যা পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাবে। শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহীনুল ইসলাম জানান, আগামী ২২ জুন পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল অতি ভারী বর্ষণের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। 

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা বলছেন, বহু বছরের মধ্যে তারা এতো ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হননি।

ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো, পানি বন্দী মানুষের বাঁচার আকুতি; সিলেট; সুনামগঞ্জ; বাংলাদেশ; বন্যা; ভারত; আসাম; মেঘালয়; চেরাপুঞ্জি; Sylhet; Sunamganj; Bangladesh; India; Assam; Meghalaya; Cherrapunji; Flood
সিলেট বন্যা: পানিবন্দী মানুষ

সবমিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে বলে জানা যায়। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট-নেত্রকোনার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রেল যোগাযোগ। এর পাশাপাশি রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ দেশের আরও অন্তত ৩৩টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

 
ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো, পানি বন্দী মানুষের বাঁচার আকুতি; সিলেট; সুনামগঞ্জ; বাংলাদেশ; বন্যা; ভারত; আসাম; মেঘালয়; চেরাপুঞ্জি; Sylhet; Sunamganj; Bangladesh; India; Assam; Meghalaya; Cherrapunji; Flood
সিলেট বন্যা: নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসী মানুষজন

গত রাত থেকে সিলেটে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, সেই সাথে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে উদ্ধার কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর সহযোগীতা চাওয়া হয়। এতে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। নগর এলাকারও প্রায় অধিকাংশ স্থান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সেসব স্থানে বিভিন্নভাবে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন তারা। 

ভয়াবহ বন্যার কবলে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো, পানি বন্দী মানুষের বাঁচার আকুতি; সিলেট; সুনামগঞ্জ; বাংলাদেশ; বন্যা; ভারত; আসাম; মেঘালয়; চেরাপুঞ্জি; Sylhet; Sunamganj; Bangladesh; India; Assam; Meghalaya; Cherrapunji; Flood
সিলেট বন্যা: সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল

আজ শনিবার সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বন্যার্তদের উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। 
তিনি জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৩৫ জন ডুবুরির একটি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে, আরো ৬০ জন সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। নৌবাহিনীর একটি দল জালালাবাদে এবং আরেকটি কোম্পানীগঞ্জে কাজ করছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে বন্যাদূর্গত এলাকায় পানিবন্দী মানুষকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সাধারণ মানুষসহ বেশকিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর পাশাপাশি ১১টি জেলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে এক কোটি ৭২০ মেট্রিক টন চাল, দুই কোটি ৭৬ লাখ টাকা নগদ সহায়তা ও ৫৮ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ত্রাণ কর্মসূচি-১ অধিশাখার উপ-সচিব লুৎফুন নাহার। 

এদিকে বিদ্যুৎ উপগ্রিডে বন্যার পানি ঢুকায় বন্যাদুর্গত সিলেট ও সুনামগঞ্জ এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও। 

এই পরিস্থিতিতে দুর্যোগকালীন জরুরী টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপনে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানী লিমিটেড (বিএসসিএল)-এর চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ শনিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্যোগকালীন জরুরী টেলিযোগাযোগ সেবায় এবারই প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সেবা দিতে যাচ্ছে, যা এই স্যাটেলাইটের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ১২ সেট ভিস্যাট যন্ত্রপাতি দিয়েছে বিএসসিএল, যার মাধ্যমে জরুরী টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপন করা হবে। এছাড়াও বিএসসিএল সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরকেও আরো ২৩ সেট ভিস্যাট যন্ত্রপাতি দেওয়ার কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে আরো ২৩টি বন্যা উপদ্রুত এলাকায় জরুরী টেলিযোগাযোগ সেবা স্থাপন করা হবে।

ইতিমধ্যে টেলিকম অপারেটরগুলো তিনটি করে টোল ফ্রি নাম্বার চালু করেছে বানভাসী মানুষদের জন্য।

গ্রামীণফোন- 01769177266, 01769177267, 01769177268 
রবি- 01852788000, 01852798800, 01852804477
বাংলালিংক- 01987781144, 01993781144, 01995781144 
টেলিটক- 01513918096, 01513918097, 01513918098 

বন্যার কারণ 

নাব্যতা নষ্ট 

নদী গবেষকরা বলছেন, এবারের আকস্মিক বন্যার পেছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি একটি বড় কারণ হলেও নদীর নাব্যতা নষ্ট একটি বিরাট কারণ, যা নষ্টের জন্য ভারত অংশে অপরিকল্পিত পাথর উত্তোলনকে দায়ী করছেন গবেষকরা।

ভারতের উজানে পাথর উত্তোলনের ফলে মাটি আলগা হয়ে নদীতে চলে আসে। ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে সেখানে নাব্যতা সংকট তৈরি হচ্ছে। সেই সাথে বৃক্ষ নিধন তো চলছেই। 

এর পাশাপাশি নদীগুলো ঠিকমতো ড্রেজিং না হওয়া, ময়লা-আবর্জনায় নদীর তলদেশ ভরে যাওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জলাভূমি ভরাট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করছেন গবেষকরা। এই কারণে মেঘালয় বা আসামে বেশি বৃষ্টিপাত হলেই সিলেট বা কুড়িগ্রাম এলাকায় বন্যার তৈরি হচ্ছে বলে গবেষকরা মনে করছেন। 

অপরিকল্পিত উন্নয়ন 

জলবায়ু গবেষক অধ্যাপক ইসলাম বলছেন, এবারের হঠাৎ বন্যার পেছনে মানুষের নিজেদের তৈরি কতগুলো কারণ রয়েছে। সিলেট বা সুনামগঞ্জ এলাকায় আগে ভূমি যেরকম ছিল, নদীতে নাব্যতা ছিল, এতো রাস্তাঘাট ছিল না বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। ফলে বন্যার পানি এখন নেমে যেতেও সময় লাগে। আগে হয়তো জলাভূমি, ডোবা থাকায় অনেক স্থানে বন্যার পানি থেকে যেতে পারতো। কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। এছাড়া হাওরে বিভিন্ন জায়গায় পকেট পকেট আমরা রোড করে ফেলেছি। ফলে পানি প্রবাহে বাধার তৈরি হচ্ছে। শহর এলাকায় বাড়িঘর তৈরির ফলে পানি আর গ্রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। যার ফলে বন্যার তীব্রতা আমরা বেশি অনুভব করছি। এসব কারণে আগাম বন্যা হচ্ছে এবং অনেক তীব্র বন্যা হচ্ছে। 

বাঁধ না থাকা 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ বা নেত্রকোনা হাওর এলাকায় বেশিরভাগ জনপদে কংক্রিটের তৈরি শহর রক্ষা বাঁধ নেই। ফলে কোন কারণে হাওরে বা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করলে তার খুব দ্রুত শহরে বা আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। 

বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের পরিচালক এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলছেন, হাওরে এসব এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হয়নি। সেটা করা না হলে বাড়িঘর উঁচু করে তৈরি করতে হবে, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সেটাও করা হয়নি। ফলে যখন এভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে, সেটার ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হচ্ছে।
এক নজরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; সংবাদ; সারাদেশ; ঢাকা; বাজেট; বাজেট ২০২২; বাজেট ২০২৩; বাজেট ২০২২-২৩; বাংলাদেশ; সংসদ
এক নজরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ  ‘এক ফিনিক্স পাখির গল্পগাথা’ শিরোনামের অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) বিকেলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। 

এবারের এ প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেটের এই অর্থ জোগান দিতে রাজস্ব, অভ্যন্তরীণ ঋণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণের শরণাপন্ন হবে সরকার। এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। তারপরও আয় ও ব্যয়ের হিসাবে বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঘাটতির এই পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫.৫ শতাংশ। মোট বাজেটের শতাংশে ১৫.৭ ভাগ যা পূরণে নির্ভর করতে হবে ব্যাংক ঋণ থেকে। সেজন্য বিদেশ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার মত ঋণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
এছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে সম্ভাব্য বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হয়েছে সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকা। 

এবার দেশি-বিদেশি ঋণের জন্য ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা খরচ হবে বলে অর্থমন্ত্রী হিসাব ধরেছেন, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ।


এক নজরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; সংবাদ; সারাদেশ; ঢাকা; বাজেট; বাজেট ২০২২; বাজেট ২০২৩; বাজেট ২০২২-২৩; বাংলাদেশ; সংসদ
প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল

যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে
  • মোবাইল সেট: মোবাইল টেলিফোন সেটের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। 
  • কোভিড সামগ্রী: কোভিড-১৯ এর টেস্ট কিট, প্রটেকটিভ গার্মেন্টস, ফেইস শিল্ড, মেডিকেল প্রটেকটিভ গিয়ার, প্রটেকটিভ চশমা এবং মাস্ক এর উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
  • জিআই ফিটিংস: জিআই ফিটিংস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দেশে গড়ে উঠেছে। তাই দেশি শিল্পের প্রতিরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য আমদানি করা জিআই ফিটিংসের বিপরীতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • বিদেশি চিজ: বাটারের মতো চিজ আমদানিতেও ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • তার: বিভিন্ন ধরনের তার প্রায় সমজাতীয় হওয়ায় শুল্কায়নকালে এদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা দূরুহ। তাই সমতা বিধানের স্বার্থে এরূপ দুটি পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ হতে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।
  • মোটরসাইকেল: ২৫০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ ও টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত রয়েছে। তাই ২৫০ সিসির ঊর্ধ্বের ইঞ্জিন ক্ষমতা সম্পন্ন মোটরসাইকেল আমদানিতে ফোর স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ১০০ শতাংশ ও টু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ২৫০ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • বিদেশি ইলেকট্রিক মোটর: স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণে ৭৫০ ওয়াট পর্যন্ত ইলেকট্রিক মোটরের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
  • বিদেশি গ্যাস লাইটার: দেশীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণের জন্যে গ্যাস লাইটার আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে পার্টস অব লাইটার আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • বিদেশি সোলার প্যানেল: দেশি সৌর বিদ্যুৎ খাতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা সোলার প্যানেলের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ০ শতাংশ হতে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • মোবাইল ফোনের বিদেশি চার্জার: দেশীয় উৎপাদিত সেলুলার ফোন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে মোবাইল ফোন ব্যাটারি চার্জারের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • কনক্রিট রেডি মিক্স: কনক্রিট রেডি মিক্সের উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
  • বিদেশি প্রিন্টিং কালি: স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষণের জন্য প্রিন্টিং কালি পণ্যের রেয়াতি শুল্কহার ১০ শতাংশ এর পরিবর্তে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • বিদেশি কম্পিউটার, প্রিন্টার ও টোনার কার্ট্রিজ: কম্পিউটার, প্রিন্টার ও টোনার কার্ট্রিজ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • ল্যাপটপ: ল্যাপটপ কম্পিউটার আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে পণ্যটি আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মোট করভার হবে ৩১ শতাংশ।
  • বিলাসবহুল বিদেশি পাখি: বর্তমানে বিলাসবহুল পাখির ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য রয়েছে। এই হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমছে
  • মুড়ি ও চিনি: মুড়ি ও চিনির উপর ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • গমের আটা: গমের আটার উপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। 
  • দেশী মোবাইল ফোন ব্যাটারী, চার্জার ও ইন্টার‌্যাক্টিভ ডিসপ্লে: তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে মোবাইল ফোনের ব্যাটারী, চার্জার ও ইন্টারেকটিভ ডিসপ্লে এর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। 
  • পাওয়ার টিলার: পাওয়ার টিলার উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • ব্রেইল: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষদের পড়ার উপকরণ ব্রেইল মুদ্রণের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • কানে শোনার যন্ত্রের ব্যাটারী: শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য কানে শোনার যন্ত্রে ব্যবহৃত ব্যাটারী এর ওপর প্রযোজ্য শুল্ক কর হ্রাস করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। 
  • বিশেষায়িত হুইল চেয়ার: শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষায়িত হুইল চেয়ার আমদানিতে বিদ্যমান সকল ধরনের শুল্ককর বিলোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • কাজুবাদাম: দেশে কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত শিল্প বিকাশ ও নতুন রপ্তানি খাত সৃষ্টির লক্ষ্যে কাঁচা কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কহার হ্রাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 
  • রড: এম এস প্রোডাক্টের ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট প্রতি মে. টন ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। 
  • পলিথিন ব্যাগ: পলিথিন ব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগসহ) ও মোড়ক সামগ্রীর ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে পলিথিন ও প্লাস্টিক ব্যাগের দাম কমতে পারে।

ভারতে মহানবী (সাঃ)-কে কটূক্তি, প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক; হযরত মুহাম্মদ (সাঃ); হযরত আয়েশা (রাঃ); ভারত; মুসলমান; হিন্দুত্ববাদ; হিন্দু জঙ্গি; হিন্দু সন্ত্রাস; মুসলিম নির্যাতন; বিজেপি; নূপুর শর্মা; Prophet Muhammod; Prophet Muhammad; Hazrat Muhammod; Hazrat Muhammad; Hazrat Ayesha; BJP; India; Muslim; Nurpur sharma; Hindutva; Hindu Terror;
ভারতে মহানবী (সাঃ)-কে কটূক্তি, প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক


ভয়েস অব পটিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ ভারতে ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক দল বিজেপির দুই নেতা কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)’কে নিয়ে কটূক্তির পর মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। চরম ইসলাম-বিদ্বেষী ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে মুসলিমরা। দেশে দেশে শুরু হয়েছে ভারতীয় পণ্য বয়কটের হিড়িক।

মহানবী (ﷺ)'কে কটূক্তির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে সৌদি আরব, কাতার, ইরান, কুয়েত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের পররাষ্ট্র দপ্তরে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক দল বিজেপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থক কর্তৃক সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর বর্বর নির্যাতনের মধ্যে সম্প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) ও তাঁর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রাঃ)’কে নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননাকর মন্তব্য করেন বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও দিল্লি শাখার গণমাধ্যম প্রধান নবীন কুমার জিন্দাল। তাদের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। দেশে দেশে কোটি কোটি মানুষ ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে #BoycottIndianProducts হ্যাশট্যাগ।  
ফেসবুক-টুইটারে ছড়িয়ে পড়া ছবিও-ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরবের সুপারস্টোরগুলো থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অনেক স্টোরে ভারতীয় পণ্যগুলো প্লাস্টিক মুড়িয়ে পণ্য বয়কটের পোস্টার লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। দোকানপাট-বাজার থেকে ভারতীয় পণ্য সরিয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলতেও দেখা যায় বেশ কিছু ছবিতে। 

এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় পণ্য বয়কটের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আহ্বানের কারণে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রোববার তাদের দুজন মুখপাত্র ইসলামদ্রোহী নূপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। 

রাসূল (ﷺ)’কে কটূক্তির প্রতিবাদ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা ইসলামবিদ্বেষী ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বাংলাদেশ সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানোরও আহ্বান জানান। পাশাপাশি সকলের প্রতি ভারতীয় পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন।
সীতাকুন্ড কনটেইনার বিস্ফোরণ : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯, দগ্ধ-আহত ৩ শতাধিক; সীতাকুন্ড; বিএম ডিপো; বিস্ফোরণ; চট্টগ্রাম; Sitakundo; Chattogram; Chittagong; Container; Blast; Chemical
সীতাকুন্ড কনটেইনার বিস্ফোরণ : নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯, দগ্ধ ৩ শতাধিক;

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুনে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে, আগুনে দগ্ধ প্রায় ৩ শতাধিক। আহত-দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়েছে।

শনিবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটের সময় ডিপোতে লাগা আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেখানে একের পর এক কনটেইনার বিস্ফোরিত হচ্ছে। দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা। নিরাপদ দূরত্বে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী ফায়ার সার্ভিসের মোট ২৫টি ইউনিটের কর্মীরা। তবে কনটেইনারে দাহ্য পদার্থ থাকায় থেমে থেমে বিস্ফোরণ হচ্ছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার ফাইটারদের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রাণ গেছে ৯ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর, আহত হয়েছেন ১৫ জন।

এমন পরিস্থিতিতে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী। 

সীতাকুন্ড কনটেইনার বিস্ফোরণ : আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী; সীতাকুন্ড; বিএম ডিপো; বিস্ফোরণ; চট্টগ্রাম; Sitakundo; Chattogram; Chittagong; Container; Blast; Chemical
সীতাকুন্ড কনটেইনার বিস্ফোরণ : আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী

রোববার (০৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের একটি দল। কনটেইনারে থাকা দাহ্য পদার্থের বিস্ফোরণ কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন সেনা সদস্যরা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) মোঃ শাহজাহান শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার সময় প্রায় ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল। শনিবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ৮টি ইউনিট এবং পরবর্তীতে আরও ৮টি ইউনিট পৌঁছে কাজ শুরু করে। বর্তমানে ২৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগীতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এশিয়া; সামিট; টোকিও; জাপান; বাংলাদেশ; Asia; Tokyo; Japan; Summit; Bangladesh; Myanmar; Burma; Rohingya
ভবিষ্যত এশিয়া সামিটে ভিডিও কনফারেন্সিং এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত-গণহত্যার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সহযোগীতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দেশগুলোর মধ্যে যে কোনো সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 
আজ শুক্রবার (২৭ মে) এক ভিডিও বার্তায় জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ভবিষ্যৎ এশিয়া বিষয়ক ২৭তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। 

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন সরাসরি উপস্থিতি এবং অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিং-লাইভ স্ট্রিমিং উভয় ক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের স্লোগান হচ্ছে ‘বিভক্ত বিশ্বে এশিয়ার ভূমিকা পর্যালোচনা করা।’ 
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে এশিয়ার দেশগুলোর নেতাদের সহযোগীতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত পাঠাতে সবার সহযোগীতা চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘এশিয়াকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও জনবহুল মহাদেশ। এখানে বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। এটি বিশ্বের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষেরও আবাসস্থল। অতএব আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মিটিয়ে বিরোধপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে শান্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। শুধু শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি করেই এশিয়ার দেশগুলো জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।'
রমযান; রমজান; রোজা; রোযা; ঈদ; ঈদ উল ফিতর; চাঁদ; Ramadan; Holy Ramadan; Eid; Eid Al Fitre; Moon sighting
চাঁদ দেখা যায়নি, মঙ্গলবার ঈদ

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার রমযান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। ফলে মঙ্গলবার (০৩ মে) সারা দেশে পবিত্র ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হবে।
  
আজ রোববার (০২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটির কাছে ফোন করে ৬৪ জেলা থেকে ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকরা চাঁদ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান। 

এদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ না দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। অন্যদিকে আফগানিস্তান, নাইজার, মালি সহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে গতকাল শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ ঈদ উল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। 

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে অসংখ্য মানুষ।
ফিলিস্তিনের আল-আকসায় ফের ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩১; ফিলিস্তিন; আল আকসা; বায়তুল মাকদিস; বায়তুল মোকাদ্দেস; জেরুজালেম; জেরুসালেম; পশ্চিম তীর; গাজা; ইহুদি; ইহুদি সন্ত্রাস; ইসরায়েলি সন্ত্রাস; Palestine; Al Aqsa; Baitul Makdis; Jerusalem; Jewish; Zionist; Jewish Terrorism; Israeli Terrorism
ফিলিস্তিনের আল-আকসায় ফের ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩১

ভয়েস অব পটিয়া-ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ পবিত্র রমজান মাসে ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদুল আল-আকসায় আবারও হামলা চালিয়েছে অবৈধ দখলদার ইসরায়েলি সন্ত্রাসী বাহিনী। 
শুক্রবার (২২ এপ্রিল) মসজিদটিতে জুমার নামাযরত অবস্থায় মুসলিমদের উপর বর্বর এ হামলা চালায় ইহুদি সন্ত্রাসবাদী ইসরায়েলি পুলিশ। এ সময় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, শুক্রবার সকালে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কায়দায় আটঘাট বেঁধে রাবার বুলেট ছুড়ে হামলা করতে করতে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে দখলদার ইসরায়েলি পুলিশ। এ সময় ফিলিস্তিনিরা আত্মরক্ষার্থে পাথর ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অতর্কিতভাবে গুলি, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হামলা করে ইসরায়েলিরা। সংঘর্ষ চলাকালে মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি গাছে আগুন জ্বালিয়ে দেয় সন্ত্রাসবাদী ইসরায়েলি বাহিনী। 

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে নতুন করে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে দখলদার ইসরায়েলিদের চালানো সামরিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ সম্প্রতি সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গত ১৮ এপ্রিল জেনিন শহরের কাছে আল-ইয়ামুন এলাকায় দখলদার ইসরায়েলি সন্ত্রাসবাদী বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয় ইব্রামিক লেবেদি নামের ২০ বছরের এক ফিলিস্তিনি কিশোর। চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার মৃত্যুবরণ করে ফিলিস্তিনি এ কিশোর। 

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূমি অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইহুদি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে আল-আকসা মসজিদ দখল করে নেয় তারা। যুদ্ধের পর আল-আকসা মসজিদ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল অবৈধভাবে দখলদার ইসরায়েলিরা। এমনকি ১৯৬৯ সালে মুসলিমদের প্রথম কিবলা পবিত্র এ মসজিটিতে অগ্নিসংযোগও করেছিল তারা। এরপর নানা বিধিনিষেধ আর শর্তপূরণের মাধমে সেখানে ইবাদতের সুযোগ পেতেন সাধারণ মুসল্লিরা। এরপরও একাধিকবার বিভিন্ন অজুহাতে দখলদার সন্ত্রাসবাদী ইসরায়েল আল-আকসা মসজিদটি ফিলিস্তিনিদের জন্য বন্ধ করে দেয়। ২০০৩ সালে ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ইহুদিদের আল-আকসায় প্রবেশের অনুমতি দেয় দখলদার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে আবারও দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। 

মসজিদুল আল-আকসা বা বায়তুল মাকদিস মুসলিমদের প্রথম কেবলা। অসংখ্য নবী-রাসূলের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের জায়গা এটি। আল্লাহর রাসূল প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐতিহাসিক মেরাজের রাতে মসজিদুল হারাম তথা পবিত্র কাবা শরীফ থেকে মসজিদুল আল-আকসা তথা বায়তুল মাকদিসে প্রথম সফর করেন। সেখান থেকে বোরাকে চড়ে উর্ধ্বাকাশে গমন করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন, যা মেরাজ নামে পরিচিত।

এদিকে ইহুদিরা মসজিদুল আল-আকসাকে তাদের টেম্পল মাউন্ট হিসেবে দাবি করে বলে, ‘এর নিচেই রয়েছে দুটি প্রাচীন ইহুদি মন্দির। অন্যদিকে খ্রিস্টানরাও স্থাপনাটিকে তাদের পবিত্র স্থান বলে দাবি করে আসছে।’ এই নিয়ে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের উপর ইহুদি সন্ত্রাসবাদী অবৈধ দখলদার ইসরায়েলিরা যুগ যুগ ধরে হত্যা-দমন-পীড়ন বর্বরতা চালিয়ে আসছে।

চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল পবিত্র রমযান শুরু; রমযান; রমজান; রোজা; রোযা; Ramadan; Holy Ramadan
চাঁদ দেখা গেছে, আগামীকাল পবিত্র রমযান শুরু

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ দেশের আকাশে পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এক মাস ব্যাপী রোজা। 

আজ শনিবার চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা শেষে কমিটির সভাপতি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমযান মাসের চাঁদ দেখার খবর পাওয়া গিয়েছে। ফলে শাবান মাস ২৯ দিনে শেষ হচ্ছে। আগামীকাল রোববার থেকে রমযান শুরু হবে।’

নাপা সিরাপ পান করে দুই শিশুর মৃত্যু, সারাদেশে ‘নাপা সিরাপ’ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ; নাপা সিরাপ; প্যারাসিটামল; বেক্সিমকো; ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; Napa; Paracetamol; Beximco; Drug Administration
নাপা সিরাপ পান করে দুই শিশুর মৃত্যু, সারাদেশে ‘নাপা সিরাপ’ বিক্রি বন্ধের নির্দেশ


ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ‘নাপা সিরাপ’ পান করে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে ‘নাপা সিরাপ’ এর বিক্রি-বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। 

সেই সাথে নির্ধারিত ব্যাচের (ব্যাচ নং-৩২১১৩১২১) নাপা সিরাপের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর।
আজ রবিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মুখপাত্র ও পরিচালক আইয়ুব হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তৈরিকৃত নাপা সিরাপের ব্যাচ নং-৩২১১৩১২১ সম্বলিত ওষুধ কারও কাছে থাকলে দ্রুত নিকটস্থ কেমিস্ট অফিসকে জানাতে হবে এবং সেটি বিক্রি থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
 
গত ১২ মার্চ দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায় যে মেসার্স বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃক উৎপাদিত নাপা সিরাপ (প্যারাসিটামল ১২০ মি.গ্রা./ ৫ মি.লি.) ব্যাচ নং- ৩২১১৩১২১, উৎপাদন তারিখ: ১২/২০২১, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ: ১১/২০২৩ নামীয় ওষুধটি সেবন করে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে একই পরিবারের ২ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।

এরই ফলশ্রুতিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাকে স্ব-স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত পাইকারী ও খুচরা ফার্মেসি পরিদর্শন করে ওই পদের নমুনা পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন ন্যাশনাল কন্ট্রোল ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের জয়েন্টে ত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে গতিরোধক!; পটিয়া; চট্টগ্রাম; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা; চট্টগ্রাম-কক্সবাজার; বান্দরবান; কক্সবাজার; নতুন ব্রীজ; শাহ আমানত সেতু; কর্ণফুলী ব্রীজ; সেতু; সড়ক ও জনপথ; Patiya; Chittagong; Chattogram; Bandarban; Coxsbazar; Highway; Karnaphuli Bridge; Shah Amanat Bridge; China
কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের জয়েন্টে ত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে গতিরোধক!

ভয়েস অব পটিয়া-স্পেশাল ডেস্কঃ দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সারাদেশে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত তৃতীয় কর্ণফুলী তথা শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রীজ)। সম্প্রতি এই সেতুতে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের এক্সপানশন জয়েন্টে দেখা দিয়েছে ত্রুটি। ত্রুটি ও ঝুঁকি চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। সতর্কতার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে গতিরোধক বসিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সহসাই যদি কোন স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া না হয় এ সেতুটিতে বড় ধরনের কোন জটিলতা তৈরি হয়ে, চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যোগাযোগে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

সেতুটির নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, সেতুর দক্ষিণ অংশের এক্সপানশন জয়েন্টে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
চীনা প্রযুক্তিতে শত বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে নির্মিত সেতুটি ২০১০ সালে উদ্বোধনের ১১ বছর না যেতেই এই ধরনের ত্রুটি-ঝুঁকি কেন তৈরি হলো এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কেউ কথা বলতে রাজি হন নি। 
তবে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এগুলো মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সেতুর উপর পারাপারের সময় সব ধরনের গাড়ির গতি বেড়ে যায়। মূলত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে আপাতত গতিরোধক বসানো হয়েছে।’ 

এদিকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে স্পিড র‌্যাম্পিং স্ট্রিপ (গতিরোধক) বসানোয় সেতু থেকে নামার সময় দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারগামী যানবাহনের জটলা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চালকরা জানান, সেতু থেকে নামার সময় অনেকগুলো গতিরোধক দেওয়ার কারণে প্রতিবারই বাস কিংবা পণ্যবাহী ভারী যানবাহন ব্রেক চাপতে থাকলে আরও বেশি ঝুঁকির তৈরি হবে। এখন যানবাহনের গতি বেশি থাকলেও তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেমে যাচ্ছে। নামার সময় গতিরোধক থাকায় তাতে আরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে বলে মন্তব্য করেন চালকরা। 

এদিকে যাত্রীরা জানান, গতিরোধকগুলো অতিক্রম করার সময় তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন বয়স্ক ও প্রসূতি নারীরা। যার ফলো রোগী ও প্রসূতি মায়েদের বেশি দুভোর্গ পোহাতে হবে।
মেজর সিনহা হত্যাঃ কুখ্যাত ওসি প্রদীপ-ইন্সপেক্টর লিয়াকতের মৃত্যুদন্ডে রায়; মেজর সিনহা; ওসি প্রদীপ; কুমার দাস; ইন্সপেক্টর লিয়াকত; আলী; টেকনাফ; বাহারছড়া; কক্সবাজার; কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ; সমুদ্র সৈকত; পুলিশ; সেনাবাহিনী; চেকপোস্ট; এসএসএফ; Major Sinha, OC Prodip, Inspector Liakot; SSF; Special Security Force; Army; Bangladesh Army; Bangladesh Police; Teknaf; Coxsbazar; Marine Drive; Bangladesh
মেজর সিনহা হত্যাঃ কুখ্যাত ওসি প্রদীপ-ইন্সপেক্টর লিয়াকতের মৃত্যুদন্ডে রায়

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় হত্যাকারী কুখ্যাত ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাস ও ইন্সপেক্টর (বরখাস্ত) লিয়াকত আলীর মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। 

এ মামলার বাকি ১৩ আসামির মধ্যে ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সাতজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। 

আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে এ রায় ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈল। ৩০০ পৃষ্ঠার রায় ঘোষণাকালে এজলাসে উপস্থিত ছিলো ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাস ও ইন্সপেক্টর (বরখাস্ত) লিয়াকত আলী সহ ১৫ আসামী। 
রায়ে বিচারক বলেন, ‘মেজর সিনহা হত্যার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাসের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে গুলি করে আসামী লিয়াকত আলী। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সিনহাকে দেরিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’  

রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত ও বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব এবং টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মোঃ নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। 

খালাসপ্রাপ্তরা হলো- বরখাস্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এপিবিএনের বরখাস্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মোঃ রাজীব ও মোঃ আবদুল্লাহ। 

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নির্দেশে মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে, পরে ওসি প্রদীপ মেজর সিনহার গলায় পা দিয়ে হত্যাকান্ড ‍নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফে দুটি ও রামুতে একটি মামলা করে। ঘটনার পাঁচ দিন পর ০৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ পুলিশের নয় সদস্যের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। চারটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি ফরিদুল আলম জানান, এ মামলায় আট দফায় ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। এরপর ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। নির্মম ও আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ মাসের মাথায় রায় ঘোষণা হলো। বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে মাত্র ৩৩ কার্যদিবসে শেষ হয়েছে মামলাটির পরবর্তী কাজ।
তিনি আরো বলেন, ‘ওসি প্রদীপ একজন নরপিশাচ। সে মাদক নির্মূলের নামে ক্রসফায়ার দিয়ে ২০৪ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। অপকর্ম জেনে ফেলায় মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে ওসি প্রদীপ, যা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আশা করি প্রদীপ-লিয়াকতসহ জড়িত সব আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন আদালত।’  

অন্যদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ নেতা এডভোকেট রানা দাসগুপ্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে এই ঘটনায় নির্দোষ দাবি করেছেন। 

রায়ের আগে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের ফাঁসির দাবিতে টেকনাফ থানার আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেন ওসি প্রদীপের গুম-খুনের শিকার ভুক্তোভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে তারা জানান, প্রদীপ কুমার দাস টেকনাফ থানার ওসি থাকাকালে ক্রসফায়ারের নামে ১৪৫ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এছাড়া নিরীহ লোকজনকে হয়রানি, ধর্ষণ ও অপহরণসহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকারে হলেও কোন প্রতিকার পায়নি ভুক্তভোগীরা। তাই তারা মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ওসি প্রদীপের হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তাফা খান, ভুক্তভোগী হামজালাল ও ক্রসফায়ারে ছেলে হারানো হালিমা খাতুনসহ আরও অনেকে।

ক্রসফায়ারের নামে ওসি প্রদীপের নৃশংসতা

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম আসামী বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস। টেকনাফ মডেল থানায় যোগদানের পর থেকে মাদক নির্মূলের আড়ালে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করা শুরু করে। অবৈধভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন করতে থাকে। কিছু দিন যেতে না যেতেই তাকে টাকার নেশায় পেয়ে বসে। ইয়াবা ব্যবসায়ী ছাড়াও আর্থিকভাবে সচ্ছল নিরীহ পরিবারগুলোকে টার্গেট করে ওসি প্রদীপ। এর পর তাদের একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে, কথিত ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহিভূর্ত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে রাতারাতি বিপুল অর্থবিত্তেরও মালিক বনে যায় কুখ্যাত ওসি প্রদীপ। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে দাখিল করা সিনহা হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে এসব লোমহর্ষক তথ্য উঠে এসেছে। 

কক্সবাজারের মহেশখালী থানা থেকে ২০ অক্টোবর ২০১৮ সালে ওসি হিসেবে টেকনাফ মডেল থানায় যোগ দেয় প্রদীপ। ওসি প্রদীপ টেকনাফ থানায় যোগদানের পর তার নেতৃত্বে ও নির্দেশে শতাধিক বন্দুকযুদ্ধের নামে বহুলোককে হত্যা করা হয়। প্রদীপের অপরাধ প্রক্রিয়া ছিল কোনো ঘটনায় মাদক উদ্ধার হলে অথবা টার্গেট কোনো ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে ফাঁসানো হলে (ফিটিং মামলা) প্রথমত আসামী বা ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এর পর স্থানীয় কিছু শ্রেণির লোকজনসহ তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের জন্য দেনদরবার করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ক্রসফায়ার না দেওয়ার শর্তে আদায় করা হতো। প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ আশানুরূপ বা চাহিদা অনুযায়ী হলে ভিকটিমকে ক্রসফায়ারে না দিয়ে মাদক উদ্ধার দেখিয়ে ওই ব্যক্তির বা আসামীর আত্মীয়স্বজনদের মামলার আসামী করা হতো। এ ক্ষেত্রে নারী, বৃদ্ধ, কিশোর-কিশোরী কেউ তার আক্রোশ থেকে রেহাই পেত না। এমনকি নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নও করা হতো বলে তদন্তে জানা যায় এবং এ ব্যাপারে বিজ্ঞ আদালতে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। 
এরপর শুরু হতো তার অন্যরকম অবৈধ অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া। তার দায়ের করা মামলার কথিত এজাহারে বর্ণিত আসামীদের ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ আসামীর সৃজিত সম্পত্তি বেদখল করে এবং ভয় দেখিয়ে মামলা প্রতি লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করাই ছিল তার নেশা ও পেশা। এ কাজ করার জন্য ওসি প্রদীপ তার সমমনা পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নিজস্ব পেটুয়া ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে। 

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, প্রদীপের এ ধরনের অপরাধকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। যারা ন্যূনতম প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছেন, তারা এবং তাদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়স্বজন তার অত্যাচার, নিপীড়নসহ মামলা-হামলার শিকার হতো। ওসি প্রদীপ টেকনাফ মডেল থানায় যোগদান করেই স্থানীয় কিছু দালাল শ্রেণির লোকজনের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে। মাদক নির্মূলের অজুহাতে ও নিজেকে সরকারের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক দেখানোর আড়ালে জনগণের তোয়াক্কা না করে, পুরো থানা এলাকায় এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করে, সমাজ ও জনপদে ত্রাস সৃষ্টি করে অপরাধের অভয়ারণ্য ও অপরাধকর্মের রামরাজত্ব কায়েম করে।
 
তার এ ধরনের অপরাধকর্মের প্রচার ও প্রসার রোধে আসামী প্রদীপ কুমার দাস ও তার দলবল স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানোর মাধ্যমে মুখ বন্ধ করে রাখতো বলে জানা যায়। এতেও কাজ না হলে ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শনসহ মামলায় জড়িয়ে কণ্ঠরোধ করা হতো। তার কুকর্মের বিষয়ে কেউ যাতে সংবাদ সংগ্রহ করতে এবং প্রচার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রদীপ কুমার দাস ছিলো সোচ্চার ও সতর্ক এবং এ ধরনের লোকজনের তথ্য সংগ্রহের জন্য সে তার থানায় এলাকাভিত্তিক সোর্স নিয়োগ করে রাখতো।
ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে : রাষ্ট্রপতি; রাজনীতি; জাতীয় সংসদ; করোনা; সারাদেশ; Politics; Parliament; Corona; Covid19
ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে : রাষ্ট্রপতি

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ধর্মের নামে যাতে কোনো গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। 

আজ রোববার জাতীয় সংসদে চলতি বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নীতির কারণে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের জন্য একটি রোল মডেল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে সম্প্রীতি সহকারে স্ব-স্ব ধর্ম চর্চা করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।” 

তিনি আরো বলেন, “মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। এই সম্প্রীতি যাতে কেউ বিনষ্ট না করতে পারে সেটিকে সকলের সজাগ ‍দৃষ্টি রাখতে হবে।” 

উল্লেখ্য, সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।  রোববার স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সাদর সম্ভাষণ জানান।

করোনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন, “সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম। প্রধানমন্ত্রীর সাহসী, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় আমরা এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস এবং এর অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছি।”

করোনাঃ ১৩ জানুয়ারী থেকে বিধিনিষেধ-মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক-আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন; করোনা; করোনা ভাইরাস; করোনা ভ্যাকসিন; কোভিড-১৯; Covid-19; Covid; Corona; Vaccine
করোনাঃ ১৩ জানুয়ারী থেকে বিধিনিষেধ-মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক-আসনের অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনসহ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগামী ১৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার থেকে সারাদেশে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। 

আজ সোমবার ১০ জানুয়ারী সন্ধ্যায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিধিনিষেধ সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এই রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৩ জানুয়ারি হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে নিম্নবর্ণিত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলোঃ- 

১। দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

২। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে ব্যতায় রোধে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে।

৩। রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ এবং আবাসিক হোটেলে থাকার জন্য অবশ্যই করোনা টিকার সনদ প্রদর্শন করতে হবে। 

৪। ১২ বছরের উর্ধ্বে সব ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

৫। স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পোর্টসমূহের ক্রুদের জাহাজের বাইরে আসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। স্থলবন্দরগুলোতেও আগত ট্রাকের সঙ্গে শুধুমাত্র ড্রাইভার থাকতে পারবে। কোনো সহকারী আসতে পারবে না। বিদেশগামীদের সঙ্গে আসা দর্শার্থীদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। 

৬। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকারিতার তারিখসহ সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।

৭। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক কোভিড-১৯ টিকা সনদ প্রদর্শন ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে।

৮। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানের বিষয়ে সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামরা সংশ্লিষ্টদের সচেতন করবেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ এ বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

৯। সর্বসাধারণের করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রচার এবং উদ্যোগ নেবে। এক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেবে।

১০। করোনায় আক্রান্তের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ায় উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশসমূহ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হবে। 

১১। কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন

রাত পোহালেই পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের নির্বাচন; ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন; নির্বাচন কমিশন; ইভিএম; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; Union; Election; Up Election; Election Commission; Local Government
রাত পোহালেই পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের নির্বাচন


ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ রাত পোহালেই পটিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নির্বাচন। ২৬ ডিসেম্বর ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পটিয়ার ১৭ ইউনিয়নের - শোভনদন্ডী, বড়লিয়া ও দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিনাভোটে চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। এসব ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদ সহ বাকি ১২টি ইউনিয়নে ব্যালট পেপারে এবং ২টি ইউনিয়ন- হাবিলাসদ্বীপ, কুসুমপুরা ইউনিয়নে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

পটিয়ার ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, কোলাগাঁও, কাশিয়াইশ, আশিয়া, কুসুমপুরা, জিরি, জঙ্গলখাইন, বড়লিয়া, ধলঘাট, হাবিলাসদ্বীপ, হাইদগাঁও, কেলিশহর, কচুয়াই, খরনা, শোভনদন্ডী, ভাটিখাইন, ছনহরা এবং দক্ষিণ ভূর্ষি। 

ইউনিয়নগুলো ১৬০ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০০ টি কেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন ও পটিয়া উপজেলা প্রশাসন। যার মধ্যে কুসুমপুরা, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, জঙ্গলখাইন, ছনহরা, কচুয়াই, হাইদগাঁও, ধলঘাট, খরনা, জিরি, কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের ৫০টি ভোটকেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরাফাত আল হোসাইনী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নে নির্বাচনের জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। নির্বাচন গ্রহণে যতটুক প্রস্তুতি দরকার তা আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি। নির্বাচনী সামগ্রীসহ ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। এলাকাগুলোতে ব্যালট পেপার বন্টন শুরু হয়েছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত-খুনের মত ঘটনা ঘটেছে। পটিয়া উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণে একটি ভোট উৎসব প্রত্যাশা করা হলেও এটি উৎসবের হবে, নাকি শঙ্কার?? তা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন স্থানে পাল্টাপাল্টি এক পক্ষের আরেক পক্ষের উপর হামলা-ভাঙচুরে ভোটের দিন অবাধ, সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাচনের অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থিত প্রার্থী, বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এ ধরনের সহিংসতার জন্য একে অন্যকে দোষারোপ করেছে। তাছাড়াও আধিপত্য বিস্তার, বহিরাগত প্রবেশ ইত্যাদি নানা কারণে সংঘর্ষ-সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনকে ঘিরে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্যান্য সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ভয়েস অব পটিয়া’কে বলে, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সরঞ্জাম পৌঁছানো হচ্ছে। তবে ব্যালট পেপার যাবে ভোটগ্রহণের দিন ভোরে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’ 

পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি কাজী ইয়াকুবের মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলী; অলি আহমদ; কর্ণেল অলি; এলডিপি; LDP; Colonel Oli; পটিয়া; চট্টগ্রাম; জেলা; Patiya; Chattogram; Chittagong
পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি কাজী ইয়াকুবের মৃত্যুবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধাঞ্জলী


ভয়েস অব পটিয়া-সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ পটিয়া পৌরসভা এলডিপির সাবেক সভাপতি মরহুম কাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন পটিয়া এলডিপির নেতাকর্মীরা।

গত ০৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে সাবেক এ নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পটিয়া উপজেলা ও পটিয়া পৌরসভা এলডিপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে কচুয়াই ইউনিয়নাধীন মরহুমের কবরে কবর জিয়ারত, পুষ্পমাল্য অর্পন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভা এলডিপি নেতা নজরুল ইসলাম, আসিফ হুদা, শাহ আলম, পটিয়া উপজেলা এলডিপি নেতা খোরশেদ আলম, গণতান্ত্রিক যুবদল পটিয়া পৌরসভার সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান, গণতান্ত্রিক যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলী, নাঈম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল নেতা তানিম, ইরফান, মিনহাজ, রবি প্রমুখ।

নেতাকর্মীরা মরহুম কাজী ইয়াকুবের দলের প্রতি অবদান ও তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় পটিয়া পৌরসভা এলডিপি নেতা আসিফ হুদা বলেন, ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য ডক্টর কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম এলডিপি প্রতিষ্ঠা করে যে রাজনীতির ধারার সূচনা করেছিলেন সেই রাজনীতিকে পটিয়ায় ধরে রাখতে কাজী ইয়াকুব এর অবদান অনস্বীকার্য।’
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়; BUET; Bangladesh Government; Chatrolig; Pro-gov party; ছাত্রলীগ; সন্ত্রাসী; রাজনীতি; ইসকন; ইস্কন সন্ত্রাসী; ISKCON
আবরার হত্যাকান্ডে জড়িত ২৫ হত্যাকারীর মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

গত ‍দু’বছর আগে দায়ের করা এ মামলায় হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযুক্ত ২৫ আসামী দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান বুধবার এ রায় প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, আসামীদের সবাই বুয়েট শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে গ্রেফতারকৃত ২২ জনের উপস্থিতিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করে; যাদের মধ্যে বাকি ৩ জন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৫ আসামীরা হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মুজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৫ আসামী হচ্ছেঃ বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)। পলাতক ৩ জন এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাহমুদুল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) এবং মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল)। 
 
স্বীকারোক্তি দেয়া ৮ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, এ এস এম নাজমুস সাদাত এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
পিটানোতে সরাসরি জড়িত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং খন্দকার তাবাখ্খারুল ইসলাম তানভীর। 
 
ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ১১ আসামী হচ্ছেঃ মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ এবং মুজতবা রাফিদ। 
আবরার হত্যাকান্ডে দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা

মামলার বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। এই রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, এটাই তার প্রত্যাশা। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন, পুরো রায় দেখে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা। 

যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়
যে ফেসবুক পোস্টের কারণে আবরারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়

২০১৯ সালের ০৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ফেসবুকে দেশমাতৃকার পক্ষে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনা ঘটানোর সময় নিষ্ক্রিয় ছিল বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দায়িত্বে থাকা প্রভোস্টসহ সমগ্র বুয়েট প্রশাসন। সেই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি। 

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়েছিল। দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৪ নভেম্বর বিচারক এ মামলার রায়ের জন্য ২৮ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন জানিয়ে এ মামলার রায় পিছিয়ে ০৮ ডিসেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন বিচারক।