"জ্বালানী" ক্যাটাগরীর সকল আর্টিকেল
Showing posts with label জ্বালানী. Show all posts
চট্টগ্রামে এলএনজি এপ্রিলেইঃ যুক্ত হচ্ছে পটিয়ার শিল্পকারখানাতেও; পটিয়া; চট্টগ্রাম; মহেশখালী, কক্সবাজার, Patiya; Chittagong; Chattogram; Moheskhali, Coxsbazar
চট্টগ্রামে এলএনজি এপ্রিলেইঃ যুক্ত হচ্ছে পটিয়ার শিল্পকারখানাতেও

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ আগামী ২৫ এপ্রিল নগরীতে প্রবেশ করছে এলএনজি (Liquefied Natural Gas বা তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস)। এতে বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে গ্যাস সমস্যায় ধুঁকতে থাকা অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রামবাসী। 
গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প কারখানায় ও আবাসিকে সংযোগ বন্ধ থাকায় পিছিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম। এলএনজি গ্যাস আসার সাথে সাথে সবার আগে গ্যাস সংযোগ পাবে শিল্প ও অ্যাকটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট। ইতিমধ্যে এ দুই খাতে গ্যাস সংযোগের ডিমান্ড নোটও দেয়া হয়েছে।

এলএনজি আলাদা কোন জ্বালানি নয়, আদতে এটি প্রাকৃতিক গ্যাসেরই তরল রূপ। প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। শীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপমাত্রা কমিয়ে -১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই এলএনজি বলা হয়। পরিবহনের সুবিধার্থে এক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে এলএনজি তৈরি করা হয়। এলএনজির প্রধান উপাদান হচ্ছে মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরিত করার সময় মিথেন বাদে অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান যেমন ধূলিকণা, এসিড, হিলিয়াম, পানি, অপেক্ষাকৃত ভারী হাইড্রোকার্বন, নাইট্রোজেন ইত্যাদি দূর করা হয়; যার ফলে অন্য অনেক জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে এলএনজি ব্যবহারে দূষণ কম হয়।

তবে এলএনজি এলেও এর দাম কতো হবে তা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে। এলএনজি আসার আগে থেকেই বলা হচ্ছে এ গ্যাসের দাম বেশি পড়বে। আর চট্টগ্রামে এর সংযোগ দেয়া হবে বলে এখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। 
এ বিষয়ে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এলএনজি আসবে ভাল কথা, কিন্তু এর মূল্য কি হবে? চট্টগ্রামের জন্য এক রেট এবং বাইরের এলাকার জন্য আরেক রেট হলে হবে না। সারাদেশের জন্য একই রেট হতে হবে। অন্যথায় শিল্পপণ্য উৎপাদনে পিছিয়ে পড়বে চট্টগ্রামের শিল্প মালিকরা।’

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়ে কথা হয় কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মনজুরুল হকের সাথে, তিনি বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও মহেশখালী দিয়ে আসা এলএনজি দুটো একসাথে মিলিত হয়ে পাইপ লাইনে সরবরাহ করা হবে। তাই সারাদেশে গ্যাসের দরের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য হবে না। চট্টগ্রামে যে দর হবে, অন্যান্য এলাকায়ও একই দর হবে।’
কতো দর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপাতত শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটারে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা হতে যাচ্ছে। আর এই দর সারা দেশের শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারের ক্ষেত্রে একই হবে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে শিল্প ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস গ্রাহকের কাছে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৭ টাকা ৪২ পয়সা ও ৭ টাকা ৪৬ পয়সা দরে। তবে আবাসিক বা অন্য খাতগুলোতে আগামীতে কি দর হবে তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে কর্ণফুলী গ্যাসের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান।

আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে এলএনজি প্রবেশ করলেও তা নিয়ে কর্ণফুলী গ্যাসের কি পরিকল্পনা সম্পর্কে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ‘১৫০ কোটি টাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বিদ্যমান গ্যাসের মেইন চাপের পাইপলাইনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। একইসাথে পটিয়ার শিকলবাহা ও কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড় এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করতে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের একটি নতুন পাইপ লাইন বসানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় দিনে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।’

বর্তমানে চট্টগ্রামে দিনে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০৭ থেকে ২০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির সেমুতাং থেকে প্রায় দুই মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বাইরে পুরো গ্যাসই আসে জাতীয় গ্রিড থেকে। এখন মহেশখালীতে স্থাপন করা এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) থেকে দিনে আসবে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
তখন গ্যাসের সমন্বয় কিভাবে করা হবে সে সম্পর্কে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মনজুরুল হক বলেন, ‘তখন আমরা জাতীয় গ্রীড থেকে গ্যাস নিবো না। আর আমাদের এখানে উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের পুরোটা আমরা একসাথে নগরীর পাইপ লাইনে যুক্ত করবো না, পর্যায়ক্রমে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে বাড়ানো হবে। তবে এতটুকু বলা যায় ২৫ এপ্রিল এলএনজি প্রবেশের সাথে সাথে নগরীতে গ্যাসের যে সঙ্কট আছে তা আর থাকবে না।’

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মহেশখালীর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘আগামী এপ্রিলে চালু হচ্ছে এলএনজি গ্যাস।’

উল্লেখ্য, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় এলএনজি ছাড়া গ্যাস সমস্যা সমাধানের কোনো অপশন নেই। আর এ জন্যই এলএনজি গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১০ সালে নেয়া প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০১৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের সাথে। সেই চুক্তির আলোকে মহেশখালীতে ভাসমান এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে গ্যাস আসবে জাতীয় গ্রীডে।

গত বছর পাইপ লাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হওয়া এফএসআরইউ স্থাপনের কাজ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। আর তা শেষ হলেই জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন যুক্ত হবে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। 
কাতার থেকে আমদানি করা তরল গ্যাসকে কক্সবাজারের মহেশখালীর সাগর উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে সাগরবক্ষে ভাসমান এফএসআরইউ গ্রহণ করবে। সেখান থেকে সাগরের তলদেশ দিয়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এলএনজি চলে আসবে স্থলভাগে। রূপান্তরিত গ্যাস ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ লাইনের মাধ্যমে মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত চলে আসবে। আনোয়ারা থেকে একটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গ্যাসের প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে নগরীতে প্রবেশ করবে এ গ্যাস।
অবশেষে পটিয়া-বাঁশখালী-সীতাকুন্ডের পাহাড়ের গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ; বুদবুদিছড়া; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
অবশেষে পটিয়া-বাঁশখালী-সীতাকুন্ডের পাহাড়ের গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ; বুদবুদিছড়া গ্যাসক্ষেত্র

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ ৬৩ বছর পর এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালীর জলদিসহ সীতাকুণ্ডের সীতাপাহাড় ও কাছালংয়ের আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের প্রাথমিক জরিপ কাজ শেষে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

চট্টগ্রামের ২২এ, ২২বি ব্লকের চারটি গ্যাসক্ষেত্র যথাক্রমে- পটিয়ার বুদবুদি ছড়া, বাঁশখালীর জলদি, সীতাকুণ্ডের সীতাপাহাড় ও কাছালং।

বাপেক্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) আতিকুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘চট্টগ্রামের ২২এ ও ২২বি ব্লকের চারটি গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলেই এই গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।’

২০০৮ সালে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর জলদি ও পটিয়ার হাইদগাঁও গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দেশে পুনরায় শুরু হয় জরিপ কাজ। পর্যায়ক্রমে ২০১২ সালের শেষদিকে প্রাথমিক জরিপ কাজ শেষ করে বাপেক্স।পরবর্তীতে আবারও বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল জরিপ কাজ চালায়। বাপেক্সের এই জরিপের ওপর নির্ভর করে বর্তমান সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এই গ্যাসক্ষেত্রেগুলোর গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে জানা গেছে।

১৯৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁওয়ের পাহাড়ি এলাকার শ্রীমাই বুদবুদিছড়া নামক স্থানে প্রথম এই গ্যাসক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। ওই বছর থেকেই পর্যায়ক্রমে কয়েক দফা প্রাথমিক জরিপ ও খনন কাজ চালানো হয় এবং গ্যাস প্রাপ্তির দ্বারপ্রান্তে এসে ১৯৫৩ সালের দিকে খননকৃত গ্যাস কূপের নাভিপথে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সীসা ঢালাই করে দেয় সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ বিদেশি কোম্পানিটি।

পটিয়ার হাইদগাঁওয়ে অবস্থিত বুদবুদিছড়া গ্যাসক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়বেষ্টিত গ্যাসক্ষেত্রে পূর্বে খননকৃত স্থান থেকে অনবরত গ্যাস বের হচ্ছে, যাতে একটু আগুন লাগালেই ঝলছে। তাছাড়া ওই গ্যাসক্ষেত্রের পাহাড়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছড়ার পানিতে বুদবুদ করে গ্যাস বের হতে দেখা গেছে।

১৯৬০ সালে বাঁশখালীর জলদির আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্রের গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ও কোরিয়া এবং রাশিয়ার সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ দল। ঐ দলটি প্রাথমিক জরিপ কাজ চালিয়ে উক্ত এলাকায় খনন করে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলও পায়। এ সময় বিশেষজ্ঞ দলটি তেল ও গ্যাস প্রাপ্তির সম্ভাবনা সংবলিত একটি রিপোর্টও তৎকালীন সময়ে জমা দেয়।