দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন তিনি। 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস। 

এর আগে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। 

সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রীসভার শপথ অনুষ্ঠিত হলেও এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি হচ্ছে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। জানা গেছে, আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে৷ 

প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পর বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ২৫ জন। শপথ পাঠ করা ২৫ জন হলেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। 

সেই সাথে শপথ নেওয়া ২৪ প্রতিমন্ত্রী হলেন— এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসির খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ও গণভোটের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) মধ্যরাতে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়ানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে স্পিকার পদত্যাগ করেছেন, ডেপুটি স্পিকার কারাগারে রয়েছেন। সরকার বলছে, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি বা সিইসি শপথ পাঠ করাবেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মহাসচিব বলছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার গঠন হবে।
তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দ্রুতই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনোভাবেই ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারীর পর হবে না।

এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি। নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তাদের জোটের শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াত জোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। 

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা দুই বিষয়ে শপথ নেবেন- একটি জাতীয় সংসদ ও অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। গণভোটে সংস্কারের পক্ষে গণরায় এসেছে। এটা জুলাইয়ের স্বীকৃতি। ১৬ বছরের অনাচারের বিরুদ্ধে জনআকাঙ্খার প্রকাশ। রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই ঘোষণাপত্রে যা যা রয়েছে, জাতীয়, সংবাদ, সারাদেশ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, হাসিনা পতন, স্বৈরাচার পতন, ইউনুস
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর  ড. মুহাম্মদ ইউনুস। এতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা স্তরের মানুষ। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালিত হয়।


জুলাই ঘোষণাপত্রটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলোঃ

১।  যেহেতু উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল;  

এবং

২।  যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে;

এবং

৩।  যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রনয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করেছিল; 

এবং

৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়,

এবং

৫।  যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। 

এবং

৬। যেহেতু দেশী-বিদেশী চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়;  

এবং

৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়;

এবং

৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে;

এবং

৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে; 

এবং

১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে;

এবং

১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবত নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়;

এবং

১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশী রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে;  

এবং

১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে; 

এবং

১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারী চাকুরীতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরী প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়; 

এবং

১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়; 

এবং

১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়; 

এবং

১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগনিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে; 

এবং 

১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে,  পরবর্তী সময়ে ৫  আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল,  ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণী, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়; 

এবং

১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; 

এবং

২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয়; 

এবং

২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়;

এবং

২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; 

এবং

২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; 

এবং

২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গনঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। 

এবং

২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুত প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।

এবং 

২৬। সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ু সহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে। 

এবং 

২৭। বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

এবং

২৮। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রনয়ণ করা হলো। 

দেড়যুগ পর ঈদগাহে সরকার প্রধান, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান
ঈদের জামাত শেষে জনতার সাথে করমর্দন-কুশল বিনিময় করেন ড. মুুহাম্মদ ইউনুস 

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ প্রায় দেড় যুগ পর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নিলেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। 

সোমবার সকাল সোয়া ৮ টার দিকে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

মানুষের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়েছে,‌ সব প্রতিকূলতার সত্ত্বেও সেই ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশকে আমরা পেয়েছি, তা ধরে রাখতে সবার মধ্যে আরও কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। 
ঈদের জামাত শেষে উৎসুক জনতার সাথে করমর্দন-কুশল বিনিময় করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুুহাম্মদ ইউনুস।
চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর
চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে। 🌙 ঈদ মুবারক। 

আজ রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন সেখানকার জেলা প্রশাসক। 
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্ব আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক বৈঠকে বিভিন্ন জেলায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার তথ্য পর্যালোচনা করে সোমবার ঈদ পালনের ঘোষণা দেয়া হয়।
আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধে এত প্রেম-পিরীতি কেন? ; আওয়ামীলীগ; Awami League; কর্ণেল অলি; Colonel Oli; Ziaur Rahman; LDP
আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধে এত প্রেম-পিরীতি কেন? কর্ণেল অলি আহমদ বীরবিক্রম

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধে এত প্রেম-পিরীতি কেন? প্রশ্ন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্ণেল অলি আহমদ বীরবিক্রমের। 

১৫ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস কমিশনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের এক বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার এবং উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধির কাছে এ প্রশ্ন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণহত্যা চালানো-দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে গণতন্ত্র ধ্বংস করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায়ে আওয়ামী লীগকে এখনো নিষিদ্ধ না করে প্রেম-পিরীতি কেন বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্ণেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। 

জুলাই-আগস্ট বিপ্লব-শহীদদের খসড়া তালিকা প্রকাশ; জুলাই বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, July Revolution, Sheikh Hasina
জুলাই-আগস্ট বিপ্লব-শহীদদের খসড়া তালিকা প্রকাশ

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮৫৮ ও আহত ১১ হাজার ৫৫১ জন ব্যক্তির প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আজ শনিবার তথ্য অধিদফতরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

তথ্য অধিদফতরের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন করার মতো যুক্তিসংগত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ই-মেইল muspecialcell36@gmail.com-এ জানাতে অনুরোধ কছে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল।’

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত শহীদদের নামের খসড়া তালিকা প্রকাশ করে সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তালিকায় মোট ৭০৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। এই তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে বলে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। 
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ -এ সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের নামের খসড়া তালিকা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় প্রকাশিত নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই, সংশোধন ও পূর্ণাঙ্গ করতে শহীদ পরিবারের সদস্য, ওয়ারিশ বা প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত, পরামর্শ এবং নতুন কোনো তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করার মতো থাকলে তা সেবা গ্রহণকৃত সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল অথবা নিকটস্থ সরকারী হাসপাতালে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 

এছাড়াও সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে যদি কারো নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়ে থাকে তাহলে শহীদ পরিবারের সদস্য, ওয়ারিশ বা প্রতিনিধিরা উপযুক্ত প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে আইনজীবীকে জবাই করে হত্যা করলো হিন্দু জঙ্গী সংগঠন ইসকন; চট্টগ্রাম; আদালত; হিন্দু সন্ত্রাসী; Chittagong; Court; Lawyer; Isckon; hindu; hindu terrorist; isckon terrorist; hindu killed muslim; mosque
চট্টগ্রামে আইনজীবীকে জবাই করে হত্যা করলো হিন্দু জঙ্গী সংগঠন ইসকনের সন্ত্রাসীরা

ভয়েস অব পটিয়া-চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রামে দিনভর তান্ডব-হামলা-ভাঙচুরের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে হিন্দুত্ববাদী ইসকনের কতিপয় কর্মী-সমর্থক সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রপক্ষের এক আইনজীবীকে জবাই করে হত্যা করেছে।  
হত্যার শিকার আইনজীবীর নাম সাইফুল ইসলাম আলিফ (৩৫)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন। 

হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার চট্টগ্রাম আদালতে মামলার শুনানির জন্য তোলা হলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে পাঠানোর পথে তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আটকে দেয় তার অনুসারী সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট-ইসকন কর্মীসমর্থকরা। এ সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্রিজন ভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের উপর হামলা চালায় তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই হামলার প্রতিরোধ করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় হিন্দুত্ববাদী ইসকনের কতিপয় সন্ত্রাসীরা, ভাঙচুর চালায় মসজিদেও। হামলা-ভাঙচুরের এক পর্যায়ে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুলকে চেম্বারের নিচ থেকে ধরে নিয়ে আদালতের মূল ফটকের সামনে রঙ্গম কমিউনিটি সেন্টারের গলিতে জবাই করে হত্যা করে। 

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিবেদিকা ঘোষ।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চট্টগ্রামের আদালতে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের হামলা-সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহত ৬-৭ জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সরওয়ার হোসেন লাভলু বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট-ইসকন সন্ত্রাসীরা আদালতে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা এক আইনজীবীকে জবাই করে ও পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।’

Published on
11/26/24 6:11 PM