ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে এই দখলের মহোৎসব চালাচ্ছে।

পটিয়ায় রাতারাতি অবৈধভাবে সরকারী জায়গা দখল করে স্থাপনা

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ পটিয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কোটি টাকার জায়গা রাতারাতি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করে এই দখলের মহোৎসব চালাচ্ছে।

সওজের পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি অভিযোগ করলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনার নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়নি।

পটিয়া পৌর সদরে সওজের কোটি টাকার জায়গা দখলের ঘটনায় সরকারের যেমন ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে তেমনি বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

পটিয়া ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, বি.এস জরিপ ৩নং খতিয়ানে জায়গাটির মালিকানার বেশকিছু অংশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের। সওজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে সওজের বেশ কিছু পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। এসব জায়গা এতদিন খালি পড়ে থাকলে পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন আর্বজনা ও মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক মদদপুষ্ট একটি প্রভাবশালী মহল ভুয়া টেন্ডার আহ্বান করে সওজের কোটি টাকার জায়গা রাতারাতি অবৈধ দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ২৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে পটিয়া উপজেলা পরিষদ অভিমুখে সড়কের বাম পাশে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে সওজ অধিদপ্তরের হুকুমদখলীয় ভূমি, ভূমিদস্যুরা জনৈক ইসরাত হোছাইন গংকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ কর্তৃক লিজ দেওয়া হয়েছে মর্মে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। বরংচ এই জায়গা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যার জায়গার পরিমাণ ৩৬ শতক। 
এ ব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, পটিয়া একটি ঐতিহ্যবাহী এবং জনবহুল এলাকা। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং এর সামনের খালি জায়গাগুলি সুচক্রদন্ডী মৌজায় অবস্থিত। এ জায়গার আর.এস. রেডকিয় মালিক ছিলেন ডা. আমিনুর রহমান এবং গোলামুর রহমান, পিতা আকবর আলী মুন্সি। এরশাদ সরকারের আমলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করার জন্য জায়গাটি অধিগ্রহণ করা হয় এবং কিছু জায়গা সওজ অধিগ্রহণ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গা খালি ও তৎসংলগ্ন এরিয়ায় ডোবা থাকলে পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সেখানে যানবাহন রাখার জন্য ময়লা আর্বজনা দিয়ে উক্ত জায়গাটি ভরাট করে। সরকারী হাসপাতালের সামনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলে হাসপাতালের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে এবং সৌন্দর্য নষ্ট হবে। 

এদিকে, পটিয়া পৌরসভার অনুমতি না নিয়ে রাতের অন্ধকারে স্থাপনা নির্মাণ করায় ইসরাত হোছাইন গংকে কাজ বন্ধ রাখার জন্যও একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ জানান। 
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসভা এলাকাধীন সড়কের দুই পাশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ইসরাত হোছাইন গং কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গার উপর দিয়ে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের জন্য সওজ কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য দেবব্রত দাশ দেবু ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, একটি মহল জেলা পরিষদের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া টেন্ডারে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সামনে কিছু জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও সড়ক-জনপথ বিভাগের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিঞা বলেন, হাসপাতাল এলাকার ৩নং খতিয়ানে তাদের বেশ কিছু জায়গা রয়েছে। দীর্ঘদিন এই জায়গা খালি থাকলেও জেলা পরিষদের নামে ভুয়া একটি ইজারা দিয়ে জায়গা লিজ দিয়ে দিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ কাজ হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবিহত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা পরিষদকে ইতোমধ্যে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

পটিয়া সম্পর্কে জানতে আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে থাকুন।
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours

Note: Only a member of this blog may post a comment.