ভয়েস অব পটিয়াঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী ও তার পরিবারের সদস্যদের পুঁড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে প্রতিবেশীরা

করোনা পজিটিভ : পটিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীকে পুঁড়িয়ে মারার হুমকি; পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমপ্লেক্স; করোনা, করোনা ভাইরাস, কোভিড, কোভিড১৯, স্যানিটাইজার, কেরু এন্ড কোম্পানী, ফৌজদারহাট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিকাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিডেজ, বিআইটিআইডি; Corona, Corona Virus, Covid, Covid19, Sanitizer, Carew and Company; Bangladesh Institute of Tropical and Infectious Disease, BITID, IEDCR
ছবি: পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কমপ্লেক্স | © voiceofpatiya.com

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী ও তার পরিবারের সদস্যদের পুঁড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছে প্রতিবেশীরা।

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত।
করোনা পজিটিভ আসার পর থেকে প্রতিবেশীরা তাকে উপর্যুপরি হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে সোমবার (১১ মে) মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন ওই স্বাস্থ্যকর্মী।

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়ি পটিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ গৌবিন্দারখীল গ্রামের ছিবাতলী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। 
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোঃ জাবেদ বলেন, ‘করোনা পজিটিভ হওয়া স্বাস্থ্যকর্মী হুমকির বিষয়টি সম্পর্কে আমাদেরকে ফোনে অবহিত করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পটিয়া থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।’

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর পিতার সাথে কথা বললে তিনি জানান, করোনা শনাক্ত হওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় লকডাউন করার পর থেকে নিয়ম মেনে আইসোলেশনে আছে আমার ছেলে। রাত দেড়টার দিকে পাশের বাড়ির মাবিয়া খাতুন, আবদুর রহমান ও বাচাসহ কয়েকজন প্রতিবেশী আমার বাড়ির সামনে এসে চিৎকার-চেচামেচি ও গালাগাল করতে থাকে। তারা এলাকায় করোনা রোগী থাকতে পারবেনা বলে থাকলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানা জাহান উপমা বলেন, ‘আমরা আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বাড়িতে আইসোলেশন নিশ্চিত করে তাদের খাবার দিয়ে এসেছি, সেই সাথে প্রতিবেশীদেরও সহমর্মিতা দেখাতে অনুরোধ করেছি।’ 

আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই আমি আমার বাবার বাড়িতেই রয়েছি। আমার স্বামী বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত আমি সেখানে যাই নি। এর মধ্যে গত শনিবার আমার বাবার বাড়িতেও পাড়ার লোকজন এসে বাড়ির পেছনের দরজা তালাবদ্ধ করে দিয়েছে, যাতে আমরা ঘর থেকে বের হতে না পারি। সেই সাথে তারা আমাকে ও আমার পরিবারকেও নানা অপবাদ দিয়ে পুঁড়িয়ে মারার হুমকি দিয়ে শাসিয়ে যাচ্ছে। আমার স্বামী একজন স্বাস্থ্যকর্মী। মানুষের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। সেবা করা কি অপরাধ?’

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবাদাতা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ০৮ মে। ওই স্বাস্থকর্মী আক্রান্ত কোন রোগীর কাছ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনা পজিটিভ হওয়ার পর ০৮ মে শুক্রবার থেকেই ১৪ দিনের জন্য আইসোলেশনে রয়েছেন আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী। তবে এখনও কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক তার খোঁজ খবর নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।



জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংবাদসহ পটিয়া সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে থাকুন।
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours