ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ রাষ্ট্রায়াত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত লাল চিনি বিক্রি না হওয়ায় বেতনহীন মানবেতর জীবন যাপন করছেন চিনিকল শ্রমিকরা।

অবিক্রিত লাল চিনি, বেতন না পেয়ে শ্রমিকদের মানবেতর জীবন; রাজশাহী, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম, ভারত, বাংলাদেশ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, চিনি, আখ, রাষ্ট্রায়াত্ত মিল, সুগার মিল, brown sugar, sugar mill, white sugar

ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ রাষ্ট্রায়াত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত লাল চিনি বিক্রি না হওয়ায় গত ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না চিনিকল শ্রমিকরা। যার ফলে বেতনহীন মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে রাজশাহী-ঠাকুরগাঁওয়ের লাল চিনিকলে উৎপাদনকারী শ্রমিকদের।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে ৫৪ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে প্রায় ৩ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি টন চিনির মিল গেটে মূল্য ৬০ হাজার টাকা। কর্পোরেশনের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেসরকারি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের চিনির বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিনি বিক্রি না হওয়ার ফলে ৪ মাস ধরে বেতন বন্ধ শ্রমিকদের। যার ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে তারা।

বাংলাদেশ চিনি শিল্প কর্পোরেশনের ডিলাররা জানায়, ‘বেসরকারি চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর চিনি কেজি প্রতি মূল্য ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয়াত্ত চিনিকলের উৎপাদিত চিনির মিল গেট মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় আমরা অল্প পরিমাণে চিনি বিক্রির জন্য সরবরাহ করছি। বেসরকারি শোধনাগারের সাদা চিনি প্রতি গ্রাহকদের পছন্দ থাকায় বাজারে রাষ্ট্রীয় কলের উৎপাদিত লাল চিনির চাহিদা কম বলে মনে করছেন ডিলাররা। যার ফলে বেশিরভাগ চিনিই চিনিকলে অবিক্রিত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও আখ চাষি সমিতির সভাপতি ইউনুস আলী বলেন, ‘প্রতি বছর আখ সরবরাহ করার পর আখের মূল্য দিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যথাসময়ে আখের মূল্য পরিশোধ এবং বাজারে লাল চিনি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলে নতুন ভোক্তা তৈরি হবে, এতে কৃষক এবং মিলগুলোও লাভবান হবে।’

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের চিনি বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়। চিনি বিক্রির গতি খুব ধীর হওয়ায় তাদেরকে সময়মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে মানবেতন দিন কাটাতে হচ্ছে চিনিকল শ্রমিকদের। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিনিকলগুলোকে বাঁচাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চিনি তৈরির উপকরণের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়াতে হবে। যাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত চিনির বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চিনি বিক্রি করতে না পারে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় চিনিকল প্রতিষ্ঠানগুলোসহ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজার-হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকা রক্ষা পাবে’ বলেও মনে করেন তিনি।

সাদা চিনি খেয়ে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, লিভার বিকলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?

আসুন জেনে নিয়ে লাল চিনি ও সাদা চিনির মধ্যে পার্থক্য

•  লাল চিনি হলো সরাসরি আখ থেকে তৈরি অপরিশোধিত চিনি। লাল চিনিতে থাকে আখের সব উপাদান। যেমনঃ- শর্করা, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ, উপকারি অ্যামাইনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, থায়ামিন, রাইবোফ্লেবিন, ফলিক এসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি। 

লাল চিনির উপকারী কয়েকটি দিকঃ-
১) প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম থাকার কারণে লাল চিনি খেলে হাড় শক্তপোক্ত হয়। সেই সঙ্গে দাঁতের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। ক্যাভিটি এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কাও দূর হয়। 

২) আখের অ্যাটিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং শরীরের ভিতরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান বের করে দেয়। 

৩) লিভার সুস্থ রাখে। 

৪) জন্ডিসের প্রকোপ কমায়। 

৫) কোষ্ঠকাঠিন্যে দূর করে। 

৬) আখে থাকা অ্যালকেলাইন প্রপাটিজ গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 
৭) শরীরের মিনারেল তথা খনিজ পদার্থের চাহিদা পূরণ করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে যা স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। 

৮) শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু লাল চিনি রিফাইন বা পরিশোধন করতে গিয়ে ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন, এনজাইম এবং অন্যান্য উপকারি পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। চিনি পরিশোধন করতে ব্যবহার করা হয় সালফার এবং হাড়ের গুঁড়ো। 

সাদা চিনি বা রিফাইন করা চিনি যে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সে সম্পর্কে ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন এক গবেষণাপত্র বের করেছিলেন। 
ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন গবেষণাপত্রে বলেনঃ- ‘চিনি রিফাইন করে সাদা করার জন্য চিনির সাথে যুক্ত প্রাকৃতিক ভিটামিন ও মিনারেল সরিয়ে শুধু কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা রাখা হয়। কিন্তু শুধু কার্বোহাইড্রেট শরীর গ্রহণ করতে পারে না। মিনারেল ও ভিটামিনবিহীন কার্বোহাইড্রেট দেহের মধ্যে টক্সিক মেটাবোলাইট সৃষ্টি করে। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ফলে কোষ অক্সিজেন পায় না এবং অনেক কোষ মারা যায়।’

ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন গবেষণা লব্ধ ফলাফল প্রমাণ করে- রিফাইন করা চিনি খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। হার্ট ও কিডনী ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং ব্রেনের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। 

সাদা চিনির ক্ষতিকারক দিক 


১) যেহেতু পরিশোধনের সময় চিনির মিনারেল বা প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান দূর হয়ে যায়। তাই সহজেই বলা যায়, এতে করে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। নিউরন কোষগুলো ধীরে ধীরে মারা যায়। যা স্ট্রোক ঘটায়। 

২) ভিটামিন সরিয়ে ফেলায় শরীর পুষ্টি উপাদান পায় না। 

৩) সাদা চিনিতে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্রুক্টোজ থাকে। ফ্রুক্টোজ হজম করাতে সাহায্য করে লিভার বা কলিজা। কিন্তু অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভার হজম করাতে না পারায় লিভারে তা ফ্যাট আকারে জমা হয়। এতে করে লিভার ড্যামেজ বা লিভার নষ্ট হয়ে যায়।

৪) চিনি পরিশোধনে ব্যবহার হয় সালফার আর হাড়ের গুড়ো যা কিডনি বিকলাঙ্ক করে দেয়। 

৫) সালফার ইনসুলিন নিঃসরণে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে শরীরের গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিস হয়। 

এত এত অপকারী বা বিধ্বংসী দিক থাকার কারণেই ড. উইলিয়াম কোডা মার্টিন সাদা চিনিকে বলেছেন বিষ। 

আমাদের দেশের মানুষ টাকা দিয়ে ধবধবে সাদা বিষ খাবে তবুও লাল চিনি কিনবে না! নিজে তো মরছেন, দেশীয় চিনিকলের শ্রমিকদেরও বিনাবেতনে মারছেন!

আসুন সবাই লাল চিনি কিনি, নিজেদের শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি দেশ ও দশের কথা চিন্তা করি।



জাতীয়-আন্তর্জাতিক-চট্টগ্রামের সংবাদসহ পটিয়া সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে থাকুন।
Share To:

Voice of Patiya

Post A Comment:

0 comments so far,add yours