"হেফাজতে ইসলাম" ক্যাটাগরীর সকল আর্টিকেল
Showing posts with label হেফাজতে ইসলাম. Show all posts
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরীর ইন্তেকাল; হেফাজতে ইসলাম; বাবুনগরী; হাটহাজারী; চট্টগ্রাম; কওমী মাদ্রাসা
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী


ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনাঈদ বাবুনগরী ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।
 
অসুস্থ অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে বেলা ১২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস নদভী। হাটহাজারী মাদ্রাসার মাসিক প্রকাশনা ‘মুঈনুল ইসলাম’ এর নির্বাহী সম্পাদক মুনির আহমদ মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। 

৬৭ বছর বয়সী দেশের অন্যতম শীর্ষ এই আলেম দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানান রোগে ভুগছিলেন।

বাবুনগরীর ভাগ্নে ওসমান সাদেক বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন বড় মামা জুনাইদ বাবুনগরী।’  

হাটহাজারী মাদ্রাসার দায়িত্বশীলরা জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আল্লামা বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা হন সঙ্গীরা। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আজ রাত ১১টায় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল দারুল উলুম মঈনুল হাটহাজারী মাদ্রাসায় জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ির বাবুনগরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ চলবে : ওবায়দুল কাদের


ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ রাজধানী ধোলাইপাড় এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। 
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ‘নির্মাণাধীন ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ অব্যাহত থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হয়েছে। ভাষ্কর্য ভাঙা কিংবা এর ক্ষতি সাধন করা অবশ্যই সংবিধান বিরোধী এবং রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এর প্রধান কারণ, বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা। তাঁর ভাস্কর্যের ওপর হামলা কোনমতেই মেনে নেয়া যায় না। 
সৌদি আরব, কাতার, মিশর, ইরান, তুরস্ক এমনকি পাকিস্তানে পর্যন্ত ভাস্কর্য রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে যেখানে ভাস্কর্য রয়েছে তাদের চেয়ে কি আমরা বড় মুসলমান হয়ে গেলাম? ওইসব রাষ্ট্রে তো ভাস্কর্য নিয়ে কোনো কথা হয় না। আর মূর্তি হলো দেবতার পূজা-অর্চনা করার। দেবতাকে পূজা করা হয়, কিন্তু এখানে তো মানুষকে পূজা করা হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের দেশে কেন বিষয়টি ভিন্ন দিকে যাচ্ছে? 
কুষ্টিয়ায় তারা বঙ্গবন্ধুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুদার ভাস্কর্যের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের কাজ করার মত ধৃষ্টতা যারা দেখাবে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।’
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক


ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক।
আজ সোমবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ছয়টার দিকে নিজের ভেরিফাইড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ‘ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধ, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতির’ ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মাওলানা মামুনুল হক। 

তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় রাতের অন্ধকারে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে একটি অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে কেউ কেউ আমার নাম জড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, আমার কোনও বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা আমার কোনও কথায় এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনও কথা আমি কস্মিনকালেও বলিনি। দেশের আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনও ব্যক্তি এমনটা কখনও করতে পারেন না।’ 

তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বারবার বলছি, আমাদের বক্তব্যে নিজেদের মতামত, মনগড়া ব্যাখ্যা বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে একটি শ্রেণি রাষ্ট্রদ্রোহের বুনিয়াদ সাজিয়েছে। সারাদেশের আলেমরা সবাই বলছেন, আমাদের বক্তব্য কখনোই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল বাংলাদেশী, সকল বাঙালী শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। একজন মুসলিম হিসেবে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সমস্ত বিরোধ হলো ভাস্কর্য তথা মূর্তি নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর নামকে ভুঁইফোড় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ দেশের ইসলামপন্থীদের মুখোমুখি করে দিতে চাইছে। এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে অভিযোগ করেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, এই কাজটি করার মূল উদ্দেশ্য হলো চেতনার ব্যবসা করা। তারা বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ইসলামকে যেমন ঘায়েল করতে চায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুর মহান ব্যক্তিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি চেতনার ব্যবসা করতে চায়। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে উগ্রবাদী বলে অভিযুক্ত করেন।

আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত 'মুজিব মিনার' নির্মাণের প্রস্তাব হেফাজতে ইসলামের


ভয়েস অব পটিয়া-ন্যাশনাল ডেস্কঃ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি-ভাস্কর্য স্থাপনের পরিবর্তে আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত 'মুজিব মিনার' নির্মাণের বিকল্প প্রস্তাবসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। 
আজ শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসায় এক বৈঠকে সরকারকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়।

উক্ত সভার প্রস্তাবনাসমূহঃ

১ । মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যে কোনো উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়ত সম্মত নয়। এতে মুসলিম মৃত ব্যক্তির আত্মার কষ্ট হয়। কারো প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখতে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ না করে, শতকরা ৯২ ভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার আলোকে কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত। 

২। আমরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা, বিষোদগার, ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইত্যাদির তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নাশের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এসব অপকর্ম বন্ধ করা হোক। 

৩। বিগত সময়ে দ্বীনি আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দান ও মামলা প্রত্যাহার করা হোক। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সারাদেশের আলেম-ওলামা, ইমাম-খতিব ও ধর্মপ্রাণ‍মুসলমানদের ওপর সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করা হোক। ধোলাইপাড় চত্বরের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত পুনঃনির্মিত মসজিদ নামাযের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

৪। সম্প্রতি শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগের অজুহাতে দ্বীনি মাহফিলে লাউড স্পিকার ব্যবহারে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টির তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ সাধারণ শব্দদূষণ, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ নেই বললেই চলে। কেবল ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে শব্দদূষণের অজুহাতে বিশেষ নির্দেশনা অনভিপ্রেত। অতএব, জনগণকে কল্যাণের পথে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সকল দ্বীনী মাহফিল যথানিয়মে অনুষ্ঠানের অবাধ সুযোগ প্রদান করা হোক।

৫। যে সকল বিষয় শরিয়তে নিষিদ্ধ ও হারাম, সে সব বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক বক্তব্য তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। অথচ এক শ্রেণীর মানুষ আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ও দায়িত্বহীন আচরণ করছে। কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনাশের উস্কানিও দিচ্ছে। এসবের খোঁজখবর রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। উস্কানিমূলক বক্তব্য, অবমাননাকর মন্তব্য, উগ্র স্লোগান, মিছিল-মিটিং সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি করবে। ওলামায়ে কেরাম কঠোর ধৈর্য সংযম অবলম্বন করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা প্রবল। সরকারকে এসবের উপযুক্ত প্রতিবিধান করতে হবে। অন্যথায় দেশব্যাপী উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার দায় সরকার এড়িয়ে যেতে পারবে না। বিশেষ করে ইসলাম, দ্বীন ও বাংলাদেশ বিরোধী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ রোধ করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। 

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, বেফাকের সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রধান মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, জমিয়ত একাংশের চেয়ারম্যান মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বেফাকের খাস কমিটির সদস্য আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী, বি.বাড়িয়ার আল্লামা সাজিদুর রহমান, সিলেটের আল্লামা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি,  জামিয়া রাহমানিয়ার প্রধান মুফতি মনসুরুল হক, ফরিদাবাদ মাদরাসার মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, জামিয়া ইউনুসিয়ার প্রধান মুফতি মুবারকুল্লাহ, গহরডাঙ্গা মাদরাসার মাওলানা রুহুল আমীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম, বরুণার পীর মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, ঢালকানগরের পীর সাহেব মুফতি জাফর আহমদ, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, বসুন্ধরা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আরশাদ রাহমানী, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, শাইখ যাকারিয়ার পরিচালক মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, বারিধারা মাদরাসার মাওলানা নাজমুল হাসান, আফতাবনগর মাদরাসার মুহতামিম মুফতী মুহাম্মদ আলী, খুলনার মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, উত্তরার মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ আযহারী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ্ আইয়ুবী, মাওলানা হাসান জামিলসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-উলামারা।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফির ইন্তেকাল; হেফাজতে ইসলাম; আল্লামা শফি; আমির; Hefazat e Islam; Allama Shofi
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফি

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৫ বছর। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আল্লামা আহমদ শফির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আজ বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই সন্ধ্যা ৬.৩০টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। 
শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ আহমদ শফি দীর্ঘদিন যাবত বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে এর আগেও কয়েক দফায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গতকাল হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদ ছাড়তে হয় আহমদ শফিকে। সেই সাথে তাঁর ছেলে আনাস মাদানী ও তাদের অনুসারী কয়েকজন সদস্যের দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির (শূরা কমিটি) বৈঠকে আহমদ শফি পদত্যাগ করেন এবং তাঁর ছেলেসহ দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে শূরা কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন নানুপুরী জানান।

উল্লেখ্য, তিনি বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশেরও (বেফাক) সভাপতি পদে ছিলেন। কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস সনদকে ‘মাস্টার্স সমমান (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)’ প্রদানে মূল ভূমিকা পালন করেন তিনি। 

আল্লামা শাহ আহমদ শফির জন্ম চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাখিয়ারটিলা গ্রামে। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। আল্লামা শফির শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মাদ্রাসায়। এরপর পটিয়ার আল জামিয়াতুল আরাবিয়া মাদ্রাসায় (জিরি মাদ্রাসা) পড়াশোনা করেন তিনি। পরে হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন তিনি। 
১৯৮৬ সালে হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক (মুহতামিম) হিসেবে দায়িত্ব নেন আল্লামা শাহ আহমদ শফি। টানা ৩৪ বছর ধরে এই দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তাঁর ইন্তেকালের মধ্য দিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসায় দৃশ্যত আহমদ শফির সুদীর্ঘ কর্তৃত্বের অবসান ঘটলো। এই মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন আহমদ শফি, যাদের কাছে তিনি ‘বড় হুজুর’ নামে পরিচিত।