"চট্টগ্রাম-কক্সবাজার" ক্যাটাগরীর সকল আর্টিকেল
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের জয়েন্টে ত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে গতিরোধক!; পটিয়া; চট্টগ্রাম; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা; চট্টগ্রাম-কক্সবাজার; বান্দরবান; কক্সবাজার; নতুন ব্রীজ; শাহ আমানত সেতু; কর্ণফুলী ব্রীজ; সেতু; সড়ক ও জনপথ; Patiya; Chittagong; Chattogram; Bandarban; Coxsbazar; Highway; Karnaphuli Bridge; Shah Amanat Bridge; China
কর্ণফুলী নতুন ব্রীজের জয়েন্টে ত্রুটি, ঝুঁকি এড়াতে গতিরোধক!

ভয়েস অব পটিয়া-স্পেশাল ডেস্কঃ দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সারাদেশে সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত তৃতীয় কর্ণফুলী তথা শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রীজ)। সম্প্রতি এই সেতুতে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের এক্সপানশন জয়েন্টে দেখা দিয়েছে ত্রুটি। ত্রুটি ও ঝুঁকি চিহ্নিত করতে ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। সতর্কতার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে গতিরোধক বসিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সহসাই যদি কোন স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া না হয় এ সেতুটিতে বড় ধরনের কোন জটিলতা তৈরি হয়ে, চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার তথা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যোগাযোগে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হতে পারে। 

সেতুটির নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, সেতুর দক্ষিণ অংশের এক্সপানশন জয়েন্টে ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
চীনা প্রযুক্তিতে শত বছরের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে নির্মিত সেতুটি ২০১০ সালে উদ্বোধনের ১১ বছর না যেতেই এই ধরনের ত্রুটি-ঝুঁকি কেন তৈরি হলো এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কেউ কথা বলতে রাজি হন নি। 
তবে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ‘সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে কিছু ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এগুলো মেরামতের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ সেতুর উপর পারাপারের সময় সব ধরনের গাড়ির গতি বেড়ে যায়। মূলত গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে আপাতত গতিরোধক বসানো হয়েছে।’ 

এদিকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে স্পিড র‌্যাম্পিং স্ট্রিপ (গতিরোধক) বসানোয় সেতু থেকে নামার সময় দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারগামী যানবাহনের জটলা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চালকরা জানান, সেতু থেকে নামার সময় অনেকগুলো গতিরোধক দেওয়ার কারণে প্রতিবারই বাস কিংবা পণ্যবাহী ভারী যানবাহন ব্রেক চাপতে থাকলে আরও বেশি ঝুঁকির তৈরি হবে। এখন যানবাহনের গতি বেশি থাকলেও তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেমে যাচ্ছে। নামার সময় গতিরোধক থাকায় তাতে আরও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে বলে মন্তব্য করেন চালকরা। 

এদিকে যাত্রীরা জানান, গতিরোধকগুলো অতিক্রম করার সময় তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হয়। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন বয়স্ক ও প্রসূতি নারীরা। যার ফলো রোগী ও প্রসূতি মায়েদের বেশি দুভোর্গ পোহাতে হবে।
পটিয়া বাইপাস সড়কে ফের ডাকাতি; পটিয়া বাইপাস, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, সংবাদ, সারাদেশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, ভয়েস অব পটিয়া; পটিয়া; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা; চট্টগ্রাম; চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক; ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প, পটিয়া লবণ শিল্প, পটিয়া বাইপাস, চাঁনখালী খাল, কক্সবাজার; শ্রীমাই খাল; শ্রীমতি খাল; Voice of Patiya
পটিয়া বাইপাস সড়কে ফের ডাকাতি

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ পটিয়া বাইপাস সড়কে ফের ডাকাতি। আজ রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২.৩০টার সময় পটিয়া বাইপাস সড়কের ভাটিখাইন ইউনিয়নাধীন বাকখালী বড়ুয়ার টেক সম্মুখ এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্যরা বসতি এলাকা থেকে ৩ টি গরু ডাকাতি করে নিয়ে যায়। মসজিদের মাইকের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই গরুচোর ডাকাতদলের সদস্যরা কমলমুন্সির হাটের দিকে পালিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ডাকাত দলের কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নি।

দীর্ঘদিন ধরে পটিয়া বাইপাস সড়কে দিনে-দুপুরে কিশোর গ্যাংয়ের চুরি-ছিনতাই, রাতে ডাকাতদলের উৎপাতে আতঙ্কগ্রস্থ বাইপাস সড়ক সংলগ্ন বসতির এলাকাবাসীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এখন অবধি এই এলাকা চোর-ডাকাতদের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এলাকাবাসী উক্ত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।


জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংবাদসহ পটিয়া সম্পর্কে জানতে ও জানাতে আমাদের ফেসবুক পেজের সাথে থাকুন।
চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন ইউএনও পটিয়া হাবিবুল হাসান

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-পটিয়া রুটে যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আজ বুধবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা হতে থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ছয়টি যাত্রীবাহী বাসকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া রুটে চট্টগ্রাম শহর তথা নতুনব্রীজ হতে নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা পরিবর্তে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দফায় দফার সংবাদ, মানববন্ধন-প্রতিবাদের পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতি-শুক্র ও শনিবার পটিয়াগামী গাড়িগুলোর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় বাসমালিক-ড্রাইভারদের দৌরাত্ম অব্যহত রয়েছে। 
এসব অভিযোগের সূত্র ধরে বুধবার (১৭ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসানের এক বিশেষ অভিযানে সাধারণ যাত্রীদের নজর কেড়েছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে ছয়টি যাত্রীবাহী বাসকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তিনি যে কোন সময় অভিযান চালাবেন। সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তদের জরিমানা করা হচ্ছে। এতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরবর্তীতে কারাদন্ডও দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পটিয়ায় সার্জেন্ট মহি আলম খালের দূষণরোধে মানববন্ধন; পটিয়া; চট্টগ্রাম; খাল দূষণ; ফুলকলি; সার্জেন্ট মহি আলম খাল; পরিবেশ; Patiya; Chittagong; Chattogram
পটিয়ায় সার্জেন্ট মহি আলম খালের দূষণরোধে মানববন্ধন

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নাধীন সার্জেন্ট মহি আলম খালে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে সৃষ্ট দূষণ বন্ধের দাবীতে গতকাল (শুক্রবার, ০৫ জুলাই) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া শাহগদী মার্কেট চত্বরে ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ সংগঠনের ব্যানারে সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা সার্জেন্ট মহি আলম খালের দূষণ রোধে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশন খালে বন্ধের দাবী জানান।

এতে বক্তারা বলেন, পটিয়ার বেশ কয়েকটি শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে সরাসরি খালে নিষ্কাশনের ফলে খাল সংলগ্ন আবাদি জমিগুলোতে প্রায় ৮ বছর ধরে বোরো ফসলের চাষ হয়না। শিল্প-কারখানার এসব বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়ে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। শিল্প-কারখানার এসব বর্জ্যের প্রভাবে ফসলি জমির সেচের পানি দূষিত হওয়ার প্রভাবে উপজেলার তিন শতাধিক একর ধানি জমিতে বোরো চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে। খালের পানি দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে যা ওই এলাকার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে। প্রতিনিয়তই এসব বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়ছে। শিল্প-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য খালে পড়ে পানি দূষিত করে তুললেও পরিবেশ অধিদপ্তর অজানা কারণে নীরব। 

জোয়ার-ভাটার এই খালটির সঙ্গে চাঁনখালী, বোয়ালখালী খাল ও কর্ণফুলী নদীর সংযোগ রয়েছে। এর ফলে জোয়ার ও ভাটার সময় বিষাক্ত বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে মিশছে। দূষিত পানির কারণে খালে জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। বিষাক্ত বর্জ্যের প্রভাবে সার্জেন্ট মহি আলম খালের পানি নষ্ট হয়ে নীল ও কালচে রং ধারণ করছে ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধের প্রভাবে খালের আশপাশের বাড়িঘর, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও বহু মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ পর্যন্ত আদায় করতে পারছেন না। খালের পাশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলরত হাজার হাজার যাত্রীকে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হয় বিষাক্ত পানির দুর্গন্ধে। 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্বে পটিয়া উপজেলার আমজুর হাট মোড় থেকে শুরু করে মনসা বাদামতল এলাকার প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তীর্ণ সার্জেন্ট মহি আলম খাল। এই খালের পানি দিয়ে উপজেলার উজিরপুর, নাইখাইন, গৈড়লা, লড়িহরা, দক্ষিণ হুলাইন, এয়াকুবদন্ডী, তিয়ারকুল, উজিরপুর, উনাইনপুরা ও পৌরসভার আল্লাই এলাকার কয়েকশ কৃষক ধানি জমিতে প্রতি মৌসুমে চাষাবাদ করে থাকেন। খালের সম্মুখে গড়ে উঠা শাহ আমানত নিটিং এ্যান্ড ডাইং, ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টসের বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি খালে ছেড়ে দেয়ার কারণে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকার কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খালের পানি পরীক্ষা করে পানি দূষিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। খালের এই পানি দিয়ে বোরো চাষাবাদ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিন যারা এই রুট দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করেন তাদের গৈড়লার মোড় হতে বাদামতল এলাকা পর্যন্ত পানির বাজে দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায়।

এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে শিল্প-কারখানার বর্জ্য খালে নিষ্কাশন বন্ধের দাবী জানান। তারা এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা প্রশাসন ও সাংসদ হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

পটিয়া বাইপাসে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্যামলী বাসের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২;
পটিয়া বাইপাসে সড়ক দূর্ঘটনায় শ্যামলী বাসের ধাক্কায় নিহত ১; আহত ২

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের এক বাসের ধাক্কায় রহিম উদ্দিন (৩৮) নামে সিএনজি অটোরিকশার এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন দুই যাত্রী। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রহিম উদ্দিন পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন এলাকার মোঃ নূরনবীর ছেলে। আহত দুই যাত্রী হলেন- ভাটিখাইন এলাকার রফিকুল আলমের ছেলে মোঃ শুভ (১৭) ও একই এলাকার মোঃ মনিরুজ্জামানের ছেলে মোঃ বাদশা মিয়া (৪০)। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মোঃ আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, পটিয়া বাইপাস এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস সিএনজি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে একজন নিহতসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহিম উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লবণ পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ; পটিয়া; চট্টগ্রাম; কক্সবাজার; মহাসড়ক; লবণ; Patiya; Chittagong; Chattogram; Coxsbazar; Highway; Salt industry
লবণ পানিতে পিচ্ছিল চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ লবণ পানিতে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশ। প্রতিদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পানিযুক্ত অপরিশোধিত লবণ আনলোড করা হয় পটিয়ার ইন্দ্রপুল শিল্প এলাকায়। যার ফলে অপরিশোধিত লবণ থেকে ঝরে পড়া পানি পিচ্ছিল করে তুলছে ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকা সংলগ্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অংশের উভয় পাশের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। গত এক বছরে প্রায় ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। যাদের বেশিরভাগই ছিল মোটরসাইকেল আরোহী। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লবণ থেকে ঝরে পড়া পানিতে এত দুর্ঘটনা ঘটলেও তা বন্ধে এখনো পর্যন্ত প্রশাসন থেকে তেমন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে লক্ষ্য করা যায় নি। 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পলিথিন দিয়ে লবণ পরিবহনের জন্য বার বার অবহিত করা হলেও তাতে কর্ণপাত করছে না লবণ ব্যবসায়ীরা। অনেক লবণ পরিবহনকারী ট্রাকে পলিথিন ব্যবহার করলেও ইন্দ্রপুল এলাকায় সড়কের উপর লবণ আনলোড করার সময় লবণাক্ত পানিতে সয়লাব হয়ে যায় মহাসড়ক। 

এদিকে পানিযুক্ত লবণ পরিবহনের ফলে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত এবং পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনা বাড়ার কারণে গত জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম জেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে পানিযুক্ত লবণ পরিবহনের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লবণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময় করা হবে। 

এদিকে মহাসড়কের পাশে পানিযুক্ত লবণ আনলোড বন্ধে মিল মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছে পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতি। তা সত্বেও সড়কের উপর লবণ আনলোড বন্ধ করেনি কেউ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পটিয়া লবণ শিল্প এলাকায় চাঁনখালী খাল দিয়ে লবণ বোঝাই ট্রলার আসা কমে গেলে ট্রাকে লবণ পরিবহন বেড়ে যায়। বিগত ১০ বছর ধরে ট্রাকে করে লবণ পরিবহন করা হলেও এতে কোন পলিথিন ব্যবহার করা হতো না। সম্প্রতি কিছু কিছু লবণ পরিবহনকারী পলিথিন ব্যবহার শুরু করলেও এতে তেমন একটা উন্নতি পরিলক্ষিত হয় নি। 

কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, চকরিয়া ও বাঁশখালী থেকে সড়ক পথে আসা ট্রাক থেকে লবণ আনলোড করার সময় ঝরে পড়া লবণের পানিতে ইন্দ্রপুল মহাসড়ক এলাকা সয়লাব হয়ে যায়। এসব ঝরে পড়া লবণাক্ত পানির ফলে, পটিয়া থানার মোড় হতে আমজুর হাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে গত এক বছরে অসংখ্য দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানিসহ শতাধিক লোক আহত হয়। 

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের (দোহাজারী) নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘পানিযুক্ত লবণ পরিবহন বন্ধ করতে জানুয়ারি মাসের জেলা উন্নয়ন সভায় পানিযুক্ত লবণ পরিবহনের ক্ষতিকারক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ 
পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক আল্লাই ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘মহাসড়কের উপর যারা পানিযুক্ত লবণ আনলোড করেন তাদেরকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে মহাসড়কের উপর লবণ আনলোড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আমরা পুনরায় ওইসব মিল মালিকদের আবারো সতর্ক করব; অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘বিষয়টি অতিব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শীঘ্রই এ ব্যাপারে লবণ মালিকদের সাথে আলোচনায় বসব। তবে যারা সড়কের পাশে লবণ আনলোড করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পরিবেশ দূষণের দায়ে ফুলকলিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা | Voice of Patiya; পটিয়া

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে পরিবেশ দূষণের দায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর।

বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) অকার্যকর রেখে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য পার্শ্ববর্তী খালের মাধ্যমে নদী দূষণের দায়ে বুধবার (২৭ মার্চ) এ জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন এর নেতৃত্বে পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নাধীন নাইখাইন এলাকায় অবস্থিত ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করে পরিবেশ দূষণের প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ইটিপি অকার্যকর রেখে বাইপাস লাইনের মাধ্যমে বর্জ্য পার্শ্ববর্তী সার্জেন্ট মহিউল আলম খালে নির্গমন করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে আসছিল। খালে নির্গমন করে খালের পানি দূষণ করায় ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে এক মাসের মধ্যে ইটিপি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।’

চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক যেন এক মরণফাঁদ!; চট্টগ্রাম; কক্সবাজার; পটিয়া; পটিয়া উপজেলা
চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক যেন এক মরণফাঁদ!

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী নদীর শাহ্‌ আমানত সেতু হতে দোহাজারী শঙ্খ নদী সেতু পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ৫০ বাঁক যেন এক মরণফাঁদ!

বান্দরবান, টেকনাফ, কক্সবাজারগামী পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য চট্টগ্রাম-পটিয়া-কক্সবাজার মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু এ সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি না করায় শাহ্‌ আমানত সেতু (নতুন ব্রীজ) হতে দোহাজারী পর্যন্ত ৫০টি বাঁকের কোন সংস্কার হয়নি। কক্সবাজার থেকে দোহাজারী সেতু পর্যন্ত সড়কটি ২ লেনের হওয়ায় এবং এর বাঁক কম থাকায় এ ১১৫ কিলোমিটার সড়কটি পাড়ি দিতে সময় লাগে মাত্র আড়াই ঘন্টা। অথচ দোহাজারী সেতু থেকে শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রীজ) চট্টগ্রাম অভিমুখ পর্যন্ত বাঁকি ৪৫ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা। এর মধ্যে পটিয়া বাস স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম যেতে প্রচুর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সড়কের দুই পাশ ঘেষে রাস্তার উচুঁ নিচু স্থান থাকায় প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনায় দিন দিন লাশের মিছিল বাড়ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, পটিয়া ক্রসিং হতে মনসার টেক, বাদামতল, গৈড়লার টেক, আমজুর হাট মোড়, পটিয়া পোস্ট অফিস মোড়, আদালত গেইট মোড়, থানার মোড়, ডাকবাংলোর মোড়, কমল মুন্সির হাট মিলে ৩০টি পয়েন্টে এবং চন্দনাইশের ২০ পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে।

সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, পটিয়া মনসা থেকে দোহাজারী শঙ্খ সেতু পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। এ সড়কে অদক্ষ চালকের দ্বারা অধিকাংশ ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে। এদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে শিশু-কিশোরও রয়েছে। প্রায় সময় দুর্ঘটনার কারণে যাত্রীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে শাহ্‌ আমানত সেতু থেকে পটিয়া ভেল্লাপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত ৪ লেনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে যার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া পটিয়া ভেল্লাপড়া ব্রীজ হতে চন্দনাইশের শঙ্খ ব্রীজ পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি এ মহাসড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত মহাসড়ক হওয়ায় যদি এ সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করা হয় তাহলে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। 

গাড়ির চালকরা জানান, মহাসড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে এতবেশি দোকানপাট, গাড়ির স্ট্যান্ড-গ্যারেজ গড়ে উঠেছে তা ছাড়া, সড়কটি এত বেশি আঁকাবাঁকা যে, প্রতিনিয়ত অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালাতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দেড় ঘন্টার স্থলে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। আরকান সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী এ ব্যাপারে ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এতোবেশি আঁকা-বাঁকা যে, অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালাতে হয়। দু’পাশে দোকানপাট গড়ে উঠার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা লেগেই আছে।’

অপরদিকে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সড়কের চার লেনের কাজ শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করা হবে। সড়কের ফুটপাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন যান-বাহনের স্ট্যান্ড-গ্যারেজ ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাজ বলে তিনি জানান।’

এদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বেশ কটি সেতু ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। এর মধ্যে মাতামুহুরী ও সাঙ্গু সেতু ১৯৬০ সালে নির্মিত। দুটির একটি বিচ্ছিন্ন হলে কক্সবাজারের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এ বিবেচনায় সরকার অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় চারটি সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেগুলো হলো, পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু, দোহাজারীর সাঙ্গু সেতু ও চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু। ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) ৩০৮ কোটি টাকা অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সেতুগুলো নির্মাণে ফিজিবিলিটি স্টাডির পর ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে। সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিশীঘ্রই চার সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হবে। ঠিকাদার নির্বাচনে তিন থেকে চার মাস লাগবে। এর দুই বছরের মধ্যে সেতুগুলো নির্মিত হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে বাঁকখালী নদীর উপরও একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ সেতু রয়েছে। নতুন এই প্রকল্পে সেটিকে কেন রাখা হয়নি জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ূয়া বলেন, ‘জাইকার প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে সড়কপথে সীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানো। তাই সেখানে কক্সবাজার শহরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সড়কটি রামু হয়ে ঘুনধুম ও মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই বছরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২ শতাধিক লোক নিহত হয়েছে, আহতে হয়েছেন প্রায় ৫’শ। এ সড়কে ফিটনেস বিহীন যানবাহনের দৌরাত্মের কারণে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক আরিফুর রহমান ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘অদক্ষ চালক ও ফিটনেস বিহীন যানবাহনের সংখ্যা কমে আসলে দুর্ঘটনার হার কমে আসবে।’
পটিয়া বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনারোধে গতিরোধক চান স্থানীয়রা
পটিয়া বাইপাস সড়কে দুর্ঘটনারোধে গতিরোধক চান স্থানীয়রা 

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও যান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে সড়কটি মহাসড়কের একাধিক অংশের সাথে যুক্ত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। পটিয়া পৌর সদরের ইন্দ্রপুল থেকে কচুয়াই ইউনিয়নের গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক নবনির্মিত ওই সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, শীঘ্রই সড়কটি উদ্বোধনের মাধ্যমে যান চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। তবে সড়কটি মহাসড়কের একাধিক অংশের সাথে যুক্ত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। তাই স্থানীয়রা সড়কের ওই সব স্থানে গতিরোধক স্থাপন এবং ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া পৌর সদরের উপর দিয়ে বয়ে চলা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অংশে দীর্ঘদিন ধরে যানজট লেগেই আছে। এতে বাসযাত্রী বিশেষ করে পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারগামী পর্যটকদের অনেক সময়ের অপচয় হয়।

জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা পটিয়া-চন্দনাইশ-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত এশিয়ান এক্সপ্রেসওয়েতে যুক্ত হওয়ার জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লাইনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। যার ফলে মহাসড়কের পটিয়া পৌরসদরের অংশে ব্যাপক যানজট লেগেই থাকে। এদিকে এ সমস্যা দূরীকরণের জন্য পটিয়া পৌরসদরের ইন্দ্রপুল হতে পটিয়া পৌরদরের ইন্দ্রপুল হতে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুন সওজ চট্টগ্রাম বিভাগীয় দপ্তরে পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঢাকা র‌্যাব আরসি অ্যান্ড রিলেয়াবেল বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কার্যাদেশ পায়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এ সড়কের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্প অনুযায়ী পটিয়া পৌরসভার ইন্দ্রপোল থেকে ভাটিখাইন-কচুয়াই ইউনিয়ন হয়ে গিরিশ চৌধুরীর বাজার এলাকায় মহাসড়কের সঙ্গে মেলবন্ধন রচনায় সড়কটির দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৫ কিলোমিটার। এতে ব্যয় ধরা হয় ৬২ কোটি টাকা। বাইপাস সড়ক প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি ৭৮ লাখ চার হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৮.৬১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া বাইপাস ছাড়া দোহাজারী সাঙ্গু সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ৪৯টি বিপজ্জনক বাঁক সোজাকরণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন বাবদ আরো ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। পরে নিয়োজিত ঠিকাদার অদৃশ্য কারণে চার বছরেও কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পটি বাতিল হওয়ায় পটিয়া বাইপাস নির্মাণ প্রকল্পটিও থমকে দাঁড়ায়। পরে এ প্রকল্প হতে ৬২ কোটি টাকার বরাদ্দে শুধু পটিয়ায় বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ পটিয়া মনসার টেক থেকে দোহাজারী সাঙ্গু ব্রিজ পর্যন্ত ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। ওই বছর ২৫ জুন ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড (আইটিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের মধ্যে পটিয়া শহর এলাকাকে যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যে পটিয়া ইন্দ্রপোল থেকে গিরিশ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত ৫.০২ কিলোমিটার পটিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমানে সড়কটি চালু হলে পৌর সদরের পাইকপাড়া, ভাটিখাইন এবং কচুয়াই ফারুকীপাড়া এলাকায় দ্রুতগতির দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলাচল শুরু করায় মানুষ খুশি হলেও বাইপাস সড়কটির সংযোগস্থলে কোন ধরনের গতিরোধক-দিকনির্দেশক না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ফারুকীপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘এ এলাকা বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচলের ফলে যানবাহনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। যা দূর করতে ৩-৪টি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ এবং গতিরোধক স্থাপন করা জরুরী।’

চট্টগ্রাম-দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘পটিয়া বাইপাস সড়কের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সড়কের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার কার্পেটিং কাজ করা হয়েছে। বাকি তিন কিলোমিটারের মেকার্ডাম কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে এ সড়ক দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করি আগামী জুন মাসের নির্দিষ্ট কাজের মেয়াদের পূর্বেই অবশিষ্ট ১০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হবে। এতে এখানকার দীর্ঘদিনের যানজট যেমন নিরসন হবে, তেমনি পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পাহাড়ীকন্যা বান্দরবানের পর্যটক এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রী সাধারণের সময় এবং যাতায়াতের দূরত্বও কমে আসবে।’
পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বর্জ্য-পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় দূর্ভোগ চরমে; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; বিসিক; bscic
পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বর্জ্য-পৌর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় দূর্ভোগ চরমে

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্তুপকৃত বর্জ্য যথাযথভাবে ডাম্পিং না করে উন্মুক্ত স্থানটিতে স্তুপ করে রাখার কারণে দূর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এতে করে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীসহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে চলাচলরত পথচারীদের। 

স্থানীয় লোকজন ও যাত্রী সাধারণ এ দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন। তারা বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে না রেখে শহরাঞ্চল থেকে দূরবর্তী স্থানে এ ধরণের বর্জ্য অপসারণের আহবান জানান। 

পটিয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন বেলাল ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও পৌর মেয়রের খামখেয়ালীর কারণে মহাসড়কের পাশে পশুর বর্জ্য স্তুপ করা হয়েছে। এসব বর্জ্যে পুরো এলাকাজুড়ে বিরক্তিকর দুর্গন্ধ প্রতিদিন মানুষকে বিষিয়ে তুলছে।’

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বিসিক শিল্প এলাকার সামনে দীর্ঘদিন ধরে পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ফেলে আসছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোরবানীর পশুর বর্জ্য-আবর্জনা একই স্থানে রাখা হয়েছে। এ কারণে দুর্গন্ধের মাত্রা আরো বেড়েছে। এতে এসব ময়লা-আবর্জনার দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিসিক শিল্পনগরীর লোকজন, ব্যবসায়ী, কর্মচারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও মহাসড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনের প্রতিদিনকার সহস্রাধিক যাত্রী। কোরবানীর দিন বিকেলে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ি বর্জ্য তুলে নিয়ে মহাসড়কের বিসিক শিল্প এলাকার সন্নিকটে ফেলে। স্তুপকৃত বর্জ্যে দুর্গন্ধ প্রতিরোধে কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ/কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গত তিন দিন ধরে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। 

তাছাড়া পটিয়া পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সর্দারপাড়া কবরস্থানের পাশে চলাচল রাস্তার উপর বর্জ্য, ৩ নং ওয়ার্ডের আবদুর রহমান সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে হাড্ডি সুলতানের ভাঙ্গারী মালের গুদামে স্তুপ করা হয়েছে পশুর হাড়গোড়। ফলে এসব এলাকাতেও দূর্গন্ধে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধে যাতায়াতে বেকায়দায় পড়ছে। 

পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের চলাচল রাস্তার বিভিন্ন স্থানে এখনো পড়ে রয়েছে কোরবানীর পশুর বর্জ্য। যার ফলে পুরো পটিয়া পৌরসভার আকাশ বাতাস বর্জ্যের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘পৌরসভার বর্জ্য অপসারণ ও মজুতের জন্য অনেকবছর যাবত বিসিকের সামনে এ এলাকাটি নির্ধারিত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও একই স্থানে বর্জ্য রাখা হয়েছে। দুর্গন্ধরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ঔষধ ছিটিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ 

পটিয়া পৌরসভার সচিব মোহাম্মদ মহসিন জানান, ‘পৌরসভার বর্জ্য অপসারণের নির্ধারিত কোন জায়গা না থাকায় বিসিক শিল্প এলাকার সামনে অস্থায়ীভাবে মজুদ করা হচ্ছে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ইন্দ্রপুল এলাকায় জনবসতি স্থাপনার অদূরে একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি এখনো মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ১৩ বাসের বিরুদ্ধে মামলা; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
নতুনব্রীজ-পটিয়া রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ১৩ বাসের বিরুদ্ধে মামলা

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ রিজার্ভের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে গাড়ি চালানোসহ যাত্রীবাহী পরিবহনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগের সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে ট্রাফিক পুলিশের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে পটিয়া পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় ট্রাফিক পরিদর্শক (দক্ষিণ) শাহ্ আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩ টি বাসের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা করেছে।

নতুনব্রীজ-পটিয়া রুটে নিয়মিত অন্যায্য ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পুরনো। এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, মিছিল-মিটিং, পত্র-পত্রিকায়-অনলাইনে লেখালেখি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ট্রাফিক পুলিশ, স্থানীয় সাংসদসহ জনপ্রতিনিধিদেরকে দফায় দফায় অভিযোগ প্রদান করলেও বাস্তবে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে যেখানে সাধারণ যাত্রীদের নাভিশ্বাস চরমে তার প্রভাব প্রতিবারের মত ঈদের সময়েও পড়েছে। এবার ঈদের আগেরদিন থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত পটিয়া থেকে নতুনব্রীজ রুটে রিজার্ভের নামে ২০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে এক থেকে দেড়শ টাকা ভাড়া।

পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ছাড়াও আনোয়ারা উপজেলার যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অসাধু পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের কাছে বিভিন্নভাবে জিম্মি। 

যাত্রীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে (আরাকান সড়কে) প্রতিনিয়ত যাত্রী হয়রানির পাশাপাশি রিজার্ভের নামে চলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। রিজার্ভ ভাড়া নেওয়ার কারণে লোকাল যাত্রীদের পিকআপ ও ট্রাকে করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঈদের এক সপ্তাহ পরও যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

যাত্রী ও ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, শাহ আমানত তৃতীয় সেতুর (নতুনব্রীজ) উত্তর পাড় থেকে যাত্রীবাহী বাস পটিয়া সদর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা হলেও গত কিছুদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে এক থেকে দেড়শ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বিষয়টি পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের ও ট্রাফিক পরিদর্শক (দক্ষিণ) আরিফুর রহমানকে জানানোর পর অভিযান চালিয়ে মোটরযান আইনে ১৩ বাসের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া বাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, `অতি লোভী কিছু বাস ড্রাইভারের কারণে যাত্রীদের হয়রানি হতে হচ্ছে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করতে হলে উপজেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। উপজেলা প্রশাসন, যাত্রীকল্যাণ পরিষদ ও বাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করতে হবে।'

এ প্রসঙ্গে ট্রাফিক পরিদর্শক (দক্ষিণ) শাহ্ আরিফুর রহমান ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত যাত্রীদের হয়রানি ও রিজার্ভের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সত্যতা পাওয়ায় ১৩ যাত্রীবাহী বাসের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা দিয়েছি। তাছাড়া নতুনব্রীজ-পটিয়া রুটে নিয়মিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। 

কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে নতুন সেতু-ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে নতুন সেতু-ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রাম

ভয়েস অব পটিয়া-বিশেষ প্রতিনিধি দেশের প্রথম টানেলের পর এবার চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল ও সড়ক সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এটি ভবিষ্যতে চীন, ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সংযুক্ত করে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশবিশেষ হিসেবে কাজ করবে। 

এটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮১ কোটি ১৭ লাখ এবং কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) ঋণ থেকে ৭৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। 
এ রোড ও রেল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে জোড়াবিহীন রেল পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার করিডোরের অপারেশনাল বাধা দূর হবে। সেই সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য বৃহৎ করিডোর তৈরি করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এটি। ‘কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর একটি রেল কাম রোড সেতু নির্মাণ’ নামের নতুন এ প্রকল্পটির প্রস্তাব করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। 
এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ। সভায় প্রকল্পের প্রস্তাবিত বিভিন্ন অংশের ব্যয়সহ নানা বিষয় আলোচনা হবে। 

সব প্রক্রিয়া শেষে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 

পিইসি সভার জন্য তৈরি কার্যপত্রে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর এবং রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল থাকায় জেলাটি জাতীয় শিল্প উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। শহরটি কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কর্ণফুলী নদীর ওপর দুটি সেতু (একটি সড়ক সেতু ও একটি পুরনো দুর্বল রেল সেতু) বিদ্যমান রয়েছে। এ রেল সেতুটি কালুরঘাটে অবস্থিত। মিটারগেজ লাইনে সেতুটি ১৯৩১ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৬২ সালে এর সঙ্গে সড়ক সেতু যুক্ত করে রেল কাম সড়ক সেতুতে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে সেতুটি জরাজীর্ণ ও সংস্কার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর কার্যক্ষমতাও কমেছে। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারে এবং যানবাহন ২০ মিনিট পরপর সেটি অতিক্রম করে। তাছাড়া ট্রেন চলার সময় সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে সেতুর উভয় পাশে ব্যাপক যানজট লেগে যায়। এ অবস্থায় বিদ্যমান সেতুটির পরিবর্তে নতুন রেল ও সড়ক সেতু নির্মাণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। 
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি, তাইওয়ানের উয়িকন কোম্পানি এবং বাংলাদেশের এসিই কনসালটেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, এ সেতুটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে কোরিয়া সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়। 

এ সময় কোরিয়ান কোম্পানি এসএমইসি’র সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক) চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং প্রকল্পের অ্যাপ্রেইজাল সম্পন্ন করার জন্য কোরিয়া ২০১৭ সালে একটি অ্যাপ্রেইজাল মিশন পাঠায়। মিশনটি গত বছরের ২৭ এপ্রিল ইআরডির সঙ্গে বৈঠক করে। ওই সভায় সরকার ও ইডিসিএফের মধ্যে মিউনিটস অব ডিসকাশন সই হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্ণফুলী সেতুতে গর্ত! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়; কর্ণফুলী; কর্ণফুলী সেতু; নতুন ব্রীজ; শাহ আমানত সেতু; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
কর্ণফুলী সেতুতে গর্ত! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ ৩য় কর্ণফুলী ব্রীজ-শাহ আমানত সেতুতে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের গর্ত। এতে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। দেশের এমন একটি বৃহৎ স্থাপনার এহেন বেহাল দশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সেতুর দুই প্রান্তে ওজন পরিমাপক যন্ত্রের অভাবে এবং টোলবক্স এর সাথে স্থাপনকৃত যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকার প্রভাবে প্রতিনিয়ত সেতুর উপর দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে। যার ফলে সেতুটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর আগে কয়েকবার শাহ আমানত সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কথা উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা কখনোই নেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুসহ যেকোনো স্থাপত্যশৈলীর ওজন বা চাপ সহনশীলতার একটি ব্যাপার থাকে। এটি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে দেশের অন্যতম মেঘনা সেতুতে। এ সেতুতে ৩০ টনের বেশি মালবোঝাই গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ, যা ওজন পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় শাহ আমানত সেতুর রক্ষণব্যবস্থা সম্পূর্ণ অরক্ষিত।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা, পার্বত্য জেলা বান্দরবান, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও টেকনাফে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এই সেতুর উপর দিয়ে। এসব এলাকার অর্থনীতিও পুরোপুরি এ সেতুর সাথে সংযুক্ত। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকার যোগাযোগ  ব্যবস্থা-অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সমগ্র দেশের অর্থনীতিতে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যেই সেতুর বেশ কিছু মূল্যবান যন্ত্র খোয়া গেছে। ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে পার হচ্ছে যানবাহন। ৪৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৪০.২৪ মিটার প্রস্থের কংক্রিটের এ সেতুটি বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের যৌথ অর্থায়নে নির্মাণ করে চায়না মেজর ব্রীজ কোম্পানী। ২০০৬ সালের ৮ আগস্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এ সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু উদ্বোধনের আট বছর পেরুলেও সেতুতে এক্সেল লোড কন্ট্রোল বা ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করা হয়নি। যার ফলে সেতুর উপর প্রতিনিয়ত মাত্রারিক্ত ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে।
পটিয়া বাইপাস সড়কের ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন; পটিয়া; চট্টগ্রাম; চট্টগ্রাম-কক্সবাজার; Patiya; Chittagong; Chattogram; Coxsbazar
পটিয়া বাইপাস সড়কের ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন 

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ বহুল প্রতিক্ষিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে নির্মিতব্য বাইপাস সড়কের একাংশে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটেছে। ওই অংশে বাড়িঘর, শ্মশান ও মন্দিরের কারণে ৪শ মিটার জমি নিয়ে জটিলতা ছিলো। যা নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করে গত রবিবার মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পায়। এর ফলে বাইপাস সড়ক নির্মাণে আরো গতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী সৃষ্ট জটিলতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পটিয়ায় আসেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পটিয়ার সাংসদ সামশুল হককে সাথে নিয়ে সেদিন তিনি উপস্থিত সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত অনুমোদন পেতে প্রায় এক বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে গৃহীত পটিয়ার মনসার টেক থেকে দোহাজারীর সাঙ্গু সেতু পর্যন্ত সড়ক সরলীকরণ ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। সে সময় মাটির অভাব, হিন্দুদের বাড়িঘর আর মন্দিরের দোহাই দিয়ে বাধার কারণে বাইপাসসহ সড়কের সরলীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে পটিয়া পৌর এলাকায় যানবাহনের সৃষ্ট চাপে যানজট প্রকটরূপ ধারণ করেছে। এ অবস্থায় সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি কাঁটছাঁট করে শুধুমাত্র পটিয়া বাইপাস প্রকল্পটি হাতে নেয় সরকার। সড়কটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়া পৌর এলাকায় যানজট কমার পাশাপাশি পটিয়া শহরের পরিধি বৃদ্ধি পাবে এবং কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী যাত্রী-পর্যটকরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। 

এদিকে ভাটিখাইন ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দারা জানান, বাইপাস উঁচু এবং গ্রামের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন হওয়ায় গ্রামের লোকজনেকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, রোগীসহ সকলের কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যার কারণে গ্রামের লোকজন ওই এলাকায় একটি আন্ডারপাস তৈরির জন্য আবেদন করেন। তাতে পটিয়া আসনের এমপি সামশুল হক চৌধুরী সুপারিশ করেন। কিন্তু গত এক বছর পেরুলেও আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। উক্ত এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে আন্ডারপাস নির্মাণের জোর দাবি জানান।
পটিয়া ডাকবাংলোর মোড় যেন মৃত্যুকূপ! পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
পটিয়া ডাকবাংলোর মোড় সম্মুখ সড়কে গর্ত যেন মৃত্যুকূপ!

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া সদরের ডাকবাংলো মোড় এলাকাটি বৃষ্টির পানি জমে পুকুরে পরিণত হয়েছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার আশঙ্কা ও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও সাধারণ জনগণকে উক্ত রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে।

পটিয়া ডাকবাংলো সংলগ্ন মোড়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এখানে প্রায় সময়ই ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন ও সাধারণ জনগণকে চলাচল করতে হয়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। নিয়মিত এই অংশটি সংস্কার না করায় সড়কের প্লাস্টার-বিটুমিন উঠে গিয়ে বিরাট আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে ইতিপূর্বে এ মোড়ে দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন অনেক মানুষ। বর্তমানে সৃষ্ট গর্তের কারণে যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা। 

এ মোড়টি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বিধায় তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও পাহাড়ী কন্যা বান্দরবানে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো সড়কের এ বাঁক পারাপারে দূর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিরাট দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই সাধারণ মানুষ ও যানবাহনগুলো চলাচল করলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।

এদিকে পটিয়া পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে চলমান সড়কের দুপাশে ড্রেন নির্মাণের ধীরগতি এবং সড়কের পাশে কাঁচামাল মজুদ রাখায় পানি নিষ্কাশণের স্বাভাবিক নালাটিও বন্ধ হয়ে রয়েছে। যার দরুণ দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকার ফলে বিরাট আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোফায়েল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ভয়েস অব পটিয়া’কে বলেন, ‘পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সওজ বিভাগের সাথে ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপনের কাজে সমন্বয় না করায় কাজে ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে সহসাই উক্ত স্থানের সড়ক সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাঁকগুলো সোজাকরণসহ এ সড়ক সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী শীঘ্রই বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নতুনব্রীজ-পটিয়া যাত্রীদূর্ভোগের আখড়া! অতিরিক্ত ভাড়া আদায় | নীরব প্রশাসন!; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
নতুনব্রীজ-পটিয়া যাত্রীদূর্ভোগের আখড়া! অতিরিক্ত ভাড়া আদায় | নীরব প্রশাসন!

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্ক দুপুর গড়িয়ে বিকাল তথা সন্ধ্যা নামলেই দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ পটিয়ার যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে যাত্রীবাহী বাস, হাইস-মাইক্রোবাসের চালক-কর্মচারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যার ফলে নিদারুণ দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। 

নতুন ব্রীজ থেকে পটিয়া পর্যন্ত যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া গুণতে হয় বিকাল তথা সন্ধ্যা নামলেই। এ দৃশ্য প্রতিদিনকার। নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে সরকারি ছুটির দিন এবং বৃহস্পতিবার-শুক্রবার আসলেই  সে ভাড়া তিনগুণ-থেকে চারগুণ পর্যন্ত আদায় করছে যাত্রীবাহী বাস-হাইস-মাইক্রোবাসের চালক-হেলপাররা। বিকাল হলেই বাস চালকরা বাস না ছেড়ে যাত্রীদের হেনস্থা করতে দেখা যায়। ফলে নতুনব্রীজ এলাকায় ঘরমুখো মানুষদের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মাত্রা চরম পর্যায়ের মধ্যে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। 

বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রীসাধারনের সাথে চালক-হেলপারদের বিভিন্ন সময় বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে এবং নিয়মিত ঘটে চলেছে। অনেকটা জিম্মি ও বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ধেকে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। কেউ কেউ আবার ছোট ছেলেমেয়ে ও মহিলাদের নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন। 

এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কারও কোনরূপ মাথাব্যাথা নাই। কথিত আছে, বাস-মালিক সমিতি কর্তৃক নিয়মিত মাসোহরা যায় ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন-কর্তৃপক্ষের কাছে। আর এসব কার্যক্রম চলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায়। এ ব্যাপারে বাস-মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনরূপ বক্তব্য পাওয়া যায় নি। 

নতুনব্রীজ-পটিয়া যাত্রীদূর্ভোগের আখড়া!
বিআরটিসির দ্বিতল বাস

এদিকে গত কয়েকবছর আগে পটিয়ার যাত্রীসাধারনের দূর্ভোগ লাঘবের জন্য বিআরটিসি’র দ্বিতল বাস চালু করা হলেও বর্তমানে অদৃশ্য কারণে সন্ধ্যা নামলেই এসব বাস সমূহকে নতুনব্রীজ-পটিয়া রুটে  দেখতেই পাওয়া যায় না। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব বাস নতুনবীজ-পটিয়া রুটের বদলে প্রায় সময়ই নতুনব্রীজ-২নং গেইট রুটে বেশী চলাচল করে। অনুসন্ধানে আরও তথ্য পাওয়া যায়, বিআরটিসি’র চালক-হেলপার-কর্মকর্তা এবং পটিয়া বাস-মালিক সমিতির নেতা-কর্মীদের যোগসাজশে সাধারণ বাসের ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ আদায়ের লক্ষ্যে উক্ত প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। 

সাধারণ যাত্রীগণ উক্ত দূর্ভোগ থেকে নিস্তার পেতে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দারস্থ হলেও এই পর্যন্ত কোনরূপ সমাধান পাননি। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ প্রভাবশালী রাঘববোয়ালদের হাতে গুরুতর জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাধারণ যাত্রীগণ এর প্রতিকার চায়।
আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন; উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের রঙে রঙিন হয়েছে পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী গৌরবজ্জ্বল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণার মতো আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রাণের মেলা আর প্রাণোচ্ছ্বাস ছিল পুরো পৌর সদরে।

শত বছরের পুরানো হিসেবে পটিয়া এবং পুরো চট্টগ্রামবাসীর শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে চলেছে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়।
 
আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন; শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানের র‌্যালী; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানের র‌্যালী

১৮ মার্চ ২০১৬ ইং রোজ শুক্রবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান মহাসড়কসহ পটিয়ার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দু’দিন ব্যাপী বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রধান অধিবেশনের কর্মসূচী শুরু হয়। উক্ত বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন; শিক্ষক-অতিথিদের সাথে প্রাক্তন ছাত্রদের একাংশ; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
শিক্ষক-অতিথিদের সাথে প্রাক্তন ছাত্রদের একাংশ

এরপর ২য় অধিবেশনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

শতবর্ষ উৎসব কমিটির সমন্বয়ক ও পৌর মেয়র হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সাংসদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী আহমদ নবী, চট্টগ্রাম সরকারী সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবদুল আলীম।

প্রথম অধিবেশন সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র স.ম ইউনুছ।

উক্ত অনুষ্ঠানের ৩য় অধিবেশন বিকেল ৩টায় কবিগানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। কবিগান পরিবেশন করেন কবিয়াল আবু ইউছুফ। পরে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে প্রাক্তন ছাত্র ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামশুদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব বাবুল, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গৌতম বাড়ৈ প্রমুখ। 


আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন; সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

সন্ধ্যার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং লটারির র‌্যাফেল ড্র শুরু হয়। শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাক্তন ছাত্ররা যোগ দেন। এর ফলে অনুষ্ঠানটি প্রাক্তন ছাত্রদের মিলন মেলায় রূপ নেয়। প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠে আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গন।
পটিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ; শিশুসহ নিহত ৪; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram
পটিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষ; শিশুসহ নিহত ৪

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ পটিয়া উপজেলার মনসারটেক-চৌমুহনী এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা ও মিনি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। 

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই মো. শফিকুল আজম।

নিহতরা হলেনঃ- অটোরিকশা চালক মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং আরোহী অনিক সেন (৫), কাঁকন সেন (৩) ও রুপনা সেন (২৫)। আহত  অনিকের বাবা অঞ্জন (৩৬), অর্পণ সেন, অনামিকা সেন (২৫) ও কাঞ্চন সেনকে (৪০) চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত এস.আই মোঃ শফিকুল আজম ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘হতাহতরা সবাই পরস্পরের আত্মীয়।’  স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শফিকুল আজম বলেন, ‘বাসটি কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। পটিয়া শহরের দিক থেকে আসছিল অটোরিকশাটি। পথে বাসটি অটোরিকশাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর রুপনা সেন মারা যান।’
এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা ‘গুরুতর’।’
পটিয়ায় বাস-চেয়ারকোচ মুখোমুখি সংঘর্ষ; আহত ২০; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; BRTC bus
পটিয়ায় বাস-চেয়ারকোচ মুখোমুখি সংঘর্ষ; আহত ২০

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় বিআরটিসি বাস-চেয়ারকোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার শান্তিরহাট এলাকায় আজ সোমবার ২ টার সময় কক্সবাজারমুখী এস. আলম পরিবহনের একটি চেয়ারকোচের সাথে চট্টগ্রামমুখী বিআরটিসি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হন। 

পটিয়ায় বাস-চেয়ারকোচ মুখোমুখি সংঘর্ষ; আহত ২০; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; BRTC bus
পটিয়ায় বাস-চেয়ারকোচ মুখোমুখি সংঘর্ষ; আহত ২০

এ দিকে গতকাল রবিবার সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার হরিণখাইন এলাকায় কক্সবাজারমুখী সৌদিয়া পরিবহনের চেয়ারকোচ (চট্টমেট্টো- ১১-২৩৭) এর সাথে চট্টগ্রামমুখী পটিয়ার একটি বাস (ঢাকা মেট্টো-০৬-১৮৬) এর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ১০ যাত্রী আহত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল আজম ভয়েস অব পটিয়া’কে জানান, ‘আজ সোমবার বিআরটিসি বাস-চেয়ারকোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের দূর্ঘটনায় ১০ যাত্রী আহত হন ও গতকাল রবিবার কক্সবাজারমুখী সৌদিয়া পরিবহন চেয়ারকোচ (চট্টমেট্টো- ১১-২৩৭) এর সাথে চট্টগ্রামমুখী পটিয়ার একটি বাস (ঢাকামেট্টো-০৬-১৮৬) মুখোমুখি সংর্ঘষে আরও ১০ আহত হন। আহতের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ কর্তৃক প্রকাশ্যে টেম্পো চালককে পিটিয়ে জখম; পটিয়া; চট্টগ্রাম; Patiya; Chittagong; Chattogram; হাইওয়ে পুলিশ; পুলিশ; Police; Highway police
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ কর্তৃক প্রকাশ্যে টেম্পো চালককে পিটিয়ে জখম

ভয়েস অব পটিয়া-নিউজ ডেস্কঃ মন্ত্রী যাবে জানতেন না টেম্পো চালক মোহাম্মদ তসলিম (২০)। পরিবারের সদস্যদের আহার যোগাতে প্রতিদিনকার মত টেম্পো নিয়ে সকালে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের পটিয়া হাইওয়ে ক্রসিং এলাকায় পৌঁছা মাত্র পুলিশ সিগন্যাল দিয়ে তসলিমের টেম্পোটি থামায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিক কমান্ডো স্টাইলে টেম্পো চালকের চুলের মুটি ধরে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। ওই সময় চিৎকার করে পুলিশ ইনচার্জ শফিক বলতে থাকেন, ‘বেটা মন্ত্রী যাবে জানিস না’। মারতে মারতে এক পর্যায়ে চালকসহ টেম্পোটি পুলিশ ফাঁড়ির অভ্যন্তরে নিয়ে যান। 

জখমের অবস্থা হওয়া টেম্পো চালক মোহাম্মদ তসলিম পটিয়া উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের আবুল ফয়েজের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান মহাসড়ক হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকেই মহাসড়কে নিষিদ্ধ সিএনজি ছাড়াও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল হাইওয়ে পুলিশ বন্ধ করে দেয়। ফলে যাত্রী সাধারণ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে রোগী নিয়ে বের হতে চাইলেও গাড়ির অভাবে বের হতে পারেননি।

এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা দুইদিন আরাকান সড়কের ভাঙা অংশ ইট বালি দিয়ে মেরামত করতে দেখা গেছে। বিকেলে মন্ত্রীর কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন ভোগান্তির শিকার সাধারণ যাত্রীরা।

পটিয়া উপজেলার থানা মহিরা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব এক রিক্সা চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গ্রামীণ পথ থেকে খালি রিক্সা নিয়ে সামান্য মহাসড়কে ওঠা মাত্রই মন্ত্রী যাওয়ার ইস্যুতে তার রিক্সাটি দিনভর পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখে। রিক্সা চালাতে না পেরে ওইদিনে কোন ইনকাম হয় নি, যার ফলে দুপুরে ভাতও খেতে পারেন নি বলে জানান রিক্সাচালক।’